• Post author:
  • Reading time:2 mins read

(রুডল্ফ দ্যা রেড নোজড রেইনডিয়ার)

মূল: রোমেও মুলার। অনুবাদ: তানিয়া কামরুন নাহার

বল্গা হরিণের ছোট একটি ছানা। নাম রুডল্ফ। আর সব হরিণ ছানাদের মতোই ছটফটে। টানাটানা চোখ, ছোট্ট লেজ ওর। এখনো শিং গজায়নি। তবে ওর নাকটা একটু কেমন লালচে। রুডল্ফ যতই বড় হতে লাগলো তার নাকটাও ততো বেঢপ হতে শুরু করলো। টকটকে লাল রঙের নাকের জন্য রুডল্ফকে নিয়ে অন্য হরিণের ছানারা খুব হাসাহাসি করতো। রুডল্ফ ওদের সঙ্গে খেলতে গেলেই নানা রকম টিপ্পনি কাটতো ওরা। তুষার বল ছুঁড়ে মারতো। অমন বিচ্ছিরি লাল নাক নিয়ে সবার সামনে যেতেও হীনমন্যতায় ভুগতে লাগলো রুডল্ফ। তাই নাকের ওপর একটা কালো রঙের টোপর পরতে শুরু করলো সে। এতে ওর বেঢপ লাল নাকটা ঢাকা পড়লো। কেউ বুঝতে পারতো না। কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা হলো না। একদিন সবার সামনে টোপরটা খুলে পড়ে গেলো। আর যায় কোথায়? বন্ধুদের হাসাহাসির মাত্রা আরও অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেলো। মনের দুখে রুডল্ফ একদিন গভীর রাতে ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে গেলো।

সেদিন তুষারপাতে চারদিক অন্ধকার হয়ে গিয়েছিলো। রুডল্ফের সেদিকে খেয়াল কই? একা একা পথ চলতে থাকে ও। এমন সময় ওর সামনে এসে হাজির হয় শান্তা ক্লজ, তার স্লেজ গাড়িটা নিয়ে। রুডল্ফের কাছে এসে বললেন, ‘বাহ! কী সুন্দর লাল নাকওয়ালা বল্গা হরিণের ছানা! তোমার বড় লাল নাকটি থেকে কী সুন্দর লাল আলো ঠিকরে বের হচ্ছে! এই অন্ধকারে আমার পথ চলতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। তুমি কি আসবে আমার স্লেজ গাড়িতে, আমাদের পথ দেখিয়ে দিতে?’

রুডল্ফ খুব অবাক হয়। সব সময় সে অন্যের অবহেলা আর বিদ্রুপ শুনেই অভ্যস্ত। আজ শান্তা ক্লজ নিজে বলছেন যে, ওর নাক সুন্দর! ওর লজ্জা লাগতে থাকে।

শান্তা ক্লজ আবার বলেন, ‘রুডল্ফ, আমার ঝোলায় বড়দিনের অনেক অনেক উপহার আছে। আজ রাতেই বাচ্চাদের বাড়িতে এই উপহারগুলো পৌঁছে দিতে হবে। অন্ধকারে বার বার পথ হারিয়ে ফেলছি আমরা। তুমি যদি তোমার ওই সুন্দর নাকের আলো দিয়ে পথ দেখিয়ে দিতে তাহলে অনেক উপকার হতো।’ রুডল্ফের মন আনন্দে নেচে ওঠে। সবার বাড়িতে বাড়িতে শান্তা ক্লজের সঙ্গে চুপিচুপি উপহার পৌঁছে দেয়ার আনন্দটা সে হাতছাড়া করতে চায় না। শান্তা ক্লজের স্লেজ গাড়ির সামনে মেঘের ওপর দিয়ে আলো দেখিয়ে রুডল্ফ ছুটতে থাকে। শান্তা ক্লজের স্লেজও ছুটতে থাকে। হাতে যে সময় অনেক কম!

শান্তা ক্লজ বাড়িতে বাড়িতে চিমনি দিয়ে চুপিচুপি ঢুকে পড়ে। বাচ্চাদের ঝোলানো মোজার ভেতরে উপহার রেখে দেয়। তারপর চুপিচুপি শান্তা বুড়ো বেরিয়ে আসে বাইরে। সবাই গভীর ঘুমে মগ্ন। তাই কেউ টের পায় না শান্তা ক্লজ কখন এলেন আর কখনই বা গেলেন। শান্তার এমন লুকোচুরি খেলায় রুডল্ফেরও খুব মজা লাগে।

অনেকগুলি বাড়িতে উপহার পৌঁছে দেয়ার পরে শান্তা রুডল্ফের কাছে জানতে চান, ‘এবার বলো, লাল নাকওয়ালা বল্গা হরিণছানা! তুমি কী চাও এই বড়দিনে?’ রুডল্ফ বলে, ‘বড়দিনের উপহার তো আমি পেয়ে গেছি শান্তা বুড়ো! আজ সারা রাত তোমার সঙ্গে কতো মজা করলাম। তবে আমি চাচ্ছি, আমার বাবা আর মায়ের সঙ্গে একটু দেখা করতে। ওঁরা নিশ্চয়ই আমার জন্য অনেক চিন্তা করছেন! আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গেও দেখা করতে চাইছি। তুমি যদি তোমার ঝোলা থেকে ওদেরকে উপহার দেও তবে ওরা অনেক খুশি হবে।’

শান্তা ক্লজ আবার তার গাড়িটা চালাতে শুরু করেন মেঘের ওপর দিয়ে। আর সামনে লাল নাকের আলো দিয়ে পথ দেখিয়ে চলতে থাকে রুডল্ফ। খুব অল্প সময়েই শান্তা আর রুডল্ফ তার বাবা-মা আর বন্ধুদের কাছে পৌঁছে যায়। সবাই তো রুডল্ফকে দেখে অবাক! একসময় যারা রুডল্ফকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি হাসাহাসি করতো তারা এখন ওর জন্য গর্ব করে বলতে লাগলো, ‘আমাদের বন্ধু রুডল্ফ। ও শান্তা ক্লজের স্লেজ গাড়ির সামনে দিয়ে পথ দেখিয়ে ছুটে চলে। আর তাই তো শান্তা সবার বাড়ি ঠিক ঠিক চিনে ঠিক সময়ে উপহার পৌঁছে দিতে পারে।’

শান্তা ক্লজ রুডল্ফের বন্ধুদের অনেক অনেক উপহার দেয়। সবাই খুব খুশি। আর রুডল্ফের বাবা-মায়ের আনন্দ আর ধরে না! তাদের সন্তান আজ সত্যিই সবার চেয়ে আলাদা! অন্য রকম!

একটু পরে রুডল্ফ আর শান্তা ক্লজকে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যেতে হয়। এখনো অনেকের কাছে উপহার পৌঁছে দেয়া যে বাকি রয়ে গেছে, বড়দিনের উপহার! ‘জিঙ্গেল বেলস’ গানটি গাইতে গাইতে শান্তা আর রুডল্ফ ওদের স্লেজ গাড়িটা নিয়ে মেঘের আড়ালে চলে যায়।

সেই থেকে বড়দিনের উপহার পৌঁছে দিতে শান্তা ক্লজের স্লেজ গাড়িতে রুডল্ফকেও দেখা যায়।

Leave a Reply