• Post author:
  • Reading time:2 mins read

অনুবাদ- তানিয়া কামরুন নাহার

দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র পরিচালক কিম কি দুক-এর কাজ ছিলো ভিন্ন ঘরানার। ফিল্ম বা চারুকলায় প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা তাঁর ছিলো না। স্কুল ছেড়েছেন, কারখানায় কাজ করেছেন, চাকরি করেছেন সেনাবাহিনীতেও। বৈচিত্র্যময় তাঁর জীবন। গত পাঁচ বছরের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে তিনি বলিষ্ঠ পরিচালক হিসেবে নিজের স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ‘ক্রোকোডাইল’ এ আমরা এক অদ্ভুত চরিত্রের সন্ধান পাই। সিওলের নদীতে আত্মহত্যাকারীদের লাশ সংগ্রহ করে এ রহস্যময় চরিত্রটি।

‘বার্ডকেজইন’ এর মাধ্যমে তিনি প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে সবার মনোযোগ কেড়ে নেন। বিশ্বযুদ্ধের এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ তুলে ধরেন তাঁর দ্যা আইল সিনেমাতে। তাঁর চলচ্চিত্রগুলোর নান্দনিকতা ও একই সঙ্গে পরাবাস্তব কাব্যিক দৃশ্য সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়ে নেয়। ‘এড্রেস আননোন’ কিম দুকের এখন পর্যন্ত সর্বাধিক আলোচিত রাজনৈতিক চলচ্চিত্র।

ভোলকার হাম্মেন: মি. কিম! একবার আপনি বলেছিলেন যে, আপনার সব সিনেমার মূল পয়েন্ট হলো ঘৃণা। আপনার নতুন চলচ্চিত্র ‘ব্যাড গাই’ কি/কী ধরনের রাগ, ক্ষোভ বা ঘৃণা সৃষ্টি করতে যাচ্ছে?

কিম কি দুক: ‘ঘৃণা’ শব্দটি একটা বড় অর্থে আমি ব্যবহার করি। আমার মনে হয় না যে, এ শব্দটিকে আপনি বাদ দিতে পারেন। আমি যে ধরনের ঘৃণার কথা বলি, তা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। বরং এটা এমন এক অনুভূতি যা আমি আমার জীবনযাপন করে পেয়েছি।এমন অনেক জিনিস দেখি, যা আমি বুঝতে পারি না। এজন্যই আমি সিনেমাগুলো তৈরি করি। আমি এমন অনেক কিছু দেখতে পাই, যা আমি বুঝতে পারি না। তারপর ওটা বোঝার জন্য

আমি একটা সিনেমা বানাই। সুতরাং ঘৃণার বদলে যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, সেগুলো নিয়ে কথা বলাই বরং ভালো।

ভো. হাম্মেন: ‘ব্যাড গাই’ দিয়ে আপনি আসলে পৃথিবীকে কী বোঝাতে চাইছেন?

কিম: আমি আসলে একটা প্রশ্ন তুলতে চাইছিলাম। আমরা সবাই একই অধিকার ও একই গুণ নিয়ে জন্মাই। এরপরেও পরে কেন সবাইকে আলাদা শ্রেণিতে ভাগ করা হয়? চেহারা দিয়েই কেন শুধু মাত্র আমাদেরকে বিবেচনা করা হয়? আমরা দেখতে সুন্দর নাকি বিশ্রি, এটা এতো গুরুত্বপূর্ণ কেন হলো? কিংবা আমার টাকা আছে নাকি নেই? এই কতগুলো মানদণ্ড জন্মের পর আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়। তারপর বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণি বা র‍্যাঙ্কে আমাদেরকে ভাগ করে দিয়ে একজনের থেকে আরেকজনকে আলাদা করা হয়। আমার আসলে একটাই জিজ্ঞাসা, শ্রেণিগুলোকে একত্র করা কি একেবারেই অসম্ভব কিনা?

ভো. হাম্মান: আপনার সে প্রশ্নের জবাব কি পেয়েছেন?

কিম: আমার জবাব হলো, প্রত্যেকে প্রত্যেককে স্রেফ মানুষ হিসেবেই

সম্মান করবে। চেহারা, অর্থ বা প্রতিপত্তি দেখে না। তবে এই মুভি তৈরি করার পেছনে আমার উদ্দেশ্য ছিলো, দর্শকদেরকে এ প্রশ্নের মুখোমুখি করে দেয়া। আমি নিশ্চিত যে, মুভিটা দেখলে সবাই এর জবাব পেয়ে যাবে।

ভো হাম্মান: আপনার মুভিগুলিতে প্রায়ই ব্যাড গাইয়ের মতো প্রধান চরিত্র থাকে। যেমন পিম্প হ্যাং-জি (চো যাএ-হিউন এতে অভিনয় করেছেন), একটি নীরব একটি চরিত্র। অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না বা নিজেকে প্রকাশ করতে অক্ষম। তার একমাত্র ভাষা হিংস্র। এ নীরবতার কারণ কী?

কিম: আমার সিনেমাগুলিতে এমন কিছু মানুষের চরিত্র রয়েছে, যারা কথা বলে না । কারণ হলো, তারা গভীরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো, শেষ পর্যন্ত কেউ সে কথাগুলো রাখেনি। তাদেরকে ‘ভালোবাসি’ বলেছিলো কেউ। কিন্তু এ কথা যে বলেছিলো, এর আসল অর্থ তা ছিলো না। ফলে হতাশায় তারা বিশ্বাস ও আস্থা হারিয়ে ফেলে। এরপর পুরোপুরি কথা বলা বন্ধ করে দেয়। তারা যে সহিংসতা ঘটাচ্ছে, আমি একে এক ধরনের বডি ল্যাংগুয়েজ বলতে পছন্দ করি। এগুলো স্রেফ নেতিবাচক সহিংসতার নয়, বরং এর চেয়ে বেশি কিছু। মনের ক্ষোভগুলোরই শারীরিক প্রকাশ হিসেবে ভাবতে চাই এগুলোকে। শরীরের ক্ষতচিহ্নগুলো, তরুণ বয়সের অভিজ্ঞতাকেই প্রকাশ করে। এগুলো এমন অভিজ্ঞতা, অল্প বয়সে সবাই প্রায় ভোগে। আর এ ট্রমাগুলোর প্রতিক্রিয়া তারা প্রকাশ করতে পারে না। শারীরিক নির্যাতনের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারে না। যেমন, ধরুণ, উদাহরণ হিসেবে বলি, বাবা মায়েরা তাদেরকে বাজে কথা বলছে, এটা মৌখিক নির্যাতন। কিংবা তাদের বাবা-মা ঝগড়া করছে। অথবা রাস্তায় হাঁটার সময় কেউ আপনাকে মারধোর করে গেলো। এ ধরনের ঘটনায় আপনি অসহায়বোধ করেন। কিন্তু নিজেকে রক্ষা করতে পারেন না। বা এসব কিছুই থামাতে পারেন না। আপনি কিছুই করতে পারেন না। কিন্তু এ অভিজ্ঞতাগুলো ওই মানুষদের মনে একটা দাগ ফেলে যায়। আমার নিজেরও এ ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। যেমন, ছোটবেলায়, কিছু বাচ্চা, আমার চেয়ে কম বয়সী কিন্তু শারীরিকভাবে শক্তিশালী। তারা আমাকে মারধোর করেছে। আমি নিজেকে রক্ষা করতে পারিনি।

এছাড়াও, সামুদ্রিক অঞ্চলে, উচ্চপদস্থ সৈনিকেরা যৌক্তিক কারণেই আমাকে মারধোর করে। এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় আমি নিজেকে প্রশ্ন করি, কেন এমন হবে? পরিচালক হওয়ার আগ পর্যন্ত এই প্রশ্নগুলি আমার সাথেই ছিলো। আর এখন আমি এ বিষয়গুলো নিয়ে কীভাবে ভাবছি ও অনুভব করছি তা প্রকাশ করি।

ভো হাম্মান: তাহলে আপনার সিনেমাগুলো আত্মজৈবনিক?

কিম: ব্যাড গাইয়ের বেলায় প্রথমেই বলবো যে, আমি হ্যাং-জি-র মতো লোককে সত্যই পছন্দ করি না। কিন্তু এমন একটি ঘটনা ঘটেছিলো। রেডলাইট এলাকায় কাজ করেন এমন একজনের সঙ্গে তখন আমি দেখা করেছি। তিনি আমাকে বিনা কারণে মারধর করেছিলেন। সে সময় আমি সেই ব্যক্তিকে ঘৃণা করি। এমন পরিস্থিতিতে আমি তাকে কিছুতেই বুঝতে পারিনি। তবে আমি বোঝার চেষ্টা করেছি। এই মুভির মাধ্যমে আমি চরিত্রের মানসিক অবস্থা অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছি। ঠিক কোন কারণে মানুষ এমন হয়ে যায়, তা বলতে চেয়েছি।

ভো হাম্মান: হলিউডে আপনি পরিচালক হিসেবে ‘ব্যাড গাই’ রিমেক করতে চান, এ গুজব সম্পর্কে কিছু বলুন।

কিম: ‘ব্যাড গাইয়ে’র আমেরিকান ভার্সন বানাতে আমি ইচ্ছুক। আর এতে ব্র্যাড পিটকে আমি রাখতে চাই। এটা একেবারেই আমার নিজের ইচ্ছা। হলিউডের কেউ এখনো আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

ভো হাম্মান: আপনার খুব ব্যক্তিগত ও হিংস্রতার একটা সৌন্দর্য রয়েছে। এটি হলিউডের সিস্টেমের সঙ্গে কি ঠিক যাবে? আপনার কী মনে হয়?

কিম: বাইরে থেকে দেখে মনে হয়, হলিউডের সিনেমাগুলো কোনো নির্দিষ্ট কোড মেনে চলে। কঠিন সব কোড। তবে আমার মনে হয়, বাস্তবে ব্যাপারটা ওমন না। ওরা যা বলতে চায়, তা বলে। কিন্তু সরাসরি না। মনে হতে পারে, তারা নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যেই থাকে। আসলে কিন্তু তা না। এজন্যই আমি ওদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। তাদের কাজের ধরণ পালটে দিয়ে। আর এ কাজটা যদি সত্যিই পারি, তবে ফ্রেঞ্চদের মতো করে ‘ব্যাড গাইয়ে’র একটা ফ্রেঞ্চ ভার্সনও বানাতে চাই। তবে আমার অবাক লাগছে, আমি হলিউডে রিমেক করতে চাই, এ কথাটা আপনি কোথায় শুনেছেন। আসলে আমি আমার মার্কেটিঙয়ের লোকদের সঙ্গে স্রেফ মজা করছিলাম।

ভো হাম্মান: পুসান চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে ২০০১ সালে একটা আর্টিকেলে পড়েছিলাম।

কিম: কথাটা সম্ভবত আমার ডিস্ট্রিবিউটরদের থেকে ছড়িয়েছে। বাইরে থেকে আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, যদি সম্ভব হয়, এরকম কিছু আমি বানাতে চাই কি না। আমি হ্যাঁ বলেছি।

ভো হাম্মান: হলিউডের মাত্র একটি মুভির সঙ্গে ব্যাড গাইয়ের মিল খুঁজে পেয়েছি আমি। যেখানে পুরুষেরা নিজের অনুভূতি প্রকাশের জন্য শরীরকে ব্যবহার করে। আর ওই মুভিটা হলো ফাইট ক্লাব (ডেভিড ফিঞ্চার, ১৯৯৯)। আপনি কি এখানে কোনো মিল দেখতে পান?

কিম: দুর্ভাগ্যক্রমে আমি ‘ফাইট ক্লাব’ দেখিনি। তবে এটি সম্পর্কে যা শুনেছি, তাতে মনে হয়েছে, আমার মুভিটা রিয়েল ফিকশনের কাছাকাছি। এটি এমন একটি মুভি যা শুধু তিন ঘণ্টা বিশি মিনিটের মধ্যে শ্যুট হয়েছিলো। এমন এক মানুষ নিয়ে মুভিটা, যে সমস্ত লোককে ঘৃণা করে। আর সবাই তাকে ঘৃণা করে। তবে শেষ পর্যন্ত দেখা গেছে, তার খুনের ইচ্ছে কেবল একটি স্বপ্ন ছিলো। আমেরিকান সাইকোর মতো কিছুটা (মেরি হ্যারন, ২০০০)।

ভো হাম্মান: ওয়েবসাইটে (www.kimkiduk.com) আপনার মুভিটিকে ‘সেমি-এবস্ট্রাক্ট’ বলা হয়েছে। এ সম্পর্কে কিছু বলুন।
 
কিম: ‘সেমি-এবস্ট্রাক্ট’ বলতে আমি বুঝি, এমন কোনো মুভি বানানো, বাস্তবতাকে উপস্থাপন করার চাইতেও আরও বেশি কিছু করা। যে পৃথিবীটাকে আমরা দেখি, এর মধ্যে আমাদের ভাবনা ও অনুভূতিকে যুক্ত করে দেয়া।

ভো হাম্মান: সিনেমায় হাত পাকানোর আগে আপনি চিত্রশিল্পী হিসাবে কাজ করেছেন। দ্য আইল (২০০০) মুভিতে কাহিনী বর্ণনার চেয়ে আমরা পরাবাস্তব দৃশ্য বেশি দেখতে পেয়েছি। ব্যাড গাইতে আমরা এগোন শিইলার আঁকা চিত্রকর্মগুলো দেখতে পাই।

কিম: ফ্রান্সের মন্টপিলিয়ার সৈকতে চিত্রশিল্পী হিসাবে দু’বছর কাটিয়েছি আমি। আমার কোনো প্রদর্শনী হয়নি। শুধু নিজের আঁকা ছবি নিয়ে রাস্তায় প্রদর্শনী করতাম। জার্মানির মিউনিখেও আমি কিছু রাস্তায় প্রদর্শনী করেছি। সেখানে আমি এগোন শিইলা সম্পর্কে জানতে পারি। এজন্যই তার ছবিগুলো (প্রজনন সংক্রান্ত বইয়ের) আমি ব্যাড গাইয়ের জন্য বেছে নিয়েছি। কারণ, প্রথম নজরে এগুলো অশ্লীল দেখায়। দেখে মনে হয়, যেন ছবিগুলোতে অশ্লীল কোনো কাজ করছে। আপনি যদি সত্যিই ভালো করে লক্ষ্য করেন, দেখবেন তারা খুব সৎ। কামনায় আচ্ছন্ন এমন মানুষের ছবি এগুলো। আসলে আমি গুস্তাভ ক্লেম্টকে বেশি পছন্দ করতাম। তবে আমি শিইলার কাজ যতো দেখছিলাম, ততই তার দিকে আকৃষ্ট হতে লাগলাম।

ভো হাম্মান: শিইলা প্রায়ই পতিতা ও ‘ফলেন ওমেন’ টাইপের ছবি আঁকেন। অনেকটা দ্য আইল, অ্যাড্রেস আননোন ও ব্যাড গাইয়ের নারী চরিত্রদের মতো। দেহ বিক্রি করতে বাধ্য হয়, এ ধরনের নারীদের নিয়ে আপনার ফ্যান্টাসিগুলো কেমন?

কিম: আমি নারীদেরকে পুরুষের চেয়ে উঁচু স্তরের বলে মনে করি। তাদের মধ্যে এমন কিছু আছে, যা পুরুষদের সবসময় প্রয়োজন। এজন্য পুরুষেরা টাকা খরচ করতেও রাজি। বেশিরভাগ মানুষই আমার সঙ্গে এ ব্যাপারে একমত হবেন। কিন্তু আমার এও মনে হয়, নারী-পুরুষের মধ্যকার সম্পর্কটাই এক ধরনের পতিতাবৃত্তি। এমন কি এতে কোনো টাকার লেনদেন না থাকলেও। নারী পুরুষের মধ্যে কোনো সমস্যা তৈরি হলে, এতো বেশি শক্তি উৎপন্ন হয়, পৃথিবীর আকার গোল হয়ে যাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট। নারী পুরুষের এ দ্বন্দ্বটা বিশ্বজনীন। তবে দেশ-কাল-সংস্কৃতি অনুযায়ী এ দ্বন্দের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকে। ইউরোপের বেলায় আমার মনে হয়, অনেক কিছুই এখন বেশ স্থিতিশীল। লিঙ্গভিত্তিক দ্বন্দ্ব তাদের কাছে এখন বলতে গেলে তেমন কোনো সমস্যাই নয়। এ কারণে, তাদের মুভিগুলোতে স্থিতিশীলতা দেখা যায়। কিন্তু এশিয়ার মুভিগুলো তুলনামূলক অনেক বেশি অস্থির ও সহিংস। কারণ নারী পুরুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখনও খুব প্রবল।

ভো হাম্মান: ব্যাড গাইয়ের মতো, আপনার আগের মুভিগুলোতেও কি নারীবাদী আক্রমণ হয়েছে?

কিম: হ্যাঁ, অবশ্যই। ৯০% নারী সমালোচক এর নেতিবাচক রিভিউ দিয়েছে। আবার আপনি যদি দর্শকদের দিকে তাকান, দেখবেন ৮০% দর্শকই ছিলো নারী। আর যদি বিশেষজ্ঞ ও সমালোচকদের দিকে তাকান, দেখবেন বেশিরভাগই নেতিবাচক রিভিউ দিয়েছেন। তবে সাধারণ দর্শকেরা এটিকে সহজভাবে গ্রহণ করেছে। তারা ঠিকই বুঝতে পেরেছে। আপনি যদি এরকম মনে করে থাকেন যে, কিম কি দুক তার সিনেমায় একজন নারীর দুর্ভাগ্যকে দেখাতে চেয়েছে, তবে তা হবে আমার জন্য বিপজ্জনক। সমাজের মধ্যেই রয়েছে, এমন সমস্যার চিত্রায়ন হিসেবে যদি আমার মুভিকে বিবেচনা করেন, তাহলে ব্যাড গাইকে সত্যিই কেউ আর ঘৃণা করতে পারবে না।

ভো হাম্মান: ব্যাড গাই আপনার এখন পর্যন্ত কোরিয়াতে সবচেয়ে ব্যবসা সফল সিনেমা। আপনি কি অর্থনৈতিক সাফল্যকে শিল্পের ব্যর্থতা বলে মনে করেন?

কিম: সিনেমার সাফল্যের মূল হলেন অভিনেতা চো জা-হিউন। তিনি হঠাৎ বিখ্যাত হয়েছিলেন। কারণ কোরিয়ার খুব জনপ্রিয় একটি টিভি সিরিজে তিনি ছিলেন। সুতরাং সব দোষ আমার নয়।

Leave a Reply