বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখকদের একজন হারুকি মুরাকামি। বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ভক্ত রয়েছে জাপানি এই লেখকের। তারা মুগ্ধ হয়ে পড়ে তার লেখা। তেমনি মুরাকামিও অনেকের লেখাই আগ্রহ নিয়ে পড়ে থাকেন। তার প্রিয় বই নিয়ে ভক্তদেরও নিশ্চয় ব্যাপক কৌতুহল রয়েছে। হারুকি মুরাকামির প্রিয় ৫টি বইয়ের নাম এক নজরে দেখে নেয়া যাক।

১. দ্য গ্রেট গ্যাটসবি

মার্কিন লেখক এফ. স্কট ফিটজেরাল্ডের লেখা উপন্যাস ‘দ্য গ্রেট গ্যাটসবি’। বইটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।   

দ্য গ্রেট গ্যাটসবি মুরাকামির অত্যন্ত প্রিয় একটি বই। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে যদি একটি বই বেছে নিতে বাধ্য করা হয়, আমি নির্দ্বিধায় গ্যাটসবিকে বেছে নিবো। ফিটজেরাল্ডের উপন্যাস না হলে আজকে আমি যে ধরনের সাহিত্য করছি তা লিখতে পারতাম না।’

২. দ্য লং গুডবাই  

মার্কিন-ব্রিটিশ উপন্যাসিক রেমন্ড চ্যান্ডলারের উপন্যাস ‘দ্য লং গুডবাই’। বইটি ১৯৫৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।

মুরাকামি বলেন, ‘আমি যা পড়তে পছন্দ করি তা অনুবাদ করি। রেমন্ড চ্যান্ডলারের সব উপন্যাস আমি অনুবাদ করেছি। আমি তার স্টাইল পছন্দ করি। দ্য লং গুডবাই আমি ৫ থেকে ৬ বার পড়েছি।’

৩. দ্য ক্যাসল

জার্মানভাষী লেখক ফ্রাঞ্জ কাফকার উপন্যাস ‘দ্য ক্যাসল’। বইটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।  

মুরাকামি জানান, ১৫ বছর বয়সে তিনি কাফকার কাজের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সে সময় দ্য ক্যাসল উপন্যাসটি পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য একটি বই ছিল। এটি আমাকে প্রচন্ড একটি ধাক্কা দিয়েছিল। এই বইয়ে কাফকা যে জগৎ বর্ণনা করেছেন, তা একই সঙ্গে এতোটাই বাস্তব এবং এতোটাই অবাস্তব ছিল যে মনে হচ্ছিল আমার হৃদয় এবং আত্মা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে।’

৪.  দ্য ব্রাদার্স কারামাজোভ

রুশ লেখক ফিওদর দস্তয়েভস্কির উপন্যাস ‘দ্য ব্রাদার্স কারামাজোভ’। বইটি ১৮৭৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।   

মুরাকামি বলেন, ‘বয়স হলে বেশিরভাগ লেখক দুর্বল থেকে দুর্বল হয়ে পড়েন। কিন্তু দস্তয়েভস্কির ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। তিনি আরো বড় এবং মহান হয়ে ওঠলেন। তিনি পঞ্চাশের কোঠার শেষের দিকে দ্য ব্রাদার্স কারামাজোভ লিখেছিলেন। এটি অসাধারণ একটি উপন্যাস।’

৫. দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই

মার্কিন লেখক জে. ডি. স্যালিঞ্জারের লেখা উপন্যাস ‘দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই’। বইটি ১৯৫১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

মুরাকামি জানান, সতেরো বছর বয়সে তিনি এই উপন্যাসটি পড়েছিলেন। বইটি পড়ে তার অনেক ভালো লাগে, ফলে তিনি এটি জাপানি ভাষায় অনুবাদ করার সিদ্ধান্ত নেন।   

সূত্র: লিটহাব

Leave a Reply