জার্মান উপন্যাসিক এরিক মারিয়া রেমার্কের লেখা কালজয়ী উপন্যাস ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’। যুদ্ধবিরোধী এই বইটি ২০ মিলিয়নের বেশি বিক্রি হয়েছে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা এই বইটিতে যুদ্ধের সময় জার্মান সৈন্যদের মানসিক বিপর্যয়ের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরার পর এদের অনেকেরই বেসামরিক জীবনের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াতে না পারার বিষয়টি অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।

রেমার্ক নিজেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের একজন সৈনিক ছিলেন। ১৯১৬ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে যুদ্ধে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। যুদ্ধে আহত হওয়ার পর তাকে সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে মারাত্মকভাবে আহত অন্যান্য সৈন্যদের গল্প শুনেন এবং তা লিখে রাখেন। এসব কাহিনী এবং নিজের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে বিশ্ববিখ্যাত এই উপন্যাসটি লিখে ফেলেন তিনি।

অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট ১৯২৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন আর্থার ওয়েসলি হুইন। বইটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। প্রায় ৫০টি ভাষায় এটি অনুবাদ করা হয়।

১৯৩০ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে হলিউডে একই নামের একটি সিনেমা বানানো হয়। এটি সেরা ছবির অস্কার জয় করে।

এদিকে তৎকালীন জার্মানির কট্টর ডানপন্থী দলগুলির বিশ্বাস ছিল এই বইয়ের মাধ্যমে জার্মান সেনাদের অপমান করা হয়েছে। তারা এটিকে জার্মান বিরোধী বই হিসেবে আখ্যা দেয়।

১৯৩৩ সালে হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসিরা ক্ষমতা দখলের পর বইটি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি প্রকাশ্যে পুড়িয়েও ফেলা হয়। এরপর জার্মানি ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে চলে যেতে বাধ্য হন রেমার্ক।  

১৯৩১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট বইটি মনোনীত হয়েছিল। এই বইয়ের একটি সিক্যুয়েলও লিখেছিলেন রেমার্ক। ‘দ্য রোড ব্যাক’ নামের বইটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইটিকেও নিষিদ্ধের তালিকায় রেখেছিল নাৎসি পার্টি।  

সূত্র: ডিডাব্লিউ, ব্রিটানিকা 

Leave a Reply