‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’ হলো একটি প্রাচীন চীনা যুদ্ধবিদ্যার বই। প্রায় ২ হাজার ৫০০ বছর আগে লেখা এই বইটি বর্তমান সময়েও প্রত্যেকটি মিলিটারি স্কুলে অবশ্য পাঠ্য একটি বই। এমনকি নেপোলিয়ন, হিটলার, মাও জেদং এর মত নেতাদের উপরও বড় প্রভাব ফেলেছিল বইটি।

এটি লিখেছেন চীনা সমরবিদ সান জু। তিনি একজন মহান যোদ্ধা এবং সামরিক প্রতিভা ছিলেন। পাশাপাশি একজন গভীর দৃষ্টিভঙ্গির দার্শনিকও ছিলেন। দ্য আর্ট অব ওয়ারে যুদ্ধবিদ্যা ছাড়াও রাজনীতি, অর্থনীতি এবং দর্শন নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

চীনা ভাষায় বইটি ‘বিংফা’ নামে পরিচিত। এই বইয়ে বিভিন্ন যুদ্ধের কৌশল, সৈন্য পরিচালনা সম্পর্কে তথ্য রয়েছে। সেইসাথে আক্রমণ করার আগে শত্রুর অবস্থান এবং যুদ্ধক্ষেত্রের ভূখণ্ড সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে কৌশলগত পরামর্শও রয়েছে।

ফরাসি সামরিক এবং রাজনৈতিক নেতা নেপোলিয়ন বোনাপার্টের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল এই বই। আক্রমণ হলো প্রতিরক্ষার গোপন বিষয়, আর প্রতিরক্ষা হলো আক্রমণের পরিকল্পনা – এই নীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন তিনি।

হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ইউরোপের বড় একটি অংশ দখল করে নিয়েছিলেন। দ্য আর্ট অব ওয়ার বইয়ে লেখা অতর্কিতে হামলার কৌশল গ্রহণ করে তিনি এই দুরূহ কাজটি করতে পেরেছিলেন।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মাও দেজং তাদের সামরিক সাফল্যের অংশ হিসেবে দ্য আর্ট অব ওয়ার বইটির নাম করেছিলেন।

এটি এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমরবিদ্যার বই এবং ইতিহাসের ১০০টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের একটি। বিশ্বজুড়ে ৩০ টি ভাষায় এটি অনুবাদ করা হয়েছে।

আকৃতিতে ছোট এই বইয়ে ১৩টি অধ্যায় রয়েছে। প্রতিটি অধ্যায়ে যুদ্ধের বিভিন্ন দিক যেমন, যুদ্ধ পরিকল্পনা, কৌশলে আক্রমণ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

দ্য আর্ট অব ওয়ার বইটি সমরবিদ ছাড়াও বড় বড় কোম্পানির সিইও’রাও পড়ে থাকেন। যারা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য এই বই।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি

Leave a Reply