• Post author:
  • Reading time:1 mins read

প্রতিশোধ (সত্য ঘটনার গল্প)

রোমেন রায়হান

বিল্লাল তেলতেলে মুখে আমাকে প্রায়ই বলে, ‘স্যার! আপনি রোগী দেইখ্যা যে ওষুধ লেখেন সেইটা দিয়াই আমি কোনোমতে টিইকা আছি।’
তবে বাস্তবতা হচ্ছে বিল্লালের ওষুধের দোকানের ভেতরে থাকা আমার ছোটো চেম্বারটায় যতো রোগী আমাকে দেখানোর জন্য ঢোকে তার থেকে কয়েকগুণ বেশি রোগীর চিকিৎসা বিল্লাল নিজেই দিয়ে ফেলে। ডাক্তারের ভিজিট লাগে না, কেবল ওষুধের দাম দিলেই হয় বলে গ্রামের দিকের কিছু লোকজন খুশিতে বিল্লালকে মাঝে মাঝে ‘ডাক্তার সাব’ বলে ডেকে ফেলে। আমার সামনে এ ঘটনা ঘটলে বিল্লাল বিরাট করে জিহ্বায় কামড় দিয়ে বসে। তার চোখ দেখলেই বোঝা যায় আমার আড়ালে এই ‘ডাক্তার সাব’ ডাকটা সে ভালোই উপভোগ করে।

আমার চেম্বারের সময় ঠিক করা। মাগরিবের নামাজ পড়ে চেম্বারে ঢুকি। রোগী থাকুক বা না থাকুক রাত নয়টা বাজলেই চেম্বার শেষ। আসলে এই গ্রামের দিকে রাত নয়টাও অনেক রাত। প্রায় দুই বছর ধরে চেম্বার করি। চেম্বারে আমার রোগী থাকুক বা না থাকুক বিল্লাল কখনও চেম্বারে ঢুকেছে বলে মনে পড়ে না। রোগী নেই বলে টেবিলে রাখা সকালের লোকাল পত্রিকা পড়ছিলাম। হঠাৎ দেখি বিল্লাল একটা সিরাপের প্যাকেট নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে আমার চেম্বারে ঢুকে পড়েছে। আমার দিকে তাকিয়ে ‘আইজকা সুবল্যাইরে পাইছি, স্যার’ বলে চেম্বারের কোনায় রাখা টেবিলের উপর সিরাপের প্যাকেট নিয়ে বসল। খেয়াল করে দেখি বিল্লাল সিরাপের প্যাকেটের গায়ে ব্লেড দিয়ে ঘষছে। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম-

‘বিল্লাল, কী করছ তুমি?
প্যাকেট ঘষা শেষ করে সিরাপের বোতলের কাগজে ঘষতে ঘষতে বলল, ‘সুবইল্যারে আইজকা পাইছি।’
‘মানে কী? সুবলটা কে?’
‘সুবলরে চিনলেন না? ওই যে আমতলার মোড়ে মা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার আছে না! ওইটার মালিক।
‘বুঝলাম, কিন্তু সুবলরে পাইছ বলতেছ কেন?’
‘স্যার, সুবল আসছে তার লাইগ্যা বুক জ্বলার সিরাপ কিনতে। দোকানের বাইরে দাঁড়াইয়া আছে‘।
‘তুমি ব্লেড দিয়া কী ঘষো?’
‘সিরাপের ডেট ওভার হইয়া গ্যাছে। ব্লেড দিয়া ঘইষ্যা সেইটা তুলতেছি’। সুবইল্যারে শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাইছি, স্যার! ওরে আমি ডেট ওভার সিরাপ খাওয়ামু’।
‘ছি ছি, এইটা কী কথা!’
‘গতমাসে সুবলের কাছ থাইক্যা এক কেজি মিষ্টি কিনছিলাম। বাসায় গিয়া মিষ্টি মুখে দিয়া দেখি সুবইল্যা আমারে বাসি মিষ্টি ধরাইয়া দিছে! হে কী ভাবছে? আমি ছাইড়া দিমু? খা এইবার বাসি ওষুধ!‘
‘বিল্লাল, এইটা ঠিক হচ্ছে না’।
‘স্যার! প্রতিশোধের এই সুযোগ আমি ছাড়তে পারুম না’।

বিল্লাল গভীর মনোযোগ দিয়ে সিরাপের বোতলে থাকা তারিখের ওপর ব্লেড ঘষছে।

Leave a Reply