রহস্যময় এবং মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে অনেক সাহিত্য রচিত হয়েছে। আবার বাস্তব জীবনেও কোন কোন লেখকের এরকম মৃত্যু হয়েছে। রহস্যজনকভাবে মারা গেছেন এমন ৫জন বিখ্যাত লেখকের মৃত্যু সম্বন্ধে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক।

১.  এডগার অ্যালান পো

মার্কিন লেখক এডগার অ্যালান পো রহস্য গল্পের লেখক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। আর তার মৃত্যুও রহস্যজনক ছিল। ১৮৪৯ সালের জুনে একটি সাহিত্য পত্রিকার তহবিল সংগ্রহের জন্য সফর শুরু করেন তিনি।

২৭ সেপ্টেম্বর ফেরিতে করে ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড থেকে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর হয়ে নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু আগের রাতে তিনি জ্বরের কারণে রিচমন্ডের একজন ডাক্তারের কাছে যান। ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি বাল্টিমোর পৌঁছেছিলেন কিন্তু নিউইয়র্কে যাননি। এর পরবর্তী দিনগুলিতে তিনি কই ছিলেন, কি করেছিলেন সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি।  

৩ অক্টোবর তিনি বাল্টিমোরের একটি পানশালায় হঠাৎ হাজির হন। ওই সময় অস্পষ্ট ও অসংলগ্নভাবে কথা বলছিলেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে মদ্যপ বলে মনে করেছিলেন।

এমনকি পরনের পোশাকটিও তার নিজের ছিল না। তিনি সাধারণত কালো উলের স্যুট পরতেন কিন্তু সেদিন তিনি সস্তা স্যুট এবং খড়ের টুপি পরেছিলেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরের কয়েকদিন প্রচন্ড জ্বরে ভুগেছিলেন এই লেখক। ১৮৪৯ সালের ৭ অক্টোবর মাত্র ৪০ বছর বয়সে মারা যান তিনি।

বাল্টিমোরের একটি সংবাদপত্রের খবরে বলা হয়, মস্তিষ্কের রক্ত জমে তার মৃত্যু হয়েছে। অ্যালান পোর মৃত্যুর কারণ আজও অজানা রয়ে গেছে।

২. অস্কার ওয়াইল্ড

আইরিশ কবি, উপন্যাসিক এবং নাট্যকার অস্কার ওয়াইল্ড ১৯০০ সালের ৩০ নভেম্বর ফ্রান্সে নির্বাসিত অবস্থায় মারা যান। সমকামিতার জন্য নিজ দেশে ২ বছর জেল খেটেছিলেন তিনি। ১৮৯৭ সালের মে মাসে জেল থেকে মুক্তি পান। এরপর ফ্রান্সে চলে যান।

প্যারিসের জীর্ণ একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন তিনি। বছর তিনেকের মধ্যেই মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে কপর্দকহীন অবস্থায় মারা যান বিখ্যাত এই লেখক। তার শেষের দিনগুলি অপমানে এবং বঞ্চনায় কেটেছিল।

লেখকের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, কারাগারে থাকার সময় তার কানের সংক্রমণ হয়েছিল।

এদিকে রিচার্ড এলম্যান নামের একজন মার্কিন জীবনীকার ১৯৮৮ সালে অস্কার ওয়াইল্ডের একটি জীবনী লিখেন। তিনি দাবি করেন, লেখকের মেনিনজাইটিসের জন্য সিফিলিস দায়ী। ওয়াইল্ড একবার বলেছিলেন, অক্সফোর্ডের পড়ালেখার সময় তিনি একজন পতিতার কাছ থেকে সিফিলিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অবশ্য ওয়াইল্ডের পরিবার এই দাবির বিরোধিতা করেছে।

৩. পার্সি বিশি শেলি

ইংরেজি সাহিত্যের খ্যাতনামা রোমান্টিক কবি শেলি। ১৮২২ সালের ৮ জুলাই ইতালির উত্তর-পশ্চিম উপকূলে লেরিসি উপসাগরে নৌকা ডুবে মারা যান তিনি। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২৯ বছর।

তবে কেউ কেউ সন্দেহ করেন যে শেলির মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত ছিল না। তাদের ধারণা, তিনি হয় আত্মহত্যা করেছেন অথবা তার নৌকা জলদস্যুদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল।

৪. আলবেয়ার কামু

ফরাসি উপন্যাসিক আলবেয়ার কামু মাত্র ৪৪ বছর বয়সে সাহিত্যে নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ লেখক হিসেবে তিনি মর্যাদাবান এই পুরস্কারটি পান।

নোবেল জয়ের দুই বছর পর মাত্র ৪৬ বছর বয়সে রহস্যময় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান আলজেরিয়ান-ফরাসি এই লেখক। তিনি পূর্বপরিকল্পিত হত্যার শিকার হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অনেকেই বিশ্বাস করেন, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি তাকে হত্যা করেছিল।

১৯৫৬ সালে হাঙ্গেরির বিপ্লবের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে অক্লান্তভাবে প্রচারণা চালিয়েছিলেন কামু। এছাড়া ভিন্নমতাবলম্বী সোভিয়েত উপন্যাসিক বরিস পাস্তেরনাককে নোবেল দেয়ার বিষয়টি সোচ্চারভাবে সমর্থনও করেছিলেন তিনি। এসব কারণে তার উপর ক্ষুব্ধ ছিল মস্কো।

৫. নিকোলাই গোগোল

ইউক্রেনিয়ান বংশোদ্ভূত রুশ উপন্যাসিক, নাট্যকার ছিলেন নিকোলাই গোগোল। ১৮৫২ সালে মাত্র ৪২ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন বিখ্যাত এই সাহিত্যিক।

১৮৫২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে গোগোল তার কিছু পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলেন। এরফলে ‘ডেড সোলস’ উপন্যাসের দ্বিতীয় খন্ডের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে যায়। পরবর্তীকালে এই কাজটিকে ভুল বলে স্বীকার করেন তিনি। শয়তান তাকে দিয়ে এটি  করিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ করে দেন। প্রচন্ড যন্ত্রণা ভোগ করে ৯দিন পরে মারা যান।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Leave a Reply