মোঙ্গল শাসক হালাকু খান ১২৫৮ সালে বাগদাদ আক্রমণ করে প্রায় ৮ লাখ মানুষ হত্যা করে। পাশাপাশি হাউজ অব উইজডম বা জ্ঞানের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত ‘বায়তুল হিকমাহ’ নামের লাইব্রেরিটিও ধ্বংস করে ফেলে। আব্বাসীয় খিলাফতের গর্ব এই জ্ঞানচর্চা কেন্দ্রটি তৎকালীন বিশ্বের বিদ্বান ব্যক্তিদের তীর্থক্ষেত্র ছিল।

মঙ্গোল সেনাবাহিনীর তান্ডব থেকে সেদিন একটিমাত্র বই রক্ষা পেয়েছিল। বইটির নাম ‘আল-মুফরাদাত ফি ঘারিব আল-কুরআন’। এত মৃত্যু এবং ধ্বংসের মধ্যেও এই বইটি রক্ষা পেয়েছিল। হালাকু খানের হত্যাকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং প্রমাণ হিসেবে রয়ে গেছে এটি।

এই বইটি টাইগ্রিস নদী থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি উদ্ধার করেছিলেন। বইয়ের ভিতরের কভারে আরবী ভাষায় উদ্ধারকারী ব্যক্তির হাতে লেখা একটি নোট রয়েছে। তিনি লিখেছিলেন, ‘মোঙ্গলদের দ্বারা নিক্ষিপ্ত এই বইটি আমি টাইগ্রিস নদী থেকে উদ্ধার করেছি।’ নোটের নীচে হিজরি ৬৫৬ সাল লেখা ছিল।

মোঙ্গলরা টাইগ্রিস নদীতে এত বিপুল পরিমাণ বই ফেলে দিয়েছিল যে বইয়ের কালিতে নদীর পানি কালো হয়ে গিয়েছিল।

আল-মুফরাদাত ফি ঘারিব আল-কুরআন মূলত একটি অভিধান। এটি লিখেছেন আরবি ভাষার পণ্ডিত আল-রাঘিব আল-ইসফাহানি। এটি কোরআনের ঘারিব শব্দের একটি অভিধান। এগুলো নিয়মিত শব্দভান্ডারের অংশ না হওয়ায় এর অর্থ সহজে বোঝা যায় না।

বইটি ৫ম হিজরী শতকে লেখা হয়েছিল। ইসফাহানির তিন খন্ডের বইয়ের মধ্যে মাত্র দ্বিতীয়টিই আজো টিকে আছে।

আল-মুফরাদাত ফি ঘারিব আল-কুরআন বইটি বর্তমানে বাগদাদের আবদুল কাদির জিলানি লাইব্রেরিতে রয়েছে। ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের সময় বাগদাদের এই লাইব্রেরিটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল। প্রসঙ্গত, বাগদাদে মার্কিন হামলায় অন্তত ১০টি লাইব্রেরি ধ্বংস হয়েছিল।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

Leave a Reply