সম্প্রতি ইত্তেফাকের ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত একটি ছড়াকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রিয় লেখক, কবি, সাংবাদিক আনিসুল হকের ছড়া মনে করে এটি নিয়ে ফেসবুকে ট্রল করা হচ্ছে। আনিসুল হকও এই বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এমনকি সাইবার ট্রাইবুনালে মামলার ব্যপারে পরামর্শ চেয়ে তিনি ফেসবুকে পোস্ট লিখেছেন।

সোমবার (২ মে) আনিসুল হক তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ফিকশন ফ্যাক্টরির পাঠকদের জন্য সেটি হুবহু নীচে তুলে ধরা হলো।

‘বিরল ঘটনা: আমি লিখি নাই, এ রকম দুটো লাইন সুন্দর ডিজাইন করে আমার নাম ওপরে দিয়ে আমার কবিতা বলে প্রচার করে ব্যাপক সমালোচনা করা হচ্ছে। আমি এর বিরুদ্ধে কী করব! সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধ বিভাগকে জানাব? নাকি উপেক্ষা করব?

লাইন দুটো নিরীহ, তবে কবিতার সৌন্দর্যহীন। বড় কথা, আমার লেখা নয়।’

এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাক পত্রিকার ঈদসংখ্যার সম্পাদক তাপস কুমার দত্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে ফিকশন ফ্যাক্টরিকে তিনি বলেন, ‘ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত ছড়াটি লিখেছেন ৬০ এর দশকের খ্যাতিমান ছড়াকার আনিসুল হক। ছড়ার জগতে তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। একই ঈদসংখ্যায় লেখক আনিসুল হকেরও ছোট গল্প ছাপা হয়েছে।’

তিনি জানান, ছড়াকার আনিসুল হক এবং কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক উভয়েই রংপুরের একই এলাকার মানুষ। তারা একে অপরের পরিচিতও হতে পারেন বলে ধারণা করে তিনি।

সামান্য একটি ছড়া নিয়ে ফৌজদারি অভিযোগ করার প্রসঙ্গে বিস্ময় প্রকাশ করেন তাপস কুমার দত্ত।

তিনি বলেন, ‘এক নামের একাধিক লেখক থাকা বিচিত্র কিছু নয়। ফলে একই নামের একজনের লেখা পাঠক অন্য আরেকজনের বলে মনে করতেই পারেন।’

এই প্রসঙ্গে তিনি ঢাকার প্রয়াত মেয়র এবং একসময়ের জনপ্রিয় উপস্থাপক আনিসুল হকের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সেসময় অনেকেই তার সঙ্গে লেখক আনিসুল হককে গুলিয়ে ফেলতো। অনেকেই মনে করতো উপস্থাপক আনিসুল হকই বোধহয় এসব উপন্যাস লিখেছেন।’

তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে এতবড় প্রতিক্রিয়া জানানোর বিষয়টিকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেকেই পছন্দ করেননি।

Leave a Reply