এলেনা পনিয়াতৌস্কা মেক্সিকোর সাহিত্য এবং সাংবাদিকতা জগতের প্রধান নারী । ১৯ মে ৯০ বছরে পা দিলেন তিনি।

মেক্সিকান সাহিত্যের Grande Dame বা প্রধান প্রমীলা হিসেবে পরিচিত পনিয়াতৌস্কার পুরো নাম এল্যান এলিজাবেথ লুইজ আমেলি পাওলা দোলোরেস পনিয়াতৌস্কা আমর। তিনি একজন ডাকসাইটে সাংবাদিকও।

পনিয়াতৌস্কা ১৯৩২ সালের ১৯ মে ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেন। ১০ বছর বয়স থেকেই তিনি মেক্সিকোতে বসবাস করছেন। বর্তমানে মেক্সিকোর জীবিত লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে প্রবীণ তিনি।

ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় স্বচ্ছন্দ হলেও মূলত স্প্যানিশেই লেখালেখি করেন তিনি।

মেক্সিকোর সমাজের নীচুতলার মানুষদের কেন্দ্র করেই সারাজীবন সাহিত্য এবং সাংবাদিকতা করেছেন পনিয়াতৌস্কা। এছাড়া নারীর স্বাধীনতা ও ক্ষমতায়নও তার লেখার উপজীব্য ছিল। দেশটির সাহিত্য সমাজে আপসহীন নারীবাদী হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে।

The Red Princess নামে পরিচিত এই লেখক ১৯৫৪ সালে ‘Lilus Kikus’ নামে একটি ছোটগল্প গ্রন্থের মাধ্যমে সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশ করেন।

১৯৬৮ সালে মেক্সিকোর ছাত্র আন্দোলন নিয়ে লেখা অসাধারণ সাহিত্যিক প্রতিবেদন ‘The Night of Tlatelolco’ প্রকাশের মাধ্যমেই তিনি সবার মনোযোগ কাড়েন। এই বইটি বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এটি রীতিমতো একটি আন্তর্জাতিক ক্লাসিকের মর্যাদা অর্জন করেছে।

তিনি ছোটগল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, সাংবাদিক গদ্য, প্রবন্ধ, জীবনী ইত্যাদি মিলিয়ে ৫০টির মতো বই লিখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো, The Last Turkey (১৯৮২), Nothing, Nobody: The Voices of the Earthquake (১৯৮৮), Frida Kahlo: The Camera Seduced (১৯৯২), The Soldier Women (১৯৯৯), The Heart of the Artichoke (২০০৩), Nursery Rhymes of the Naughty Girl (২০০৮)।

৯০ বছর বয়সেও পনিয়াতৌস্কা সাহিত্য এবং সমাজকর্মে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি La Jornada নামে একটি সংবাদপত্র, Fem নামে একটি নারীবাদী ম্যাগাজিন, Siglo XXI নামক একটি প্রকাশনী সংস্থা এবং মেক্সিকোর জাতীয় চলচ্চিত্র ইন্সটিটিউট Cineteca Nacional প্রতিষ্ঠা করেন।

Leave a Reply