হিটলারের আত্মজীবনী ‘মাইন কাম্ফ’ এর কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু এই বইটি লেখার ২ বছর আগে তিনি যে আরো একটি আত্মজীবনী লিখেছিলেন এই বিষয়ে খুব কম পাঠকই অবগত আছেন। আর এই আত্মজীবনীটি ছদ্মনামে লিখেছিলেন তিনি।

মাইন কাম্ফ

‘অ্যাডলফ হিটলার: হিজ লাইফ অ্যান্ড হিজ স্পিচেস’ ১৯২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটি জার্মান লেখক অ্যাডলফ ভিক্টর ফন কোয়েরবার এর নামে প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি একজন অভিজাত ব্যক্তি এবং সামরিক অফিসার ছিলেন। তবে হিটলার নিজেই এই বইয়ের লেখক ছিলেন বলে দাবি করেছেন ইতিহাসবিদ টমাস ওয়েবার।   

টমাস ওয়েবার

স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ ওয়েবারের ধারণা পাবলিসিটি স্টান্টের জন্যই এই কাজটি করেছিলেন হিটলার।

অধ্যাপক ওয়েবার এমন কিছু তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন যার ফলে এ বিষয়ে তিনি মোটামুটি নিশ্চিত যে বইটি হিটলারই লিখেছেন। ২০১৬ সালে অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

টমাস ওয়েবার জানিয়েছিলেন,তার ‘বিকামিং হিটলার: দ্য মেকিং অব অ্যা নাজি’ বইটি লিখতে গিয়ে বিভিন্ন গবেষণা করেছিলেন। তখনই বিষয়টি আবিস্কার করেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের উইটওয়াটারসর‍্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্ষিত ফন কোয়েরবারের ব্যক্তিগত কাগজপত্রে ওয়েবার বেশ কিছু স্বাক্ষর করা নথিপত্র পান। সেখান থেকে জার্মান এই ইতিহাসবিদ বুঝতে পারেন, ভিক্টর ফন কোয়েরবার ওই বইটি লিখেননি।

অ্যাডলফ ভিক্টর ফন কোয়েরবার

ওই নথিতে লেখা রয়েছে, ‘হিটলার জেনারেল লুডেনডর্ফকে একজন রক্ষণশীল লেখক খুঁজে দিতে বলেছেন। তার সঙ্গে নাজি পার্টির কোন সম্পর্ক থাকবে না, কিন্তু তিনি তার নাম ব্যবহার করতে দিতে রাজি থাকবেন।’ 

অ্যাডলফ হিটলার: হিজ লাইফ অ্যান্ড হিজ স্পিচেস বইতে হিটলারকে যীশুর সাথে তুলনা করা হয়েছে। যীশুর মতই তিনি জার্মান জাতির ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সূত্র: ডি ডাব্লিউ, বিবিসি

Leave a Reply