সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘চাঁদের অমাবস্যা’ অবলম্বনে একই নামের একটি  সিনেমা বানানো হচ্ছে। সম্প্রতি সিনেমার শুটিং ও এডিটিংয়ের কাজও শেষ হয়েছে।

চাঁদের অমাবস্যা সিনেমার দৃশ্য

চলতি বছর ওয়ালীউল্লাহর জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হবে। আর এই উপলক্ষেই এই বছরই চাঁদের অমাবস্যা সিনেমাটি মুক্তি দেয়া হবে।

চাঁদের অমাবস্যা সিনেমার দৃশ্য

জাহিদুর রহিম অঞ্জন পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, তনয় বিশ্বাস, ইরেশ যাকের, দ্বীপান্বিতা মার্টিন, শাহানা সুমি প্রমুখ।   

চাঁদের অমাবস্যা সিনেমার দৃশ্য

সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক জাহিদুর রহিম অঞ্জন। তিনি বলেন, ‘ওয়ালীউল্লাহর এই উপন্যাস নিয়ে অনেকদিন ধরেই কাজ করার ইচ্ছা ছিল। তার জন্মশতবর্ষে সিনেমাটি প্রদর্শন সম্ভব হচ্ছে। এটা একটা পজিটিভ দিক।’

চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসটি ১৯৬৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। ফ্রান্সে বাস করার সময় আল্পস পর্বতের পাদদেশের একটি গ্রামে উপন্যাসটি লিখেছিলেন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।

এই বইয়ের কাহিনীর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি যুবতী নারীর মৃত্যু এবং জ্যোৎস্না প্লাবিত রাতে বাঁশঝাড়ের ভিতরে তার মৃতদেহ আবিষ্কার। গ্রামের তরুণ স্কুলমাস্টার আরেফ আলী এই লাশ আবিস্কার করেন। দরিদ্র এই স্কুলমাস্টার যে পরিবারে আশ্রিত ছিলেন, তাদেরই একজন সদস্য খুনি হওয়ায় বিষয়টি চেপে যেতে বাধ্য হন তিনি।

একদিকে সত্য প্রকাশ করতে না পারার বেদনা, অন্যদিকে আশ্রয় এবং শিক্ষকতার পেশা হারানোর ভয়ে অন্তর্দ্বন্দ্বে ভুগতে থাকেন তিনি। আর তার এই অন্তর্দ্বন্দ্ব শক্তিশালী লেখনী দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।   

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে তিনি বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী উপন্যাস লালসালু রচনা করেন। এটি ছিল তার লেখা প্রথম উপন্যাস। ১৯৬১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। এছাড়া তিনি আদমজী পুরস্কার (১৯৬৫), মরণোত্তর একুশে পদকও (১৯৮৪) পেয়েছেন।  ২০০১ সালে তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত লালসালু সিনেমার গল্পের জন্য মরণোত্তর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

Leave a Reply