ইরাকি গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ ইউনিটের গোপন কাহিনী নিয়ে প্রকাশিত একটি বই ‘দ্য স্পাইমাস্টার অব বাগদাদ: অ্যা ট্রু স্টোরি অব ব্রেভারি, ফ্যামিলি এন্ড প্যাট্রিয়টিজম ইন দ্য ব্যাটল এগেইন্সট আইএসআইএস’। জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে অনুপ্রবেশকারী ইরাকি গোয়েন্দাদের সাহসিকতার গল্প এখানে তুলে ধরা হয়েছে। বাগদাদে নিউইয়র্ক টাইমসের সাবেক ব্যুরো প্রধান মার্গারেট কোকার সত্য ঘটনা অবলম্বনে এই বইটি লিখেছেন।

ফ্যালকন্স নামে পরিচিত ইরাকের এই গোয়েন্দা ইউনিট যে কোন বিদেশি শক্তির চেয়ে আইএসের ব্যাপারে বেশি তথ্য সংগ্রহ করেছে। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এই ইউনিটের সদস্যরা শক্তিশালী এই জঙ্গিগোষ্ঠীর ভিতরে অনুপ্রবেশ করে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন, ফলে তাদের বিজয় রথ রুদ্ধ হয়ে যায়। ইরাকি ফ্যালকন্স ইন্টেলিজেন্স সেলের দেয়া তথ্যর ভিত্তিতে ২০১৯ সালে আইএস নেতা আবুবকর আল–বাগদাদীকে হত্যা করা সম্ভব হয়।

ইরাকি ফ্যালকন্স সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ইউনিট। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা, গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ৫হাজার কর্মকর্তা নিয়ে এই ইউনিট গঠন করা হয়। এদের নির্ভীক সাহসিকতার কারণেই লাখ লাখ ইরাকিসহ বিশ্ববাসী আইএস সন্ত্রাসীদের তান্ডব থেকে সুরক্ষা পেয়েছে।

ফ্যালকন্সের নেতা আবু আলি আল বসরী ২০১৮ সালে তৎকালীন নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক মার্গারেট কোকারকে বিশেষ এই গোয়েন্দা ইউনিট নিয়ে বিভিন্ন তথ্য দেন। তিনি বলেন, ‘একটি ড্রোন কোন ভবনে কে প্রবেশ করলো সেই তথ্যই কেবল দিবে। কিন্তু ঘরের ভিতর কি কথা হচ্ছে তা আপনাকে জানাতে পারবে না। আমরা তা পারি, কারণ ওই ঘরে আমাদের লোক রয়েছে।’

স্পাইমাস্টার অব বাগদাদে আল বসরী এবং হারিথ ও মুনাফ আল সুদানি ভাইদের কাহিনী বলা হয়েছে। হারিথ ও মুনাফ ভাইয়েরা ইরাকের রাজধানী বাগদাদের দারিদ্র্যপীড়িত এলাকা থেকে উঠে আসা দুজন তরুণ এজেন্ট। সাদ্দামের শাসনামল থেকে এই বইয়ের কাহিনীর শুরু হয়। সে সময় আল বসরী তরুণ এবং সুদানি ভাইয়েরা শিশু ছিলেন। একনায়কতন্ত্র, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক হামলা, পরবর্তীকালে সাম্প্রদায়িক বিশৃংখলা সব মিলে ভয়াবহ এক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল ইরাক জুড়ে। সেসময় আইএসের উত্থান ঘটে।

ফ্যালকন্স ইউনিট গঠন করা হলে, আল বসরী আইএসের গোপন খবর জানার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তি নয় মানুষের মাধ্যমেই এই তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। ফলে জঙ্গিগোষ্ঠীটির মধ্যে সুদানি ভাইদের অনুপ্রবেশ করান। এই দুই ভাইয়ের কারণেই ৩০ টি আত্মঘাতী হামলা এবং ১৮টি বিশাল সন্ত্রাসী হামলা বানচাল করা সম্ভব হয়েছে।

পশ্চিমা জোট বাহিনী আইএসকে পরাজিত করেছে বলে যে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, দ্য স্পাইমাস্টার অব বাগদাদ বইটি সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ জানায়। এই বইয়ের মাধ্যমে লেখক মার্গারেট কোকার বলতে চেয়েছেন, পশ্চিমা শক্তি নয় বরং সাধারণ ইরাকি জনগণের জাতীয়তাবাদী চেতনার কারণেই পরাজিত হয়েছে দুর্ধর্ষ জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস।

বহুল প্রশংসিত এই বইটি ২০২০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।

সূত্র: দ্য ন্যাশনাল, মিলিটারি টাইমস

Leave a Reply