ব্রিটেনের ২৯ বছর বয়সি কবি আর্চ হেডিসের নাম কেউ কেউ হয়তো শুনে থাকবেন। তবে না শুনলেও দোষ দেয়া যাবে না। কারণ তার সেরা কাজ বইয়ের তাকে নয়, বরং ইনস্টাগ্রাম ফিডে দেখতে পাওয়া যায়। তিনি সামাজিক এই যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই ফলোয়ারদের জন্য কবিতা প্রকাশ করেন। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। ব্রিটেনের ইন্সটা-পোয়েটদের অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয় হেডিসকে।

ইনস্টা-পোয়েট আধুনিক সাহিত্য জগতের একটি নতুন অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে যেসব কবি তাদের কবিতা নিয়মিত পোস্ট করেন তাদেরকেই ইনস্টা-পোয়েট বলা হয়। আর্চ হেডিস, রুপি কৌর এবং ল্যাং লিয়েভ এর মত কবিরা ইনস্টাগ্রামে তাদের কবিতা প্রকাশ করেই খ্যাতিমান হয়ে উঠেছেন। এই মাধ্যমে যেসব কবিদের অনুসারীর সংখ্যা বেশি তারাই জনপ্রিয় হিসেবে বিবেচিত হন। আবার জনপ্রিয় ইনস্টা-পোয়েটদের সঙ্গেই বইয়ের চুক্তি করেন প্রকাশকরা।

ইনস্টা-পোয়েট হিসেবে খ্যাতি পেলেও হেডিস কিন্তু এই উপাধিতে মোটেই খুশি নন। তিনি কেবল কবি হিসেবেই পরিচিত হতে চান। তিনি বলেন, ‘এখন মানুষ আমাকে কেবল কবি বলে ডাকে। এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি সবসময় লেবেল মুক্ত হিসেবেই থাকতে চেয়েছি।’

আর্চ হেডিস কিন্তু তার আসল নাম নয় এটি ছদ্মনাম। রুশ বংশোদ্ভূত হেডিস শৈশবেই পরিবারের সঙ্গে রাশিয়া ত্যাগ করতে বাধ্য হন। রাশিয়াকে তিনি মাফিয়া রাষ্ট্র বলে উল্লেখ করেন। কারণ সেখানেই তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছিল, যার পরিণতিতে স্বদেশ ছেড়ে ব্রিটেনে আসে তার পরিবার। এখানে তাকে অভিজাত বোর্ডিং স্কুল উইকম্ব অ্যাবিতে ভর্তি করে দেয়া হয়। হেডিসের পরিবার কোন ঝুঁকি নিতে চাননি, তাই তার নাম এবং পদবী পরিবর্তন করে দেয়া হয়। বোর্ডিং স্কুলের একাকীত্ব তাকে বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করে। তিনি ক্লাসিকাল সাহিত্য বিশেষ করে কবিতার মধ্যে শান্তি খুঁজে পান।

২৯ বছর বয়সি এই তরুণ কবি প্রথমে রাজনীতিবিদ হতে চেয়েছিলেন। এজন্য পড়ালেখা শেষ করে তিনি রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। এই ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ স্নাতক পাশ করার পর আমি ৫ বছর রাজনীতি নিয়ে কাজ করেছি। এসময় বিশ্ব এবং মানব প্রকৃতি খুব ভালভাবে বুঝতে শিখেছি। এটি আমাকে পরিপক্ক হতে সাহায্য করেছে। কিন্তু রাজনীতি মানুষের মধ্যে মেরুকরণের সৃষ্টি করে।’

রুশ কবি, উপন্যাসিক ইভান তুর্গেনেভ ছিলেন হেডিসের প্রথম অনুপ্রেরণা। তিনি জানান, তুর্গেনেভের মাস্টারপিস ‘ফার্স্ট লাভ’ তার মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বইটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এখানে আবেগগুলি এমন শক্তিশালী এবং বিশুদ্ধভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা তিনি আধুনিক যুগেও উপলব্ধি করতে পারছিলেন।

হেডিসের প্রথম কবিতার বই ‘হাই টাইড’

হেডিসের প্রথম কবিতার বই ‘হাই টাইড’ ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয়। এটি রোমান্টিক কবিতার সংকলন ছিল। বইটি কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ায় বেস্টসেলার বইয়ের তালিকায় এক নম্বরে ছিল। তার দ্বিতীয় কবিতার বই ‘ফুল’স গোল্ড’। এটিও বেস্টসেলার ছিল। সম্প্রতি অনলাইন নিলামে তার একটি কবিতা ৫১ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে।

হেডিসের দ্বিতীয় কবিতার বই ‘ফুল’স গোল্ড’

অবসর সময়ে তিনি বই পড়ে কাটান। গ্যেটে, ভার্জিনিয়া উলফ, সমারসেট মম, স্লোভেনিয়ার দার্শনিক জিজেকের বই তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে। স্কুলে থাকতে তিনি ইংরেজ কবি লর্ড বায়রনের ভক্ত ছিলেন। এখনো কবির প্রতি তার মুগ্ধতা রয়েছে। এজন্য নিজের প্রিয় কুকুরের নাম রেখেছেন বায়রন। ইন্সটাগ্রামে এই কুকুরের নামেও একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছেন তিনি। সেখানে বায়রনের প্রায় ৮ হাজার ফলোয়ার রয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, মেইল অনলাইন, ট্যাটলার, আই নিউজ

Leave a Reply