বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো ফ্যান্টাসি উপন্যাস ‘পারফিউম: দ্য স্টোরি অব অ্যা মার্ডারার’ এর লেখক প্যাট্রিক সাসকিন্ড। জার্মানির সবচেয়ে রহস্যময় লেখক হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে। নিভৃত জীবন যাপনের জন্য মানুষজন তার সম্পর্কে খুব কমই জানতে পারে। এমনকি বিখ্যাত এই লেখকের হাতে গোনা দুই একটি ছবি ছাড়া আর কোন ছবিও গণমাধ্যমে দেখতে পাওয়া যায় না।

প্যাট্রিক সাসকিন্ড সারাজীবনে মাত্র একটি উপন্যাসই লিখেছেন। এটিই তাকে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে দেয়। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত পারফিউম উপন্যাসটি বছরের পর বছর ধরে বেস্টসেলার বইয়ের তালিকায় নিজের স্থান ধরে রেখেছিল। সুদীর্ঘ ৯ বছর ধরে জার্মানির সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ডের স্পিগেলের বেস্টসেলার বইয়ের তালিকায় উপন্যাসটির নাম ছিল। অথচ শুরুতে এই বইটি প্রকাশে অনীহা দেখিয়েছিলেন প্রকাশকরা। একের পর এক প্রকাশকের প্রত্যাখানের শিকার হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রকাশের পর এটি কেবল জার্মানিই নয় বরং আন্তর্জাতিকভাবেও বেস্টসেলার বইয়ের খেতাব পায়। পারফিউম: দ্য স্টোরি অব অ্যা মার্ডারার উপন্যাসটি ৪৯ টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়। বিশ্বজুড়ে এটি ২০ মিলিয়ন কপিরও বেশি বিক্রি হয়।

তবে পারফিউম সাসকিন্ডের একমাত্র উপন্যাস হলেও এটি তার একমাত্র রচনা নয়। জার্মানির ব্যাভারিয়া অঞ্চলে জন্ম নেয়া এই লেখক বেশ কিছু টিভি চিত্রনাট্য, নভেলা এবং প্রবন্ধও লিখেছেন। এছাড়া ফরাসি কার্টুনিস্ট জ্যাঁ-জ্যাক সেম্পেসের রচনা জার্মান ভাষায় অনুবাদও করেছেন। সাসকিন্ড অনেকগুলি সাহিত্য পুরষ্কার পেয়েছেন। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই তিনি এগুলি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

রহস্যময় এই লেখক মিউনিখ এবং ফ্রান্সে নিভৃত জীবনযাপন করেন। লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতেই ভালোবাসেন তিনি। জার্মান পত্রিকা শুডডয়চে জাইটুং এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি সারাজীবনে মোট চারবার সাক্ষাতকার দিয়েছেন। এসব সাক্ষাতকারের বেশিরভাগই ১৯৮০ এর দশকে ছিল। তার খুব কম ছবিই দেখা যায়।

লেখকের কাছ থেকে পারফিউম উপন্যাসের চলচ্চিত্র স্বত্ব কিনে নেয়ার জন্য দীর্ঘ এক দশক অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অবশেষে ২০০৬ সালে পারফিউম নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন পরিচালক টম ট্যুইকার। কিন্তু ছবির প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন না সাসকিন্ড।

প্যাট্রিক সাসকিন্ড ১৯৪৯ সালের ২৬ মার্চ মিউনিখের নিকট এমবাখে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সুপরিচিত লেখক এবং সাংবাদিক উইলহেলম সাসকিন্ড। শুডডয়চে জাইটুং এর খবর অনুযায়ী, তার সম্পাদকীয়তে তিনি নিয়মিতই পুত্র সম্বন্ধে লিখতেন। প্যাট্রিকের ভাই মার্টিন সাসকিন্ডও বিশিষ্ট সাংবাদিক ছিলেন।

প্যাট্রিক সাসকিন্ড মিউনিখ এবং ফ্রান্সের এইক্স-এন-প্রভিন্সে আধুনিক এবং মধ্যযুগীয় ইতিহাস পড়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৪ সালে পড়ালেখা বন্ধ করে দেন তিনি। এরপর তিনি প্যারিসে চলে যান। সেখানেই লেখালেখির প্রতি মনোনিবেশ করেন। ১৯৮১ সালে দ্য ডাবল বাস নাটক লিখে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ৪ বছরের মধ্যেই বিখ্যাত পারফিউম উপন্যাস লিখেন তিনি। ৮০ এবং ৯০ এর দশকে তিনি বিভিন্ন চিত্রনাট্য এবং নভেলা লিখেন।

১৯৯১ সালে তিনি দ্য স্টোরি অব মিস্টার সমার নামে একটি নভেলা লিখেন। এটিই তার শেষ ফিকশন। এরপর ২০০৬ সালে অন লাভ এন্ড ডেথ নামে একটি প্রবন্ধের বই প্রকাশ করেন।

চলতি বছরের মার্চে তিনি ৭৩তম জন্মদিন পালন করেছেন। কিন্তু এখনো নিজেকে রহস্যের চাদরে মুড়ে রাখতে ভালোবাসেন এই বয়োজ্যেষ্ঠ লেখক। তিনি কি আরো কিছু লিখবেন? অথবা তিনি কি কখনো একটি সাক্ষাতকার দিবেন কিংবা প্রকাশ্য বিবৃতি? কেবলমাত্র ভবিষ্যতেই এই প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে।

সূত্র: ডিডাব্লিউ

Leave a Reply