সিরিয়ার শরণার্থীদের দুঃখ-দুর্দশা এবং বেঁচে থাকার সংগ্রাম নিয়ে লেখা বেস্টসেলার উপন্যাস ‘দ্য বীকিপার অব আলেপ্পো’। এটি লিখেছেন ব্রিটিশ-গ্রিক সাইপ্রিয়ট লেখক ক্রিস্টি লেফটেরি। তিনি নিজেও শরণার্থীদের সন্তান। গ্রিসের এথেন্সে সিরিয়ার শরণার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত শিবিরে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতার ফসল বীকিপার অব আলেপ্পো।

জনপ্রিয় এই বইটি ৫ লাখ কপির বেশি বিক্রি হওয়ার কারণে সম্প্রতি নিয়েলসেন বেস্টসেলার গোল্ড অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। দ্য বীকিপার অব আলেপ্পো ২০১৯ সালের মে মাসে প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটি গত বছর অ্যাসপেন ওয়ার্ডস লিটারারি প্রাইজও পেয়েছিল।

বেস্টসেলার অ্যাওয়ার্ড পেয়ে উচ্ছ্বসিত ৪১ বছর বয়সি লেখক ক্রিস্টি লেফটেরি। তিনি বলেন, ‘এই পুরষ্কার পেয়ে আমি খুব খুশি হয়েছি। যে বইটি আমার হৃদয়ের গভীরে রেখেছি, তা এত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে দেখে আমি খুব আনন্দ পাচ্ছি। আমি এই কাহিনীর মাধ্যমে সিরিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের শরণার্থীদের দুর্দশার বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। আমার বাবা-মাও শরণার্থী ছিলেন। ১৯৭৪ সালের সাইপ্রাস যুদ্ধের কারণে তারা শরণার্থী হয়েছিলেন।’

এই বই লেখার পিছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন সিরীয় শরণার্থী ডক্টর রিয়াদ আলসুস। তিনি ২০১৩ সালে সিরিয়া থেকে পালিয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেন। নিজের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন তিনি। কিন্তু যুক্তরাজ্যে এসে জীবিকার জন্য মৌমাছি পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেন। উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের মার্সডেনে বিরল প্রজাতির মৌমাছির চাষ করেন তিনি। শরণার্থীদের মৌমাছি পালনের উপর প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগও নেন। এই বিষয়ে তার লেখা একটি প্রবন্ধ নজরে আসে লেফটেরির। তিনি ডক্টর আলসুসের সঙ্গে দেখা করেন। সিদ্ধান্ত নেন, তার বইয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্র মৌমাছি পালক হবেন।

দ্য বীকিপার অব আলেপ্পো উপন্যাসে সিরিয়ার শরণার্থী নুরি এবং আফরা দম্পতির কাহিনী বলা হয়েছে। নুরি একজন মৌমাছি পালক, তার স্ত্রী চিত্রশিল্পী। সিরিয়ার আলেপ্পোয় বেশ ছিমছাম জীবন ছিল তাদের। কিন্তু যুদ্ধ সবকিছু ধ্বংস করে দেয়। একমাত্র সন্তান হারানোর পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তিও হারিয়ে ফেলেন আফরা। ভয়াবহ এই যুদ্ধের কবল থেকে পালিয়ে ইউরোপ যেতে চান এই দম্পতি। কিন্তু সিরিয়া থেকে পালানো সহজ কোন কাজ নয়। মূলত সিরীয় এই দম্পতির মাধ্যমে শরণার্থীদের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা এবং আশা- নিরাশার গল্প বলা হয়েছে এই বইয়ে।

সূত্র: দ্য ন্যাশনাল, দ্য আইরিশ টাইমস

Leave a Reply