সংযুক্ত আরব আমিরাতের লেখক বাশায়ের আরিফ কয়েক বছর আগেও বিড়াল দেখলে প্রচন্ড ভয় পেতেন। এমনকি রাস্তায় কোন বিড়াল দেখলে তিনি পথ বদলে অন্য পথে যেতেন। নিরীহ এই প্রাণীর চলাফেরা এবং চোখ তার কাছে ভীতিকর মনে হতো। অথচ তিনিই বিড়ালদের নিয়ে একটি বই লিখে ফেলেছেন। আর এই বই লেখায় তাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে সালেম নামে রাস্তার একটি বিড়াল।

‘দ্য সিক্রেট লাইফ অব দুবাই’স স্ট্রিট ক্যাটস’ নামের বইটি লিখেছেন বাশায়ের আরিফ। শিশুদের জন্য লেখা এই বইটি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়।

দ্য সিক্রেট লাইফ অব দুবাই’স স্ট্রিট ক্যাটস

আরব আমিরাতের পত্রিকা দ্য ন্যাশনালে তরুণ এই লেখকের একটি সাক্ষাতকার প্রকাশিত হয়। সেখানেই তিনি এই বই লেখার নেপথ্য কাহিনী বর্ণনা করেন।

আমিরাতি এই তরুণ লেখক জানান, ২০১৫ সালে তাদের বাড়ির বাগানে অ্যারাবিয়ান মাউ জাতের একটি বিড়ালকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এটিকে দেখে অসুস্থ মনে হচ্ছিল। তিনি একটি প্লেটে করে বিড়ালটিকে কিছু খাবার এবং পানি দিলেন।

বাশায়ের আরিফ

মরুভূমির এই বিড়ালটি খাবারের আশায় প্রতি রাতে তাদের বাড়িতে আসতো। তিনি বিড়ালটির নাম রাখেন সালেম। একদিন দিনের বেলা বিড়ালটিকে দেখে তিনি বুঝতে পারেন এটি গুরুতর আহত হয়েছে। এরপর ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান।

তিনি সালেমের থাকার জন্য একটি বাড়ি খুঁজতে শুরু করলেন। কিন্তু কালো রঙের বিড়াল পালতে অনেকেই পছন্দ করে না। ফলে কেউ তাকে নিতে চাইলো না। এক বছর পর্যন্ত বিড়ালটি তার কাছেই ছিল।

এক বছর পরে নেদারল্যান্ডসের একজন বিড়ালপ্রেমী নারী সালেমকে নিতে রাজি হলেন। এরপর অ্যানিমেল পাসপোর্ট থেকে শুরু করে সব অনুষ্ঠানিকতা শেষ করলেন বাশায়ের। অবশেষে অ্যারাবিয়ান মাউ জাতের বিড়ালটি ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাল।

সালেমের সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় কাটিয়েছেন আমিরাতি এই লেখক। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিড়ালের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। তিনি অনলাইন ক্যাট কমিউনিটিতে যোগ দেন। অ্যারাবিয়ান মাউ নিয়ে পড়ালেখা করেন। ধীরে ধীরে তার বিড়াল ভীতি দূর হয়ে যায়।

বাশায়ের আরিফ দুবাইয়ের রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো বিড়ালদের নিয়ে একটি বই লেখার পরিকল্পনা করেন। তিনি আশা করেন, তার বই পড়ে মানুষ অ্যারাবিয়ান মাউ নিয়ে আগ্রহী হবে। এমনকি যারা বিড়াল পছন্দ করে না, তারাও বইটি পড়বে।

তিনি বলেন, ‘সালেমকে উদ্ধার করার পর আমি অ্যারাবিয়ান মাউ সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পারলাম। এর আগে আমি এদের কেবল রাস্তার বিড়াল মনে করতাম। কিন্তু এই জাতের বিড়াল যে আমাদের স্থানীয় বিড়াল, সে বিষয়ে আমার কোন ধারণা ছিল না।’

তিনি আরো বলেন, ‘অ্যারাবিয়ান মাউ আরব উপদ্বীপের স্থানীয় বিড়াল। আমিরাতের রাস্তাঘাটে এরা ঘুরে বেড়ায়। অথচ মানুষ পারসিয়ান, স্কটিশ ফোল্ডসহ বিদেশি বিড়ালের সন্ধান করে। বিষয়টি আমাকে খুব কষ্ট দেয়।’

অ্যারাবিয়ান মাউ

দ্য সিক্রেট লাইফ অব দুবাই’স স্ট্রিট ক্যাটস বইটি শার্পক্লো নামে একটি বিড়ালকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। সে সাধারণ কোন রাস্তার বিড়াল নয়। সে অ্যারাবিয়ান মাউ জাতের বিড়াল। নেতা স্বভাবের এই বিড়ালটি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু টুইচ এবং ব্ল্যাকটেইলকে নিয়ে সারাদিন আনন্দে কাটায়।

কিলটুথ নামে নতুন একটি পোষা বিড়ালের কারণে এই তিন বন্ধুর শান্তি হুমকির মুখে পড়ে। তারা কি কিলটুথের কবল থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে? নিজেদের জন্য সুন্দর একটি বাড়ি খুঁজে বের করতে পারবে? এই তিন বন্ধুর সঙ্গে যোগ দিয়ে দুবাই শহর ঘুরে বেড়াবার একটি মোক্ষম সুযোগ রয়েছে পাঠকদের সামনে।

সূত্র: দ্য ন্যাশনাল

Leave a Reply