বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক রাবিনা খানের নতুন বই ‘মাই হেয়ার ইজ পিঙ্ক আন্ডার দিস ভেইল’। হিজাব পরিহিতা একজন নারী রাজনীতিবিদ হিসেবে ব্রিটিশ সমাজে তার সংগ্রামের কাহিনী তুলে ধরেছেন এই স্মৃতিকথার মাধ্যমে।

মাই হেয়ার ইজ পিঙ্ক আন্ডার দিস ভেইল ২০২১ সালের মার্চে প্রকাশিত হয়। একটি অপ্রীতিকর ঘটনার পর বইটির এরকম নাম দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

২০১৫ সালে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রাবিনা খান। সেসময় একজন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ হিজাবের নীচে তার চুলের রঙ সম্বন্ধে জানতে চেয়েছিলেন। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, গোলাপী। এই বিষয়ে পত্রিকায় একটি আর্টিকেল লিখেন তিনি। এরপর এটি নিয়ে বই লেখার পরিকল্পনাও করেন।

নিজ সম্প্রদায়ের নিন্দা, অজ্ঞতা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই করে একটি সফল রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন রাবিনা। নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস অটুট রেখে ব্রিটিশ সংস্কৃতির সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে চলতে হয় তা এই বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

হিজাব কীভাবে একজন আধুনিক মুসলিম নারীর শক্তি, ব্যক্তিগত স্টাইলের প্রতীকে পরিণত হয়েছে তাও পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি।

হিজাব এক টুকরো কাপড়ের চেয়ে বেশি কিছু বলে বিশ্বাস করেন রাবিনা খান। এটিকে ধর্মীয় এবং জাতিগত বৈচিত্র্যের প্রতীক বলেও মনে করেন তিনি।

তার এই বইটি মুসলিম নারীদের সম্পর্কে পুরনো দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ জানায়। এই বইয়ের মাধ্যমে তিনি বলতে চেয়েছেন, মুসলিম নারীরাও ব্রিটিশ মূল্যবোধের সঙ্গে একাত্ম হতে পারে।

অন্যান্য পশ্চিমা দেশের মতই ব্রিটিশ সমাজেও শ্বেতাঙ্গ চরমপন্থীদের সংখ্যা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্রিটেনের মুসলমানরা প্রতিনিয়তই ইসলামোফোবিয়ার মোকাবিলা করছেন। এরকম একটি সময়ে ইসলাম, মুসলমানদের সম্বন্ধে যেসব ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে তা খন্ডন করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ৪৮ বছর বয়সি রাবিনা খান লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টির কাউন্সিলর। মাই হেয়ার ইজ পিংক আন্ডার দিস ভেইল ছাড়াও তিনি আরো দুটি বই লিখেছেন। শিশুদের জন্য তিনি লিখেছেন আয়েশা’স রেইনবো। উপন্যাসটি ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়া ২০০৩ সালে রেইনবো হ্যান্ডস নামের একটি বই লিখেন তিনি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Leave a Reply