ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদীর বই বিক্রি বেড়ে গেছে। মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

১২ আগস্ট পশ্চিম নিউইয়র্কে বক্তৃতা দিতে মঞ্চে উঠার পর হামলার শিকার হন তিনি। এই খবর প্রকাশের পর তার উপন্যাসের বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ বইটির ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে এই বইয়ের কারণেই তার উপর হামলা করা হয়েছে।  

১৯৮৮ সালে প্রকাশিত বইটি গত সপ্তাহে অ্যামাজনের ফিকশন বিভাগের সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের তালিকায় ৮ নম্বরে উঠেছিল। ইন্টারনেট আর্কাইভের ওয়েব্যাক মেশিনের তথ্য অনুযায়ী, রুশদীর উপর হামলার আগে উপন্যাসটি অ্যামাজনের শীর্ষ বিক্রিত বইয়ের তালিকায় ১০০ এর মধ্যেও ছিলো না।

দ্য স্যাটানিক ভার্সেসের পেপারব্যাক সংস্করণটি ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অ্যামাজনের ‘কন্টেম্পোরারি ফিকশন এন্ড লিটারেচার’ চার্টের ২ নম্বর বেস্টসেলিং বই ছিল।  

উপন্যাসটির অডিওবুক সংস্করণ অ্যামাজনের অডিবল প্ল্যাটফর্মে ১৪ নম্বর স্থান দখল করেছে।

বার্নস এন্ড নোবল এর ওয়েবসাইটে বই বিক্রির তালিকায় দ্য স্যাটানিক ভার্সেস ৬১তম স্থানে রয়েছে।

বুকশপ.অর্গ এর পরিচালক স্টেফ অপিটজ জানান, ১২ আগস্টের পর দ্য স্যাটানিক ভার্সেস এবং সালমান রুশদীর ব্যাপারে পাঠকের আগ্রহ অনেক বেড়ে গেছে। তাদের ওয়েবসাইটে সর্বাধিক অনুসন্ধান করা বইয়ের তালিকায় ১০ম স্থানে রয়েছে উপন্যাসটি।

জোসেফ অ্যান্টন: এ মেমোয়ার

এছাড়া মিডনাইট’স চিলড্রেন, জোসেফ অ্যান্টন: এ মেমোয়ার সহ তার অন্যান্য বইগুলির বিক্রিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, মিডনাইট’স চিলড্রেন উপন্যাসের জন্য ১৯৮১ সালে বুকার প্রাইজ পান তিনি।

রুশদীর বুকারজয়ী উপন্যাস ‘মিডনাইট’স চিলড্রেন’

৭৫ বছর বয়সি বুকারজয়ী এই লেখকের প্রতি সংহতি জানানোর জন্যই পাঠকরা তার বইয়ের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অ্যামাজনে একজন ভ্যারিফাইড রিভিউয়ার লিখেন, ‘রুশদীর সাথে সংহতি প্রকাশ করে কিনেছি। লেখার জন্য কাউকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা উচিত নয়।’

এদিকে রুশদীর হামলাকারী হাদি মাতার জানান, তিনি দ্য স্যাটানিক ভার্সেস বইটি পড়েননি। তবে তিনি আয়াতুল্লাহ খোমেনিকে শ্রদ্ধা করেন। অবশ্য প্রয়াত ইরানি এই নেতার ফতোয়ার কারণে রুশদীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে কিনা এই বিষয়ে এখনো কিছুই জানা যায়নি।  

উল্লেখ্য, দ্য স্যাটানিক ভার্সেস ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের জন্য মুসলিম বিশ্বে সমালোচিত হন সালমান রুশদী। তার এই বইটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধও করা হয়। এমনকি তাকে হত্যার জন্য ফতোয়া দিয়েছিলেন ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি।   

সূত্র: এনবিসি নিউজ, সিএনবিসি

Leave a Reply