নৈঃশব্দ্যে
Web Fiction

Part II

ডাকবাংলোর তিন নম্বর ঘর

তানভীর হোসেন · 8 min read · Part 2 of 4

শহরের যান্ত্রিক কোলাহল আর বিশ্ববিদ্যালয়ের টানা অ্যাসাইনমেন্টের চাপ থেকে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম আমরা চার বন্ধু; আমি, রিফাত, সাজিদ আর তূর্য। সিদ্ধান্ত নিলাম, কয়েকটা দিন একটু নিরিবিলিতে কাটাব। তূর্যর এক মামার পরিচয়ে বুকিং পাওয়া গেল শ্রীমঙ্গলের এক চা বাগানের একেবারে ভেতরের দিকে অবস্থিত ব্রিটিশ আমলের এক পুরোনো ডাকবাংলোতে।

পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে যখন আমরা বাংলোতে পৌঁছালাম, তখন সূর্য প্রায় ডুবুডুবু। চারপাশে মাইলের পর মাইল শুধু চা বাগান আর ঘন জঙ্গল। বিশাল এক টিলার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা কাঠের তৈরি দোতলা বাংলোটিকে গোধূলির আলোয় কেমন যেন রহস্যময় দেখাচ্ছিল। বহু বছরের পুরোনো কাঠের মেঝে, সেকেলে নকশার ভারী আসবাবপত্র আর দেয়ালে ঝোলানো হরিণের শিং সব মিলিয়ে পরিবেশটা ছিল একদম অন্যরকম।

আমাদের অভ্যর্থনা জানাল বাংলোর কেয়ারটেকার রসিদ মিয়া। বয়সের ভারে মানুষটা কিছুটা নুয়ে পড়েছে, তবে চোখের দৃষ্টি খুব তীক্ষ্ণ। রাতের খাবারের পর আমরা যখন বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিলাম, রসিদ মিয়া এসে আমাদের সাবধান করে দিল।

"বাবারা, পাহাড়ি রাইত। কখন কী হয় বলা যায় পণ্ডিতরাও বলতে পারে না। এক আর দুই নম্বর ঘরে আপনারা যা ইচ্ছা করেন, কিন্তু বারান্দার একেবারে শেষের তিন নম্বর ঘরটার দিকে রাইতে ভুলেও যাবেন না।"

তূর্য একটু বেশি সাহসী, সে হেসে জিজ্ঞেস করল, "কেন চাচা? ওই ঘরে কী আছে?"

রসিদ মিয়ার মুখের রেখাগুলো শক্ত হয়ে গেল। গলাটা একটু নামিয়ে বলল, "ওই ঘরে মস্ত বড় তালা ঝোলানো, চাবি আমার কাছেও নাই। আমি এই বাংলোতে আছি প্রায় চল্লিশ বছর। ওই ঘরের তালা কোনোদিন খুলতে দেখি নাই। আর শুনেন, রাতের বেলা ওইদিক থেকে যদি কোনো কান্নাকাটি বা ভাঙচুরের আওয়াজও পান, ভুলেও দরজা খুলবেন না।"

কথাগুলো বলে রসিদ মিয়া আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না, হনহন করে নিচে নেমে গেল। আমরা চার বন্ধু একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলাম। রিফাতের এমনিতে ভূতের ভয় বেশি, সে ঢোক গিলে বলল, "দোস্ত, কাজটা কি ঠিক হলো? অন্য কোথাও তো যেতে পারতাম।" সাজিদ হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলল, "আরে ধুর! গ্রামের মানুষদের এসব কুসংস্কার থাকেই। চল ঘুমাই গিয়ে, কাল সকালে অনেক ঘুরতে হবে।"

পাহাড়ের রাত এমনিতে খুব চুপচাপ হয়। চারপাশের নিস্তব্ধতা এতটাই ভারী যে, নিজের নিশ্বাস ফেলার শব্দও পরিষ্কার শোনা যায়। রাত তখন হয়তো আড়াইটা। তীব্র শীত আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দের মাঝে হঠাৎ একটা ভারী লোহার ক্যাঁচক্যাঁচ আওয়াজে আমার ঘুম ভেঙে গেল। মনে হলো কেউ যেন ভারী কোনো লোহা বা শিকল ফ্লোর দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

আমার পাশের বিছানায় রিফাত অঘোরে ঘুমাচ্ছে। আমি সন্তর্পণে উঠে জানালার পর্দা সামান্য সরালাম। চাঁদের আলো বারান্দায় এসে পড়েছে। আমার চোখ গেল বারান্দার একেবারে শেষের সেই তিন নম্বর ঘরের দিকে। যা দেখলাম, তাতে আমার শিরদাঁড়া দিয়ে একটা শীতল স্রোত নেমে গেল।

রসিদ মিয়া যে বিশাল মরচে পড়া তালার কথা বলেছিল, সেটা এখন মাটিতে পড়ে আছে। আর আধা-খোলা কাঠের দরজাটার ফাঁক গলে বেরিয়ে আসছে পুরোনো দিনের হ্যারিকেনের হলদেটে আলো! অথচ আমি নিশ্চিত, ঘুমাতে আসার আগে ওই বারান্দায় কোনো আলো ছিল না।

বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল। আমি দ্রুত রিফাতকে ধাক্কা দিয়ে তুললাম। এরপর পা টিপে টিপে পাশের ঘরে গিয়ে সাজিদ আর তূর্যকেও ডাকলাম। তূর্যর ঘুম জড়ানো চোখ মুহূর্তেই বড় বড় হয়ে গেল। চারজন মিলে দরজা খুলে পা টিপে টিপে বারান্দায় এলাম।

কনকনে ঠান্ডায় আমাদের নিশ্বাস ধোঁয়ার মতো বেরোচ্ছে। কাঠের মেঝেতে আমাদের পায়ের আওয়াজ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। হ্যারিকেনের টিমটিমে আলো, একটা স্যাঁতস্যাঁতে পোড়া গন্ধ আর একটা চাপা কান্নার আওয়াজ আমাদের যেন চুম্বকের মতো তিন নম্বর ঘরের দিকে টেনে নিয়ে গেল।

দরজার সামান্য ফাঁক দিয়ে ভেতরে উঁকি দিতেই আমাদের রক্ত হিম হয়ে গেল।

ঘরের ভেতরটা আমাদের যুগের নয়। সেকেলে আসবাবপত্র, এক কোণায় একটা বিশাল আয়না। আর ঘরের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে ব্রিটিশ আমলের মিলিটারি পোশাক পরা এক দীর্ঘদেহী অফিসার। লোকটার পায়ে চামড়ার উঁচু বুট, হাতে একটা চাবুক। রাগে তার পুরো শরীর কাঁপছে। তার ঠিক সামনেই মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে ফুঁপিয়ে কাঁদছে লাল পেড়ে শাড়ি পরা এক বাঙালি নারী। মেয়েটির পিঠ আমাদের দিকে থাকায় মুখ দেখা যাচ্ছে না, তবে তার গগনবিদারী কান্নায় পুরো ঘরটা যেন ভারী হয়ে আছে।

হঠাৎ ব্রিটিশ অফিসারটি পৈশাচিক আক্রোশে চিৎকার করে উঠল, "ইউ ব্লাডি ট্রেইটর!" পরমুহূর্তেই হ্যারিকেনের আলোয় ঝলসে উঠল তার কোমরে থাকা একটা ধারালো তলোয়ার। এক কোপে...

আমরা চারজন পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের চোখের সামনে ঘটে গেল এক বীভৎস হত্যাকাণ্ড। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, ঘটনাটি একবার ঘটে শেষ হলো না। ঠিক একটা নষ্ট ক্যাসেট বা আটকে যাওয়া ভিডিওর মতো দৃশ্যটা বারবার ফিরে আসতে লাগল। লোকটা দাঁড়াচ্ছে, মেয়েটা কাঁদছে, আর তলোয়ার নেমে আসছে। লুপের মতো এই বীভৎস ঘটনাটি বারবার ঘটছে আমাদের চোখের সামনে।

আমরা যেন কোনো জাদুবলে সম্মোহিত হয়ে গেছি, চোখ ফেরাতে পারছি না। এক, দুই, তিন... চতুর্থবার দৃশ্যটা ঘটার সময় হঠাৎ একটা পরিবর্তন হলো।

মেয়েটির গগনবিদারী চিৎকারের সাথে সাথে এক ঝলক তাজা রক্ত ছিটকে এসে পড়ল দরজার ফাঁক গলে একদম আমাদের পায়ের কাছে! এক ফোঁটা গরম রক্ত ছিটকে লাগল রিফাতের গালে।

রক্তের সেই উষ্ণ স্পর্শে আমাদের ঘোর কাটল। রিফাত অস্ফুট একটা গোঙানি দিয়ে উঠল। আমরা আতঙ্কে পেছনের দিকে পা বাড়াব, ঠিক তখনই ঘরের ভেতরের দৃশ্যটা থেমে গেল।

ব্রিটিশ অফিসারটি ধীরে ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে দরজার দিকে তাকাল। তার মুখটা ফ্যাকাসে, চোখের মণি বলতে কিছু নেই, পুরোটা শুধু সাদা! তার ঠোঁটের কোণে একটা পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠল। সে দরজার দিকে এক পা এগোতেই আমরা আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ালাম না।

"দৌড়!" তূর্যর চাপা চিৎকারে আমরা চারজন জীবনের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে আমাদের ঘরের দিকে ছুটলাম।

দৌড়ে নিজেদের দুই নম্বর ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে ছিটকিনি আর ভারী খিলটা তুলে দিলাম। আমরা চারজন দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে হাঁপাচ্ছি। রিফাতের তখন ভয়ে জ্বরে গা কাঁপছে।

আমরা ভেবেছিলাম বিপদ হয়তো কেটে গেছে। কিন্তু না! বারান্দার কাঠের মেঝেতে এবার খুব স্পষ্ট শুনতে পেলাম সেই ভারী বুটের আওয়াজ। মচ... মচ... মচ...

আওয়াজটা তিন নম্বর ঘর থেকে বেরিয়ে ধীরে ধীরে আমাদের ঘরের দিকে এগিয়ে আসছে। আমাদের চারজনের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে এল। বুটের আওয়াজটা ঠিক আমাদের দরজার ওপাশে এসে থামল।

পুরো বাংলোতে পিনপতন নীরবতা। হঠাৎ আমাদের ঘরের দরজার পিতলের হাতলটা খুব ধীরে ধীরে ঘুরতে শুরু করল! কেউ একজন ভেতর থেকে লক করা দরজাটা খোলার চেষ্টা করছে। আমরা চারজন প্রাণপণে দরজায় পিঠ দিয়ে চেপে ধরে রাখলাম।

হঠাৎ দরজার ওপাশ থেকে সেই ব্রিটিশ অফিসারের গম্ভীর, অমানুষিক গলা ভেসে এল, "ইউ কান্ট হাইড ফ্রম মি..."

পরমুহূর্তেই এক প্রচণ্ড শব্দে আমাদের দরজার মাঝখানের ভারী কাঠ চিরে একটা তলোয়ারের তীক্ষ্ণ ফলা সোজা ভেতরে ঢুকে এল! ফলার মাথাটা তূর্যর গলা থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে কাঁপছে। আমরা আতঙ্কে ছিটকে পেছনের বিছানার ওপর গিয়ে পড়লাম।

তলোয়ারটা কয়েক সেকেন্ড ওভাবেই আটকে রইল। তারপর খুব ধীরে, ঘষটে ঘষটে কেউ যেন সেটা টেনে বের করে নিল। এরপর শুরু হলো আরেক বিভীষিকা। দরজার নিচ দিয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় কালো রক্ত আমাদের ঘরের মেঝেতে গড়িয়ে আসতে লাগল। হঠাৎ রিফাত ফিসফিস করে বলে উঠল, "দোস্ত... বাথরুমের ভেতরে কে কাঁদে?"

আমাদের ঘরের অ্যাটাচড বাথরুমের দরজাটা সামান্য খোলা। সেখান থেকে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে এক মেয়ের ফুঁপিয়ে কাঁদার আওয়াজ! ঠিক তিন নম্বর ঘরের সেই মেয়েটির মতো। এরপর শোনা গেল ছাদের ওপর থেকে ভারী বুটের মচ মচ শব্দ। কেউ যেন সারা রাত আমাদের ঘরের ছাদের ওপর পায়চারি করছে আর মাঝে মাঝে চাবুক আছড়ানোর শব্দ হচ্ছে। প্রতিটা মুহূর্ত যেন এক যুগ মনে হচ্ছিল। আমরা চারজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করে বসে রইলাম।

অবশেষে ভোরের আলো ফুটল। রসিদ মিয়া চা নিয়ে দরজায় কড়া নাড়ল। আমরা ভয়ে ভয়ে দরজা খুললাম। রসিদ মিয়ার দিকে না তাকিয়ে আমরা দরজার মাঝখানের সেই ফাটলটা দেখলাম। হ্যাঁ, রাতের সেই তলোয়ারের কোপের দাগটা দরজার কাঠে স্পষ্ট বসে আছে!

আমরা পাগলের মতো ছুটে গেলাম তিন নম্বর ঘরের দিকে। গিয়ে দেখি, দরজায় সেই বিশাল মরচে পড়া তালাটা ঠিক আগের মতোই ঝুলছে। ফ্লোরে কোনো রক্তের দাগ নেই।

আমাদের উষ্কখুষ্ক চেহারা আর দরজার কাটা দাগ দেখে রসিদ মিয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। চায়ের কাপগুলো টেবিলে রেখে নির্লিপ্ত গলায় বলল, "আপনাদের মানা করছিলাম না তিন নম্বর ঘরের দিকে যাইতে? ১৯৪০ সালে ক্যাপ্টেন আর্থার নামের এক ব্রিটিশ সাহেব তার বাঙালি স্ত্রীকে সন্দেহের বশে এই ঘরেই তলোয়ার দিয়া কোপাইয়া খুন করছিল। এরপর সাহেব নিজেও ওই ফ্যানের হুকের সাথে ঝুইলা মরে। সেই থিকা প্রতি অমাবস্যার রাইতে সাহেব তার বউরে ওইভাবেই মারে। চলেন বাবারা, আপনেগো ব্যাগ গোছান। এই বাংলোতে আপনেগো আর থাকা ঠিক হইব না।"

সেদিন সকালেই আমরা বাংলো ছাড়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলাম। কিন্তু আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় আর ভয়ংকর বিভ্রম তখনো বাকি ছিল।

তাড়াহুড়ো করে ব্যাগ গোছানোর সময় রিফাত হঠাৎ আর্তনাদ করে উঠল। আমরা দৌড়ে গিয়ে দেখি, রিফাতের ব্যাগের ভেতর রাখা ওর সাদা টি-শার্টটার ওপর লাল রঙের একটুকরো পুরোনো শাড়ির কাপড় রাখা। আর কাপড়টা থেকে তাজা গরম রক্ত টিপটিপ করে মেঝেতে পড়ছে! রিফাতের চোখ-মুখ তখন নীল হয়ে গেছে। তূর্য আর সহ্য করতে পারল না, ব্যাগটা জানালা দিয়ে সোজা বাইরের খাদে ছুঁড়ে ফেলল।

আমরা এক প্রকার দৌড়ে বাংলো থেকে বেরিয়ে আমাদের ভাড়া করা জিপে গিয়ে উঠলাম। ড্রাইভার ইঞ্জিন স্টার্ট দিতেই জিপটা গোঁ গোঁ করে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামতে শুরু করল।

আমি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে জানালা দিয়ে আরেকবার পেছনে বাংলোর দোতলার বারান্দার দিকে তাকালাম। দিনের আলোতেও আমার বুকের রক্ত জমে বরফ হয়ে গেল। তিন নম্বর ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে সেই সাদা চোখের ব্রিটিশ অফিসার! কিন্তু সবচেয়ে ভয়ানক দৃশ্যটা আমার হৃৎপিণ্ড থামিয়ে দিল—অফিসারের এক হাতে তলোয়ার, আর অন্য হাতে শক্ত করে ধরা একটা কাটা মুণ্ডু। মুণ্ডুটা অবিকল রিফাতের মতো দেখতে!

আমি আতঙ্কে চিৎকার করে পাশে বসা রিফাতের দিকে ঘুরলাম। রিফাত জানালার দিকে মুখ করে বসে ছিল। আমার চিৎকারে সে খুব ধীরে ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকাল।

তার মুখটা ফ্যাকাসে, চোখের মণি বলতে কিছু নেই—পুরোটা সাদা! তার ঠোঁটের কোণে একটা পৈশাচিক হাসি ফুটে উঠল। আমার কানের কাছে মুখ এনে সম্পূর্ণ অচেনা, ভারী ব্রিটিশ উচ্চারণে সে ফিসফিস করে বলল, "ইউ থট ইউ কুড লিভ উইদাউট মি? আই অ্যাম অলরেডি ইনসাইড!"

পরমুহূর্তেই আমাদের জিপের পেছনের ডিকি থেকে এক নারীর গগনবিদারী আর্তনাদ ভেসে এল। তারপর আমার আর কিছু মনে নেই।

জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে হাসপাতালের বিছানায় আবিষ্কার করি। খাদে পড়ে আমাদের জিপটা দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিল। আমি, তূর্য আর সাজিদ গুরুতর আহত হলেও বেঁচে গিয়েছিলাম। কিন্তু রিফাতকে আমরা আর কোনোদিন খুঁজে পাইনি। পুলিশের তল্লাশিতে জিপের ভেতর থেকে শুধু তার রক্তমাখা সাদা টি-শার্টটা আর লাল শাড়ির সেই ছেঁড়া টুকরোটি পাওয়া গিয়েছিল।

শ্রীমঙ্গলের সেই সবুজ চা বাগানের সৌন্দর্য আমাদের কাছে আজ এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন। আজও রাতের বেলা হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে আমার কানে ভেসে আসে সেই ভারী বুটের আওয়াজ, আর আমার মনে পড়ে রিফাতের সেই সাদা চোখ জোড়া যা আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কিছু অতীত কখনোই আমাদের পিছু ছাড়ে না।

Picked up where you left off
Discuss this part (0)

Conversation

(0)

Log in to join the conversation.

No comments on this chapter yet.