প্রথম অধ্যায়-বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
১. বিশ্বগ্রাম (Global Village)
এটি এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টপিক।
ধারণা: মার্শাল ম্যাকলুহান বিশ্বগ্রামের ধারণাটি প্রদান করেন। বিশ্বগ্রাম এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে পৃথিবীর মানুষ একে অপরের সাথে ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এমনভাবে সংযুক্ত থাকে যেন তারা সবাই একটি গ্রাম বা পরিবারের সদস্য।
মূল উপাদান: হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক, ডেটা এবং মানুষ।
২. বিশ্বগ্রামের উপাদানসমূহ
বিশ্বগ্রাম গড়ে ওঠার পেছনে প্রধানত ৮টি উপাদান কাজ করে:
যোগাযোগ (Communication): ই-মেইল, ভিডিও কনফারেন্সিং বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ।
কর্মসংস্থান (Employment): আউটসোর্সিং বা ঘরে বসে অনলাইনে কাজ করা।
শিক্ষা (Education): ই-লার্নিং, অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল লাইব্রেরি।
চিকিৎসা (Health Care): টেলিমেডিসিন, যেখানে দূর থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া যায়।
গবেষণা (Research): ইন্টারনেটের মাধ্যমে গবেষণার বিশাল ভাণ্ডার ব্যবহার।
অফিস (Office): ভার্চুয়াল অফিস বা ঘরে বসে দাপ্তরিক কাজ।
ব্যবসা-বাণিজ্য (Business): ই-কমার্স বা অনলাইনে কেনাকাটা।
বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগ (Entertainment & Social Networking): অনলাইন টিভি, গেম, ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি।
৩. বিশ্বগ্রামের প্রধান প্রযুক্তি
বিশ্বগ্রাম তৈরির জন্য যে প্রযুক্তিগুলো অপরিহার্য:
যোগাযোগ প্রযুক্তি (Communication Technology): টেলিফোন, ইন্টারনেট, কৃত্রিম উপগ্রহ ইত্যাদি।
কম্পিউটার প্রযুক্তি (Computer Technology): হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার।
মিডিয়া প্রযুক্তি (Media Technology): অডিও, ভিডিও এবং প্রিন্টিং প্রযুক্তি।
৪. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (Virtual Reality - VR)
এটি একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ যা বাস্তবের প্রতিচ্ছবি বা কৃত্রিম জগৎ তৈরি করে।
কীভাবে কাজ করে: হেডসেট, গ্লাভস এবং বিভিন্ন সেন্সর ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ কৃত্রিম জগতের অংশ হয়ে ওঠে।
ব্যবহার: চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রকৌশল নকশা, ফ্লাইট সিমুলেশন এবং গেম খেলার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার ব্যাপক।
৫. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence - AI)
মেশিনকে মানুষের মতো চিন্তা করার বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা দেওয়াই হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
উদাহরণ: রোবটিক্স, ভাষা অনুবাদকারী সফটওয়্যার, ফেস রিকগনিশন।
গুরুত্ব: জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধান এবং মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো নির্ভুলভাবে সম্পাদনের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
৬. রোবটিক্স (Robotics)
রোবট তৈরি এবং তাদের পরিচালনার প্রযুক্তিই হলো রোবটিক্স।
কাজ: শিল্পকারখানায় ভারী কাজ, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ, মহাকাশ গবেষণা বা বিপজ্জনক পরিবেশে মানুষ যা করতে পারে না, রোবট তা করতে পারে।
৭. ক্রায়োসার্জারি (Cryosurgery)
অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রা প্রয়োগ করে শরীরের অস্বাভাবিক বা অসুস্থ টিস্যু ধ্বংস করার প্রক্রিয়া।
ব্যবহার: সাধারণত টিউমার বা ক্যানসার আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। এতে টিস্যুর তাপমাত্রা মাইনাস ৪১ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ৮৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামিয়ে আনা হয়।
৮. বায়োমেট্রিকস (Biometrics)
মানুষের শারীরিক গঠন বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিকে শনাক্ত করার প্রযুক্তি।
প্রকারভেদ: ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপ), ফেস রিকগনিশন (মুখমণ্ডল), আইরিস স্ক্যান (চোখের মণি), ভয়েস রিকগনিশন (কণ্ঠস্বর), হ্যান্ড জিওমেট্রি ইত্যাদি।
৯. বায়োইনফরমেটিক্স (Bioinformatics)
জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন তথ্য (যেমন- DNA, প্রোটিন) বিশ্লেষণের জন্য কম্পিউটার প্রযুক্তি ও গাণিতিক মডেলের ব্যবহার।
ব্যবহার: রোগের কারণ নির্ণয়, নতুন ওষুধ উদ্ভাবন এবং জিন প্রকৌশলে এর ভূমিকা অপরিসীম।
১০. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic Engineering)
কোনো জীবের DNA পরিবর্তন করে নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীব তৈরি করা।
উদাহরণ: উচ্চফলনশীল শস্য উৎপাদন, রোগপ্রতিরোধী জাত তৈরি এবং জেনেটিক রোগের চিকিৎসায় এর ব্যবহার।
১১. ন্যানো টেকনোলজি (Nano Technology)
অণু বা পরমাণু পর্যায়ে বস্তুর পরিবর্তনের প্রযুক্তি। ১ ন্যানোমিটার = 10^{-9} মিটার।
ব্যবহার: অতি ক্ষুদ্র কম্পিউটার চিপ তৈরি, ন্যানো সেন্সর, নতুন ধরনের ঔষধ তৈরি এবং শক্তিশালী হালকা উপাদান তৈরিতে।
১২. আইসিটি ও নৈতিকতা (ICT and Ethics)
প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে কিছু নৈতিক চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে, যেমন:
সাইবার অপরাধ: হ্যাকিং, পাইরেসি বা তথ্য চুরি।
ইন্টারনেট আসক্তি ও গোপনীয়তা: ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি।
তথ্য আদান-প্রদান: ইন্টারনেটে ভুয়া তথ্য ছড়ানো বা কপিরাইট লঙ্ঘন।