Fiction Factory · The Bookshelf

Serials

Bangla books written chapter by chapter. Follow one and new chapters come to you.

Books
46
Authors
27
New today
0
The front shelf this week

অজানা মহাবিশ্ব খণ্ড ০১

অজানা মহাবিশ্ব খণ্ড ০১ একটি শব্দ, অথচ এর ভেতরেই যেন লুকিয়ে আছে অসীম রহস্যের এক মহাসমুদ্র। আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি, সেটি এই বিশাল মহাজগতের তুলনায় এক ক্ষুদ্র বিন্দুরও ক্ষুদ্রতর অংশ। আমাদের চারপাশের নক্ষত্র, গ্রহ, নীহারিকা, কৃষ্ণগহ্বর, গ্যালাক্সি এবং অদৃশ্য মহাজাগতিক শক্তিগুলো নিয়ে মানুষ হাজার বছর ধরে কৌতূহলী। কিন্তু মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, তার চেয়েও অনেক বেশি এখনো আমাদের অজানা। রাতের আকাশে যে অসংখ্য নক্ষত্র আমরা দেখি, তাদের প্রত্যেকটির পেছনে রয়েছে আলাদা আলাদা গল্প। কোনো নক্ষত্রের জন্ম হচ্ছে গ্যাস ও ধূলিকণার বিশাল মেঘ থেকে, কোনোটি তার জীবনের শেষ প্রান্তে বিস্ফোরিত হয়ে মহাকাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে ভারী মৌল, আবার কোনো কোনো নক্ষত্রের মৃত্যুর পর সৃষ্টি হচ্ছে নিউট্রন নক্ষত্র কিংবা কৃষ্ণগহ্বর। আমাদের সূর্যও একসময় জন্ম নিয়েছিল এমনই এক মহাজাগতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। অথচ সূর্য, সৌরজগত এবং আমাদের পৃথিবী সব মিলিয়েও মহাবিশ্বের বিশালতার সামনে প্রায় অদৃশ্য এক ক্ষুদ্র অধ্যায়। মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি হলো এর অধিকাংশই এখনো আমাদের কাছে সরাসরি অদৃশ্য। আমরা জানি ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির অস্তিত্ব সম্পর্কে, কিন্তু তাদের প্রকৃতি এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি। আমরা জানি মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে এবং সেই প্রসারণের ইতিহাস বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে চলে আসছে। আমরা মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ডের মাধ্যমে মহাবিশ্বের শৈশবের কিছু চিহ্ন দেখতে পাই। তবু মহাবিশ্বের শুরুতে ঠিক কী ঘটেছিল, তারও বহু প্রশ্ন এখনো উত্তরহীন। এই বই সেই অজানা প্রশ্নগুলোর দরজায় কড়া নাড়ার একটি প্রচেষ্টা। এখানে মহাবিশ্বকে শুধু দূরবর্তী নক্ষত্র ও গ্রহের সমষ্টি হিসেবে দেখা হবে না; বরং দেখা হবে সময়, স্থান, পদার্থ, শক্তি এবং জীবনের এক বিশাল মহাজাগতিক গল্প হিসেবে। পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সম্ভাবনা থেকে শুরু করে বহির্গ্রহ, কৃষ্ণগহ্বর, গ্যালাক্সির জন্ম-মৃত্যু, মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ এবং মানুষের মহাকাশ অনুসন্ধান প্রতিটি বিষয় আমাদের পরিচিত বাস্তবতার সীমানাকে আরও একটু দূরে নিয়ে যাবে। তবে “অজানা মহাবিশ্ব” কোনো রহস্যকাহিনি নয়, যেখানে কল্পনাকে সত্যের জায়গায় বসানো হবে। বিজ্ঞান যেখানে নিশ্চিত, সেখানে নিশ্চিত তথ্যই উপস্থাপন করা হবে; যেখানে গবেষণা এখনো চলমান, সেখানে অনিশ্চয়তাকে অনিশ্চয়তা হিসেবেই তুলে ধরা হবে। কারণ বিজ্ঞানের সৌন্দর্য শুধু উত্তর খুঁজে পাওয়ার মধ্যে নয় বরং কোন প্রশ্নের উত্তর এখনো আমরা জানি না, সেটি স্বীকার করার মধ্যেও রয়েছে। হয়তো কোনো একদিন মানুষ এমন কোনো গ্রহে প্রাণের সন্ধান পাবে, যা আজ আমাদের কাছে কেবল একটি দূরবর্তী আলোকবিন্দু। হয়তো কৃষ্ণগহ্বরের গভীরে লুকিয়ে থাকা প্রকৃতির কোনো নতুন রহস্য উন্মোচিত হবে। হয়তো ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি সম্পর্কে আমরা এমন কিছু জানতে পারব, যা আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে বর্তমান ধারণাকেই বদলে দেবে। আর হয়তো এমন কিছু প্রশ্ন থেকে যাবে, যার উত্তর খুঁজতে মানবসভ্যতাকে আরও হাজার বছর অপেক্ষা করতে হবে। এই বই সেই অজানার পথেই একটি যাত্রা। এমন এক যাত্রা, যেখানে প্রতিটি আবিষ্কার নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়, প্রতিটি উত্তর মহাবিশ্বকে আরও রহস্যময় করে তোলে, আর প্রতিটি নক্ষত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা মহাবিশ্বকে যতটা জানি, তার চেয়ে অসীম বেশি এখনো আমাদের জানার বাকি। “অজানা মহাবিশ্ব” তাই শুধু মহাকাশ নিয়ে একটি বই নয়; এটি মানুষের জানার আকাঙ্ক্ষা, প্রশ্ন করার সাহস এবং অজানাকে অনুসন্ধান করার এক মহাজাগতিক গল্প। উৎসর্গ এই বইটি উৎসর্গ করছি সকল জ্ঞানপিপাসু মানুষকে—যারা অজানাকে জানতে চায়, প্রশ্ন করতে ভালোবাসে এবং মহাবিশ্বের অসীম রহস্যের দিকে বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে থাকে। বিশেষ করে উৎসর্গ করছি আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য। তারা যেন পৃথিবীর সীমা ছাড়িয়ে মহাকাশের বিশালতাকে জানতে পারে, নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর গল্প বুঝতে পারে, কৃষ্ণগহ্বরের রহস্য নিয়ে ভাবতে পারে এবং উপলব্ধি করতে পারে—আমাদের পরিচিত এই পৃথিবী মহাবিশ্বের এক অসীম বিশাল অধ্যায়ের ক্ষুদ্র একটি অংশ মাত্র। এই বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা তাদের কৌতূহলকে আরও গভীর করুক, প্রতিটি প্রশ্ন তাদের নতুন প্রশ্ন করতে শেখাক এবং অজানাকে জানার সাহস জোগাক। হয়তো আজকের কোনো পাঠকই একদিন এমন কোনো আবিষ্কার করবে, যা বদলে দেবে মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণা। অজানাকে জানার এই যাত্রা থেমে না যাক এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক জ্ঞানের আলো। — এম মাহফুজ সরকার

Reads
1k+
Chapters
51
Followers
1
Comments
0

Latest: Chapter 51 · পাঠকের প্রতি · 3 weeks ago

01 Fresh chapters

Every shelf →

02 Most read

  1. 1

    অজানা মহাবিশ্ব খণ্ড ০১

    এম মাহফুজ সরকার

    200+

    reads

  2. 2

    মানি প্ল্যান্ট

    এম মাহফুজ সরকার

    200+

    reads

  3. 3

    মহাবিশ্ব খণ্ড ০১

    এম মাহফুজ সরকার

    200+

    reads

  4. 4

    নীলক্ষেত

    সুহৃদ সরকার

    200+

    reads

  5. 5

    বাবার ভালোবাসা

    PSYCHOVERSE

    100+

    reads

  6. 6

    লালবাগ কেল্লার শেষ প্রহর

    PSYCHOVERSE

    100+

    reads

  7. 7

    মাটি খেকো

    এম মাহফুজ সরকার

    100+

    reads

  8. 8

    অজানা মহাবিশ্ব খণ্ড ০২

    এম মাহফুজ সরকার

    100+

    reads

  9. 9

    নামার স্টপেজ

    সুহৃদ সরকার

    100+

    reads

  10. 10

    ক্ষমতার লড়াই খণ্ড ০২

    PSYCHOVERSE

    100+

    reads

03 Browse by genre

All books →

04 হরর

View all 7 →

05 Finished, start to end

All completed →
Completed · 51 ch.

অজানা মহাবিশ্ব খণ্ড ০১

এম মাহফুজ সরকার

অজানা মহাবিশ্ব খণ্ড ০১ একটি শব্দ, অথচ এর ভেতরেই যেন লুকিয়ে আছে অসীম রহস্যের এক মহাসমুদ্র। আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি, সেটি এই বিশাল মহাজগতের তুলনায় এক ক্ষুদ্র বিন্দুরও ক্ষুদ্রতর অংশ। আমাদের চারপাশের নক্ষত্র, গ্রহ, নীহারিকা, কৃষ্ণগহ্বর, গ্যালাক্সি এবং অদৃশ্য মহাজাগতিক শক্তিগুলো নিয়ে মানুষ হাজার বছর ধরে কৌতূহলী। কিন্তু মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, তার চেয়েও অনেক বেশি এখনো আমাদের অজানা। রাতের আকাশে যে অসংখ্য নক্ষত্র আমরা দেখি, তাদের প্রত্যেকটির পেছনে রয়েছে আলাদা আলাদা গল্প। কোনো নক্ষত্রের জন্ম হচ্ছে গ্যাস ও ধূলিকণার বিশাল মেঘ থেকে, কোনোটি তার জীবনের শেষ প্রান্তে বিস্ফোরিত হয়ে মহাকাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে ভারী মৌল, আবার কোনো কোনো নক্ষত্রের মৃত্যুর পর সৃষ্টি হচ্ছে নিউট্রন নক্ষত্র কিংবা কৃষ্ণগহ্বর। আমাদের সূর্যও একসময় জন্ম নিয়েছিল এমনই এক মহাজাগতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। অথচ সূর্য, সৌরজগত এবং আমাদের পৃথিবী সব মিলিয়েও মহাবিশ্বের বিশালতার সামনে প্রায় অদৃশ্য এক ক্ষুদ্র অধ্যায়। মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি হলো এর অধিকাংশই এখনো আমাদের কাছে সরাসরি অদৃশ্য। আমরা জানি ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির অস্তিত্ব সম্পর্কে, কিন্তু তাদের প্রকৃতি এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি। আমরা জানি মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে এবং সেই প্রসারণের ইতিহাস বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে চলে আসছে। আমরা মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ডের মাধ্যমে মহাবিশ্বের শৈশবের কিছু চিহ্ন দেখতে পাই। তবু মহাবিশ্বের শুরুতে ঠিক কী ঘটেছিল, তারও বহু প্রশ্ন এখনো উত্তরহীন। এই বই সেই অজানা প্রশ্নগুলোর দরজায় কড়া নাড়ার একটি প্রচেষ্টা। এখানে মহাবিশ্বকে শুধু দূরবর্তী নক্ষত্র ও গ্রহের সমষ্টি হিসেবে দেখা হবে না; বরং দেখা হবে সময়, স্থান, পদার্থ, শক্তি এবং জীবনের এক বিশাল মহাজাগতিক গল্প হিসেবে। পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সম্ভাবনা থেকে শুরু করে বহির্গ্রহ, কৃষ্ণগহ্বর, গ্যালাক্সির জন্ম-মৃত্যু, মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ এবং মানুষের মহাকাশ অনুসন্ধান প্রতিটি বিষয় আমাদের পরিচিত বাস্তবতার সীমানাকে আরও একটু দূরে নিয়ে যাবে। তবে “অজানা মহাবিশ্ব” কোনো রহস্যকাহিনি নয়, যেখানে কল্পনাকে সত্যের জায়গায় বসানো হবে। বিজ্ঞান যেখানে নিশ্চিত, সেখানে নিশ্চিত তথ্যই উপস্থাপন করা হবে; যেখানে গবেষণা এখনো চলমান, সেখানে অনিশ্চয়তাকে অনিশ্চয়তা হিসেবেই তুলে ধরা হবে। কারণ বিজ্ঞানের সৌন্দর্য শুধু উত্তর খুঁজে পাওয়ার মধ্যে নয় বরং কোন প্রশ্নের উত্তর এখনো আমরা জানি না, সেটি স্বীকার করার মধ্যেও রয়েছে। হয়তো কোনো একদিন মানুষ এমন কোনো গ্রহে প্রাণের সন্ধান পাবে, যা আজ আমাদের কাছে কেবল একটি দূরবর্তী আলোকবিন্দু। হয়তো কৃষ্ণগহ্বরের গভীরে লুকিয়ে থাকা প্রকৃতির কোনো নতুন রহস্য উন্মোচিত হবে। হয়তো ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি সম্পর্কে আমরা এমন কিছু জানতে পারব, যা আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে বর্তমান ধারণাকেই বদলে দেবে। আর হয়তো এমন কিছু প্রশ্ন থেকে যাবে, যার উত্তর খুঁজতে মানবসভ্যতাকে আরও হাজার বছর অপেক্ষা করতে হবে। এই বই সেই অজানার পথেই একটি যাত্রা। এমন এক যাত্রা, যেখানে প্রতিটি আবিষ্কার নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়, প্রতিটি উত্তর মহাবিশ্বকে আরও রহস্যময় করে তোলে, আর প্রতিটি নক্ষত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা মহাবিশ্বকে যতটা জানি, তার চেয়ে অসীম বেশি এখনো আমাদের জানার বাকি। “অজানা মহাবিশ্ব” তাই শুধু মহাকাশ নিয়ে একটি বই নয়; এটি মানুষের জানার আকাঙ্ক্ষা, প্রশ্ন করার সাহস এবং অজানাকে অনুসন্ধান করার এক মহাজাগতিক গল্প। উৎসর্গ এই বইটি উৎসর্গ করছি সকল জ্ঞানপিপাসু মানুষকে—যারা অজানাকে জানতে চায়, প্রশ্ন করতে ভালোবাসে এবং মহাবিশ্বের অসীম রহস্যের দিকে বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে থাকে। বিশেষ করে উৎসর্গ করছি আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য। তারা যেন পৃথিবীর সীমা ছাড়িয়ে মহাকাশের বিশালতাকে জানতে পারে, নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর গল্প বুঝতে পারে, কৃষ্ণগহ্বরের রহস্য নিয়ে ভাবতে পারে এবং উপলব্ধি করতে পারে—আমাদের পরিচিত এই পৃথিবী মহাবিশ্বের এক অসীম বিশাল অধ্যায়ের ক্ষুদ্র একটি অংশ মাত্র। এই বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা তাদের কৌতূহলকে আরও গভীর করুক, প্রতিটি প্রশ্ন তাদের নতুন প্রশ্ন করতে শেখাক এবং অজানাকে জানার সাহস জোগাক। হয়তো আজকের কোনো পাঠকই একদিন এমন কোনো আবিষ্কার করবে, যা বদলে দেবে মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণা। অজানাকে জানার এই যাত্রা থেমে না যাক এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক জ্ঞানের আলো। — এম মাহফুজ সরকার

Read from chapter 1 →
Completed · 30 ch.

"ছায়ার মানুষ" থ্রিলার উপন্যাস

এম মাহফুজ সরকার

কিছু রহস্যের কোনো শুরু নেই। কিছু রহস্যের শেষও হয় না। একটি নিখোঁজ মানুষ, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু, আর এমন একটি সূত্র যার অস্তিত্ব থাকার কথাই নয়। তদন্ত শুরু হতেই গোয়েন্দা বুঝতে পারে, ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়। অদৃশ্য কোনো হাত বহু বছর ধরে সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। কিন্তু সেই মানুষটি কে? যে মানুষটি প্রতিটি ঘটনার ছায়ায় উপস্থিত, অথচ কোথাও তার অস্তিত্বের প্রমাণ নেই। তদন্ত যত গভীরে যায়, সত্য ততই ভয়ংকর হয়ে ওঠে। কারণ কখনো কখনো অপরাধীকে খুঁজে পাওয়ার চেয়েও কঠিন হলো—কাকে বিশ্বাস করা যায়, তা বুঝে ওঠা। আর এই গল্পের সবচেয়ে বড় রহস্য? ছায়ার মানুষটি হয়তো অনেক কাছেই আছে।

Read from chapter 1 →
Completed · 36 ch.

মানি প্ল্যান্ট

এম মাহফুজ সরকার

মানুষের জীবনে অর্থের গুরুত্ব অপরিসীম। অর্থ আমাদের জীবনযাত্রাকে সহজ করে, স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি করে এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সাহস জোগায়। কিন্তু অর্থ উপার্জন করাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য নয়; বরং উপার্জিত অর্থকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা, সঞ্চয় করা এবং পরিকল্পিতভাবে বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তোলাই প্রকৃত আর্থিক প্রজ্ঞার পরিচয়। এই উপলব্ধি থেকেই ‘মানি প্ল্যান্ট’ বইটির ভাবনা। একটি ছোট বীজ থেকে যেমন ধীরে ধীরে একটি গাছ জন্ম নেয়, শিকড় বিস্তার করে, ডালপালা মেলে এবং একসময় ছায়া ও সৌন্দর্য ছড়ায়, তেমনি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও গড়ে ওঠে ছোট ছোট সঞ্চয়, সঠিক সিদ্ধান্ত, ধৈর্য এবং নিয়মিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে। আজকের সামান্য সঞ্চয় আগামী দিনের বড় সম্ভাবনার ভিত্তি হতে পারে। তবে অর্থের বৃদ্ধি কখনোই কেবল ভাগ্য বা আকস্মিক সাফল্যের ওপর নির্ভরশীল নয়; এর জন্য প্রয়োজন জ্ঞান, শৃঙ্খলা, দূরদর্শিতা এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা। আমাদের সমাজে অনেক মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করেন, কিন্তু সঠিক আর্থিক পরিকল্পনার অভাবে মাসের শেষে সঞ্চয় করতে পারেন না। কেউ অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ে নিজের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল করেন, কেউ আবার পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়াই বিনিয়োগ করে ক্ষতির মুখে পড়েন। অন্যদিকে, অনেকেই মনে করেন সম্পদ গড়তে হলে প্রচুর অর্থ দিয়ে শুরু করতে হয়। বাস্তবে আর্থিক পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বড় অঙ্কের টাকা নয়; বরং নিজের আয় ও ব্যয়ের হিসাব রাখা, প্রয়োজন ও বিলাসিতার মধ্যে পার্থক্য বোঝা, নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করা এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। ‘মানি প্ল্যান্ট’ শুধু অর্থ উপার্জনের কৌশল নিয়ে লেখা কোনো বই নয়; এটি অর্থের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক, আর্থিক অভ্যাস এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের মানসিকতা নিয়ে ভাবার একটি প্রয়াস। এই বইয়ের মাধ্যমে পাঠককে ব্যক্তিগত বাজেট তৈরি, সঞ্চয়ের গুরুত্ব, জরুরি তহবিল গঠন, ঋণের সঠিক ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগের প্রাথমিক ধারণা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আবেগ, লোভ, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দ্রুত ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা কীভাবে মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, সম্পদ মানেই শুধু ব্যাংক ব্যালান্স, জমি, বাড়ি কিংবা মূল্যবান সম্পত্তি নয়। প্রকৃত আর্থিক নিরাপত্তা হলো এমন একটি অবস্থান, যেখানে মানুষ নিজের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে, বিপদের সময় প্রস্তুত থাকতে পারে, পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা নিশ্চিন্তে পরিকল্পনা করতে পারে। অর্থ আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ, কিন্তু অর্থ যেন কখনো আমাদের জীবনের একমাত্র নিয়ন্ত্রক হয়ে না ওঠে। অর্থকে ব্যবহার করতে শিখতে হবে, অর্থের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে নয়। এই বইয়ের নাম ‘মানি প্ল্যান্ট’ প্রতীকী অর্থ বহন করে। যেমন একটি গাছের সুস্থ বিকাশের জন্য উপযুক্ত মাটি, পানি, আলো এবং পরিচর্যা প্রয়োজন, তেমনি আর্থিক সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন সঠিক জ্ঞান, নিয়মিত সঞ্চয়, বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত এবং সময়ের সদ্ব্যবহার। কোনো গাছ এক রাতেই বড় হয় না; তেমনি টেকসই সম্পদও সাধারণত এক দিনে তৈরি হয় না। ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ভিত্তি। আমি বিশ্বাস করি, এই বইয়ের পাঠক অর্থকে নতুনভাবে দেখতে শিখবেন—শুধু ব্যয়ের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব পালনকারী—যে কেউ নিজের আর্থিক জীবনকে আরও সুশৃঙ্খল করার জন্য এখান থেকে প্রয়োজনীয় ধারণা গ্রহণ করতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে, প্রতিটি মানুষের আয়, দায়িত্ব, লক্ষ্য ও ঝুঁকি গ্রহণের সামর্থ্য আলাদা। তাই যেকোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। পরিশেষে, ‘মানি প্ল্যান্ট’ বইটি পাঠকের হাতে এমন একটি বীজ তুলে দিতে চায়, যা থেকে জন্ম নিতে পারে আর্থিক সচেতনতা, সঞ্চয়ের অভ্যাস এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়। এই বীজের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব পাঠকের নিজের। কারণ আর্থিক স্বাধীনতার যাত্রা শুরু হয় অন্য কারও সম্পদ দেখে নয়, বরং নিজের সামর্থ্যকে বুঝে আজ থেকেই একটি সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্য দিয়ে। আপনার অর্থ হোক আপনার ভবিষ্যৎ গড়ার শক্তি, আপনার স্বাধীনতার ভিত্তি এবং আপনার স্বপ্ন পূরণের সহযাত্রী। — লেখক

Read from chapter 1 →

06 At the desk

For writers

Have a serial in you?

Set up a book, publish a chapter at a time, and let readers follow along. Chapters can be free or paid.

Open the studio