সে অনেক অনেক আগের কথা, এক দেশে ছিলো এক ছেলে। সে মেষ চড়াতো, গরু-ছাগল চড়াতো। তাই সবাই তাকে রাখাল বলতো।
তার ছিলো এক সৎ মা। কারণ তার নিজের মা তো সেই কবেই ওপারে চলে গিয়েছেন। তবে সৎমা-টি তার মোটেও ভালো ছিলো না। রাখালকে তো সে দেখতেই পারতোনা। আবার সৎ মায়ের নিজের এক ছেলেও ছিলো। বাড়িতে যত ভালো ভালো খাবার রান্না হতো সবই যেত তার নিজের ছেলের পেটে। বেচারা রাখালের ভাগে পড়ত শুধু পোড়া-বাসি ভাত, বাসি তরকারি। এমনকি মাছ মাংসের সবচেয়ে ছোট টুকরো টাও জুটতো না কখনো কখনো। এভাবে একবেলা আধবেলা খেয়ে সে কষ্টে দিন পার করতো।
একদিন হলো কি তার সৎমা তাকে বেশ পিটুনি দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিলো। কারণ ছিলো, রাখাল খিদের জ্বালায় তার সৎ ভাইয়ের জন্য রাখা খাবার থেকে একটুখানি খেয়েছিলো। তারপর হয়ে গেল কেলেঙ্কারি। তার সৎমা গেলো ভীষন রকম ক্ষেপে আর তাকে দিলো ইচ্ছেমতো পিটুনি।
সৎ মায়ের পিটুনি খেয়ে রাখাল কাঁদতে কাঁদতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। মনের দুঃখে সে তার মেষ এবং গরু-ছাগলের পাল নিয়ে চললো মাঠে। মাঠের ঠিক পাশে ছিল এক প্রকাণ্ড বটগাছ। সেই বট গাছটির ছায়ায় বসে সে কান্না করছিলো। কারণ তার ভীষন খিদে পেয়েছে।
তখনই পথ দিয়ে যাচ্ছিলো এক বুড়িমা। রাখালকে অমনভাবে কাঁদতে দেখে তার বড্ড মায়া হলো। সে রাখালের কাছে গিয়ে তার কান্নার কারণ জানতে চাইলো। রাখাল তাকে সবকিছু খুলে বললো। সব শুনে বুড়িমার বেশ কষ্ট লাগলো। বুড়িমা তার থলে থেকে একটা পিঠা বের করলো। সেই পিঠা সে রাখালকে দিয়ে দিলো আর বললো, " এই পিঠা তুই রাখ। এ যেন তেন পিঠা নয়। এই পিঠা তুই মাটিতে রোপণ করবি ঠিক চারা রোপণ করার মতো করে। তারপর দেখবি চমক। সেখান থেকে এক গাছ হবে আর সেই গাছের ফল হবে পিঠা। আর তুই যত চাস তত খেতে পারবি। তুই আর অভুক্ত থাকবি না।" এই বলে বুড়িমা বিদেয় নিলো।
রাখালের তো এসব বিশ্বাসই হচ্ছে না। তবুও সে বুড়িমার কথামতো মাঠের একপাশে পিঠা রোপণ করলো। রাতারাতি ঘটলো এক চমক। ভোরবেলা রাখাল এসে দেখল বুড়িমার কথা সত্যি হয়েছে। মাঠের একপাশে এক প্রকাণ্ড গাছ যার ফল পিঠা। ডালে ডালে পিঠা ধরে আছে। রাখালের খুশি দেখে কে। সে পিঠা গাছ থেকে একেরপর এক পিঠা তুলে খেতে লাগলো। আঃ স্বাদ যেন অমৃত।
এরপর রাখালকে আর কখনো অভুক্ত থাকতে হয়নি। তার যখনই খিদে পেতো সে চলে যেতো সেই পিঠা গাছে পিঠা খেতে। এভাবেই রাখালের দুঃখ ঘুচলো। ক