Story

মহাকাশে ম্যানেজারি

September 21, 2026

Obik 2

2
View

মহাকাশে ম্যানেজারি
অবিক আশরাফ স্বনন

৩০২৫ সাল। নাসার একটা ছোট্ট মিশন - "স্পেস ক্লিনআপ-৭"। মহাকাশের আবর্জনা সংগ্রহ করা। হ্যাঁ, খুবই গ্ল্যামারাস কাজ! ক্যাপ্টেন রাজু মিয়া - একজন বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার যিনি কোনোভাবে নাসায় চাকরি পেয়ে গেছেন। তার সাথে আছে: পাইলট জেনিফার "জেনি" স্মিথ - আমেরিকান, সিরিয়াস টাইপ। রোবোটিক্স এক্সপার্ট তাকেশি - জাপানি, খুব শান্ত এবং তাদের এআই রোবট "বাবু" - যেটা রাজু নিজে প্রোগ্রাম করেছে বাংলা-ইংরেজি মিক্স করে। তাই সে কখনো ইংরেজি কখনো বাংলা বলে। মহাকাশযানের নাম "জাঙ্ক কালেক্টর ৩০০০"।

মিশন শুরু হয় মহাকাশে। তাদের কাজ - পুরনো স্যাটেলাইট, রকেটের টুকরো, মহাকাশচারীদের ফেলে যাওয়া জিনিস সংগ্রহ করা। "আজকের টার্গেট," জেনি স্ক্রিন দেখে বলে, "একটা ১৯৮৫ সালের পুরনো স্যাটেলাইট। অরবিটে ভাসছে।"
"চলেন ধরি," রাজু উৎসাহিত। তারা স্যাটেলাইটের কাছে যায়। তাকেশি রোবোটিক আর্ম দিয়ে সেটা ধরার চেষ্টা করে। হঠাৎ স্যাটেলাইট থেকে একটা লাইট জ্বলে ওঠে। "ওহ," রাজু অবাক হয়। "এটা তো এখনো চালু!" "তাহলে এটা আবর্জনা নয়!" জেনি চিৎকার করে। দেরি হয়ে গেছে। তাকেশি ইতিমধ্যে আর্ম দিয়ে স্যাটেলাইট ধরে ফেলেছে এবং টেনে তাদের জাহাজে তুলছে। স্যাটেলাইট ভেতরে ঢোকার সাথে সাথে তাদের কন্ট্রোল প্যানেলে লাল লাইট জ্বলে ওঠে। "এটা কী?" রাজু প্যানিক করে। বাবু রোবট তার যান্ত্রিক গলায় বলে, "ক্যাপ্টেন সাব, আমরা একটা মিলিটারি স্পাই স্যাটেলাইট চুরি করে ফেলেছি। পেন্টাগন থেকে মেসেজ আসছে - 'ফিরিয়ে দাও নাহলে গ্রেফতার'।"
"কী বলছো!" রাজু চিৎকার করে।
জেনি হেডফোন লাগিয়ে শোনে। "ওরা বলছে এটা এখনো সিক্রেট মিশনে আছে। আমাদের তৎক্ষণাৎ ফিরিয়ে দিতে হবে।"
"তাহলে ফিরিয়ে দাও!" রাজু বলে।
তাকেশি চেষ্টা করে। কিন্তু রোবোটিক আর্ম জ্যাম হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট আটকে আছে।
"আই কান্ট রিলিজ ইট," তাকেশি শান্তভাবে বলে।
"মানে!?" রাজু চোখ বড় করে।
"আর্ম জ্যাম। স্যাটেলাইট স্টাক।"
ঠিক তখনই তাদের স্ক্রিনে একটা ভিডিও কল আসে। একজন কর্নেল - মুখ রাগে লাল।
"আপনারা কারা? কেন আমাদের স্যাটেলাইট চুরি করছেন?"
"স্যার, এটা ভুল!" রাজু হাত নেড়ে বলে। "আমরা ভেবেছিলাম এটা আবর্জনা!"
"আবর্জনা!? এটা একটা ২০০ মিলিয়ন ডলারের স্পাই স্যাটেলাইট!"
"আমাদের লিস্টে ছিল..."
"আপনাদের লিস্ট ভুল! এখনই ফিরিয়ে দিন!"
"আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু আর্ম জ্যাম হয়ে গেছে..."
"তাহলে ঠিক করুন! এক ঘণ্টার মধ্যে না হলে আপনাদের সবাইকে কোর্ট মার্শাল!"
কল কেটে যায়। রাজু মাথায় হাত দেয়। "আমরা শেষ।"
তাকেশি স্যাটেলাইটের কাছে যায় ম্যানুয়ালি ঠিক করতে। কিন্তু হঠাৎ স্যাটেলাইট থেকে একটা দরজা খুলে যায়। ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে... একটা এলিয়েন! ছোট্ট, সবুজ, বড় চোখ, তিন আঙুল। সবাই চিৎকার করে।
"এলিয়েন!" জেনি পেছনে সরে যায়।
এলিয়েনটা তাদের দিকে তাকিয়ে বলে - বাংলায়! "আরে ভাই, থ্যাংক গড! আমি এই স্যাটেলাইটে আটকে ছিলাম চল্লিশ বছর ধরে!" সবাই হতবাক।
"তুমি... বাংলা বলছো?" রাজু অবাক।
"হ্যাঁ! আমি ২০৮৫ সালে এই স্যাটেলাইটে ঢুকে পড়েছিলাম। তারপর আটকে গেছি। তোমাদের টিভি সিগন্যাল দেখে দেখে বাংলা শিখেছি। খুব ভালো লাগে বাংলা নাটক!"
জেনি ফিসফিস করে, "এটা কী হচ্ছে?"
এলিয়েনটা বলে চলে, "আমার নাম জর্বো। আমি জোর্নাক্স গ্রহ থেকে। আমি পৃথিবী ঘুরতে এসেছিলাম। কিন্তু ভুল করে এই স্যাটেলাইটে ঢুকে গেলাম, তারপর..."
"তুমি চল্লিশ বছর ধরে এখানে আটকা?" তাকেশি জিজ্ঞেস করে।
"হ্যাঁ! খাবার নেই, পানি নেই, শুধু সোলার পাওয়ার! আমি তো মরতে বসেছিলাম! তোমরা আমাকে বাঁচালে!"
হঠাৎ আবার ভিডিও কল। সেই কর্নেল।
"কী অবস্থা? ফিরিয়ে দিয়েছেন?"
রাজু ঘামতে শুরু করে। "স্যার, একটু সমস্যা..."
"কী সমস্যা?"
"আমরা... আমরা স্যাটেলাইটের ভেতরে একটা এলিয়েন পেয়েছি।"
কর্নেল চুপ হয়ে যায়। তারপর হাসতে শুরু করে। "হা হা হা! খুব মজার! এখন আমাকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন?"
"না স্যার, সিরিয়াসলি!"
রাজু ক্যামেরা ঘুরিয়ে জর্বোকে দেখায়।
জর্বো হাত নাড়ে। "হ্যালো!"
কর্নেলের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়। "এটা... এটা কী?"
"আমি বললাম তো এলিয়েন!"
কর্নেল কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকে। তারপর বলে, "স্ট্যান্ড বাই। আমি... আমি উপরের অফিসারদের জানাচ্ছি।"
কল কেটে যায়। জর্বো খুশি হয়ে বলে, "তোমরা আমাকে বাড়ি নিয়ে যাবে? আমার গ্রহ এখান থেকে শুধু দশ আলোকবর্ষ দূরে!"
"দশ আলোকবর্ষ!" জেনি চিৎকার করে। "আমরা জাঙ্ক কালেক্টর! কোয়ান্টাম ড্রাইভ নেই!"
"তাহলে কী হবে?" জর্বো মন খারাপ করে।
রাজু চিন্তা করে। "আচ্ছা, তোমার স্পেসশিপ কোথায়?"
"চাঁদের পেছনে পার্ক করে রেখেছিলাম। কিন্তু ৪০ বছর হয়ে গেছে, ব্যাটারি শেষ হয়ে গেছে নিশ্চয়ই।"
বাবু রোবট হঠাৎ বলে, "ক্যাপ্টেন সাব, একটা আইডিয়া আছে।"
"বলো!"
"আমরা যদি এই স্যাটেলাইটের সোলার প্যানেল ব্যবহার করে চাঁদে গিয়ে জর্বোর শিপ চার্জ করি?"
"তুমি পাগল? চাঁদে যাওয়ার পারমিশন নেই আমাদের!"
আবার ভিডিও কল। এবার শুধু কর্নেল নয়, তার পেছনে আরও কয়েকজন জেনারেল, এমনকি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাও!
"আপনারা... সত্যিই একটা এলিয়েন পেয়েছেন?" একজন জেনারেল জিজ্ঞেস করে।
"হ্যাঁ স্যার।"
জর্বো সামনে এসে বলে, "স্যার, আমি শান্তিপ্রিয়। আমি শুধু বাড়ি যেতে চাই। আমার বউ-বাচ্চারা আমাকে খুঁজছে নিশ্চয়ই।"
"আপনার বউ-বাচ্চা আছে?" উপদেষ্টা অবাক হন।
"হ্যাঁ! তিন বউ, পাঁচ বাচ্চা। আমাদের গ্রহে এটা নরমাল।"
জেনারেল বলেন, "আমরা আপনাকে সাহায্য করতে চাই। আপনার স্পেসশিপ কোথায়?"
"চাঁদে।"
"তাহলে আমরা একটা রেসকিউ মিশন পাঠাচ্ছি।"
"কতদিন লাগবে?" জর্বো জিজ্ঞেস করে।
"তিন মাস... প্ল্যানিং করতে, বাজেট পাস করতে..."
"তিন মাস!" জর্বো মন খারাপ করে।
রাজু হঠাৎ বলে, "স্যার, আমরা এখনই যেতে পারি।"
"কীভাবে?"

"আমাদের জাহাজ চাঁদে যেতে পারে। সময় লাগবে দুই দিন। আমরা জর্বোর শিপ চার্জ করে দেব, সে বাড়ি চলে যাবে।"

জেনারেল চিন্তা করেন। "ঠিক আছে। পারমিশন দেওয়া হলো। কিন্তু সাবধানে।"


দুই দিন পরে, তারা চাঁদের কাছে পৌঁছায়। জর্বো তার শিপ দেখিয়ে দেয় - একটা ছোট্ট, গোলাকার জাহাজ, একটা গর্তে লুকানো। তাকেশি স্যাটেলাইটের সোলার প্যানেল দিয়ে জাহাজ চার্জ করা শুরু করে। কয়েক ঘণ্টা পর, জাহাজের লাইট জ্বলে ওঠে।
"কাজ করছে!" জর্বো খুশি হয়ে লাফ দেয়।
সে তার জাহাজে ওঠে। "থ্যাংক ইউ! তোমরা আমার জীবন বাঁচালে! আমি কখনো ভুলব না!"

"তোমার বাড়ি পৌঁছাতে কতদিন লাগবে?" জেনি জিজ্ঞেস করে।

"আমার জাহাজে কোয়ান্টাম ড্রাইভ আছে। দুই সপ্তাহ।"
জর্বো হঠাৎ থামে। "আচ্ছা, তোমরা কি আমার সাথে আসবে? আমার গ্রহ দেখবে?"
"আমরা?" রাজু অবাক হয়।
"হ্যাঁ! টুরিস্ট হিসেবে! আমার গ্রহ খুব সুন্দর!"

রাজু, জেনি, তাকেশি একে অপরের দিকে তাকায়।

"আমরা জাঙ্ক কালেক্টর," জেনি বলে। "আমাদের কাজ আবর্জনা কুড়ানো।"

"তাই তো!" রাজু হাসে। "চলো! এটা একটা অ্যাডভেঞ্চার হবে!"

তারা সবাই জর্বোর জাহাজে ওঠে। বাবু রোবটও সাথে।

জাহাজ চালু হয়। একটা গুঞ্জন, তারপর ঝলকানি।

কোয়ান্টাম ড্রাইভ সক্রিয় হয়। তারা মহাকাশের গভীরে ছুটে যায়।

পৃথিবীতে, নাসার কন্ট্রোল রুমে প্যানিক।

"তারা... তারা এলিয়েনের সাথে পালিয়ে গেছে!"

কর্নেল মাথায় হাত দেয়। "ওই বাংলাদেশি ছেলেটা..."


**দুই সপ্তাহ পরে**

জর্বোর গ্রহ। সত্যিই সুন্দর - রঙিন আকাশ, দুটো চাঁদ, উড়ন্ত গাড়ি।

জর্বোর পরিবার তাদের স্বাগত জানায়। তার বউরা (তিনজন!) খুব খুশি। বাচ্চারা রাজুদের ঘিরে ধরে - "পৃথিবীর মানুষ! আসল!"

একটা বিশাল পার্টি হয়। এলিয়েন খাবার (যেটা আসলে বিরিয়ানির মতো টেস্ট করে, আশ্চর্যজনকভাবে!)

জর্বো রাজুকে বলে, "তুমি এখানে থেকে যাও।"

রাজু হাসে। "না। আমাদের বাড়ি ফিরতে হবে। কিন্তু আমরা আবার আসব।"

"সত্যি তো?"

"হ্যাঁ সত্যি ।"

তারা ফিরে আসে পৃথিবীতে। নাসায় একটা বিশাল সংবর্ধনা হয়। তারা প্রথম মানুষ যারা এলিয়েন সভ্যতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছে।

কিন্তু সবচেয়ে মজার ব্যাপার - রাজু এখন বিখ্যাত। তার ছবি স্পেস ম্যাগাজিনের কভারে।

"জাঙ্ক কালেক্টর থেকে স্পেস অ্যাম্বাসেডর!"

জেনি তাকে জিজ্ঞেস করে, "এখন কী করবে?"

রাজু হাসে। "এখনও আবর্জনা কুড়াব। কিন্তু এখন আরও মজা লাগবে।



































Comments

    Please login to post comment. Login