বুঝেছিস , তপন !
গতকাল মেয়েটাকে দেখলুম —
বেশ অনিন্দ্য বৈ কী !
ঝকঝকে ইংরেজি উচ্চারণে কীসব বলছিল অবিরাম ।
অত তো বুঝি নি কিছু —
তবে আঁচ করছিলাম ,
এরকম কোনো এক ভাষার জন্যে নাকি
যীশুদের ওখানকার এক উচ্চ বিদ্যালয়ে
নিতাই দা'র বাংলা সাবজেক্টের চাকরীটা হয়নি ।
ইন্টারভ্যুতে নিশ্চয় গর্দভটা বাংলায় বলছিলো ।
ওসব এখন কোনো ভাষা নাকি !
কীরকম গেঁয়ো গেঁয়ো গন্ধ !
ওসব দরিদ্র বর্ণে ,
কৃষকের স্যাঁতস্যাঁতে মুখ ভেসে ওঠে আজকাল ।
নিতাই'দা অবশ্য তারপর
পয়সা খরচে করে ও ভাষা শিখতে চেয়েছিল বটে !
কিন্তু খুব দূর এগোনো যায় নি ।
অর্থাভাবে পৈতৃক জমিখানা বিক্রির পর ,
যে সম্বলটুক পেয়েছিল —
সেটিই হয়েছিল তার আজন্ম কাল ।
চৌরাস্তার পাশ ঘেঁষে যে হাই স্কুলটি গেছে ; —
তার ঠিক পাশের এক সরু ড্রেনে
সে রাত ,
নিতাই দা'র লাশ পাওয়া গেল ।
যদিও বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল নিউজটি !
শহরের বড়ো বড়ো ইংরেজি সংবাদপত্রগুলো —
উচ্চমানের এ্যালফাবেট দিয়ে ,
নিতাই দা'র নাম লিখেছিল ।
মজুর-মস্তিষ্ক নিয়ে ছোকরাটা যেখানে গেলো ,
কী জানি সেখানে বাংলা বলা যায় কিনা !