যারা বলে, পুরুষ মানুষের কোনো মূল্য নেই,
তাঁরা কি দেখে না-
সামান্য টাকার বিনিময়ে
কখনো ঘণ্টা,
কখনো দিন,
কখনো সপ্তাহ,
কখনো পুরো মাস
বিক্রি হয়ে যায় তার শ্রম,
সময় আর জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো।
ভোরের আলো ফোটার আগেই
পিঠে তুলে নেয় দায়িত্বের বোঝা,
রাত গভীর হলেও
ফেরে আসে না স্বপ্নের কাছে,
ফিরে আসে শুধু ক্লান্ত শরীর নিয়ে।
তার চোখের নিচের কালো দাগ
কেউ গুনে না,
হাতের তালুর শক্ত চামড়া
কেউ দেখে না।
বেতনটা হাতে পৌঁছালে
সবাই খুশি হয়,
কিন্তু সেই বেতন আনতে
কত ঘাম ঝরেছে,
কত অপমান গিলেছে-
তার হিসাব রাখে কে?
পুরুষ কাঁদে,
তবে অনেক সময়
চোখ দিয়ে নয়-
দায়িত্বের ভারে,
নীরব দীর্ঘশ্বাসে,
অপূর্ণ স্বপ্নের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে।
সংসারের সুখ কিনতে গিয়ে
সে নিজের শখ বিক্রি করে,
সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে গিয়ে
নিজের বর্তমানকে বন্ধক রাখে,
বৃদ্ধ মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাতে
নিজের হাসিটাই ভুলে যায়।
তবু সে কোনো ফেরেশতা নয়,
সেও মানুষ-
তারও ব্যথা আছে,
ভাঙার শব্দ আছে,
ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে,
একটু সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে।
পুরুষের মূল্য
শুধু আয় দিয়ে মাপা যায় না,
তার মূল্য লুকিয়ে থাকে
অসংখ্য ত্যাগে,
অগণিত দায়িত্বে,
আর পরিবারের মুখে ফুটে ওঠা
এক চিলতে হাসিতে।
তাই বলি,
পুরুষকে অবহেলাও করো না।
সে মানুষ-
আর মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন
একটু সম্মান,
একটু ভালোবাসা,
আর তার নীরব ত্যাগের একটু স্বীকৃতি।