Fiction

বন্ধ করিডোর

October 7, 2026

30 views

রাত তখন প্রায় সাড়ে আটটা। বাইরে বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। লালবাগ কেল্লার পুরোনো দেয়ালের ওপর বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পড়ছিল, আর দূরের শহরের আলো ভেজা কুয়াশার মধ্যে ঝাপসা হয়ে উঠছিল। কেল্লার ভেতরে তখন আর কোনো দর্শনার্থী নেই। দিনের কোলাহল অনেক আগেই মুছে গেছে। কয়েকটি নিরাপত্তা বাতি ছাড়া পুরো প্রাঙ্গণ অন্ধকার। আরিয়ান জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল। তার মনে হচ্ছিল, সে যেন কেল্লার ভেতরে নেই; বরং কোনো বিশাল, নিঃশ্বাস নেওয়া প্রাণীর শরীরের মধ্যে আটকে আছে। চারপাশের দেয়ালগুলো নীরব, কিন্তু সেই নীরবতার মধ্যেও কোথাও যেন অদৃশ্য কোনো শব্দ চলমান। কখনো মনে হচ্ছিল কেউ দূরে হাঁটছে, কখনো মনে হচ্ছিল ভেজা কাপড়ের ঘর্ষণের শব্দ আসছে, আবার কখনো খুব ক্ষীণভাবে কোনো নারীর কান্নার মতো কিছু শোনা যাচ্ছে। কিন্তু সে নিশ্চিত হতে পারছিল না। বৃদ্ধ নিরাপত্তারক্ষী—যাকে সে এখন পর্যন্ত শুধু একজন সাধারণ প্রহরী মনে করেছিল—তার সামনে বসে ছিলেন। বৃদ্ধের নাম পরে আরিয়ান জানতে পারল, মতিউর রহমান। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। চোখের নিচে গভীর কালি, মুখে বহু বছরের ক্লান্তি, আর এমন এক ধরনের নীরবতা যেন জীবনে এমন অনেক কিছু দেখেছেন যার কথা বললে মানুষ বিশ্বাস করবে না। কিছুক্ষণ আগে তিনি বলেছিলেন, “আজ রাতে আপনি বাড়ি যাবেন না।” কথাটা তখন অদ্ভুত লেগেছিল। এখন আরিয়ানের কাছে সেটি সতর্কবার্তার মতো মনে হচ্ছিল। সে জিজ্ঞেস করল, “আপনি আমাকে যেতে দিচ্ছেন না, নাকি কিছু আমাকে যেতে দিচ্ছে না?” মতিউর চাচা ধীরে ধীরে তার দিকে তাকালেন। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বললেন, “দুটোর মধ্যে পার্থক্য খুব বেশি নেই।”

আরিয়ান টেবিলের ওপর রাখা পুরোনো রেজিস্টারের দিকে তাকাল। কিছুক্ষণ আগে সেখানে তার দাদার নাম ছিল। এখন সেই নাম নেই। কিন্তু তার মনে হচ্ছিল, নামটি মুছে যাওয়ার ঘটনাটিই সবচেয়ে ভয়ংকর নয়। ভয়ংকর হলো, সেই ফাঁকা পাতায় লেখা বাক্য—“পরের নামটি এখনও আসেনি।” সে বারবার সেই কথাটা মনে মনে পড়ছিল। “পরের নাম” বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? তাকে? নাকি অন্য কাউকে? সে রেজিস্টারের পাতাটা আবার উল্টে দেখতে চাইলে মতিউর চাচা হাত বাড়িয়ে বইটা বন্ধ করে দিলেন। “আর দেখবেন না।” আরিয়ান বলল, “কেন?” “কারণ সবকিছু দেখে ফেলা ভালো নয়।” “আমি ইতিহাস নিয়ে কাজ করি।” “ইতিহাস আর যা এখানে আছে, দুইটা এক জিনিস নয়।” আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর বলল, “আমার দাদা এখানে কী দেখেছিলেন?” বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। “আপনার দাদা প্রথমে কেবল পুরোনো স্থাপত্যের নথি দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি এমন একটি করিডোর খুঁজে পান, যার কথা কোনো সরকারি নকশায় নেই।” আরিয়ানের বুকের ভেতর কেঁপে উঠল। “করিডোর?” বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন। “হ্যাঁ। বন্ধ করিডোর।” “কোথায়?” বৃদ্ধ উত্তর দিলেন না। “আপনি জানেন?” এবারও নীরবতা। আরিয়ান বলল, “আমাকে সেখানে নিয়ে চলুন।” মতিউর চাচা হঠাৎ এমনভাবে তার দিকে তাকালেন যেন আরিয়ান কোনো নিষিদ্ধ শব্দ উচ্চারণ করেছে। “না।” “কেন?” “কারণ আপনার দাদা সেখানে গিয়েছিলেন।” “তাই তো আমি যেতে চাই।” “আপনার দাদা ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু পুরোপুরি ফিরে আসেননি।” আরিয়ান কথাটা বুঝতে পারল না। “মানে?” বৃদ্ধ খুব ধীরে বললেন, “শরীরটা ফিরেছিল।”

কথাটা বলার পর ঘরটায় কয়েক সেকেন্ড এমন নীরবতা নেমে এল যে বাইরে বৃষ্টির শব্দও যেন দূরে সরে গেল। আরিয়ান বৃদ্ধের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। “আপনি কি বলতে চাইছেন আমার দাদা...?” বৃদ্ধ তাকে থামিয়ে দিলেন। “আমি কিছু বলতে চাইছি না। আমি যা দেখেছি, শুধু সেটাই বলছি।” “কী দেখেছিলেন?” “যেদিন আপনার দাদা শেষবার এখানে এসেছিলেন, সেদিন তিনি একা ঢুকেছিলেন। রাত তখন প্রায় এগারোটা। তার হাতে একটা পুরোনো নকশা ছিল। তিনি আমাকে বলেছিলেন, যদি তিনি এক ঘণ্টার মধ্যে না ফেরেন, যেন উত্তর দিকের গেট বন্ধ করে দিই।” “তারপর?” “তিনি প্রায় চল্লিশ মিনিট পর ফিরে এসেছিলেন।” “তাহলে?” “তিনি হাঁটছিলেন, কিন্তু আমাকে চিনতে পারছিলেন না।” আরিয়ানের গলা শুকিয়ে গেল। “কতক্ষণ?” “প্রায় পাঁচ মিনিট। তারপর হঠাৎ যেন ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। আমাকে দেখে বললেন—‘আমি কোথায়?’” বৃদ্ধ থামলেন। “আমি বললাম, কেল্লায়। তিনি বললেন, ‘না, আমি তো কেল্লার ভেতরে ঢুকিনি।’” আরিয়ান ধীরে ধীরে বলল, “তারপর?” “তারপর তিনি আমাকে একটা কাগজ দিয়ে বলেছিলেন, এটা যেন কোনোদিন কাউকে না দিই।” “কাগজটা কোথায়?” বৃদ্ধ এবার তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন, “আপনার কাছেই।”

আরিয়ান চমকে উঠল। “আমার কাছে?” বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন। “আপনার দাদার পুরোনো কাগজগুলোর মধ্যে।” আরিয়ান দ্রুত নিজের ব্যাগ খুলে নথিগুলো বের করল। পাতাগুলো একে একে উল্টাতে লাগল। সে আগেও এই নথি বহুবার দেখেছে। কিন্তু এবার পাতাগুলো অন্যরকম মনে হচ্ছিল। একটি পাতার ভাঁজ খুলতেই একটি পাতলা কাগজ মেঝেতে পড়ে গেল। আরিয়ান অবাক হয়ে সেটি তুলে নিল। কাগজটি এত পাতলা ও পুরোনো যে সামান্য চাপেই ছিঁড়ে যেতে পারে। তাতে হাতে আঁকা একটি নকশা। কয়েকটি দেয়াল, কয়েকটি ঘর, একটি সরু পথ। কিন্তু সবচেয়ে অদ্ভুত ছিল একটি কালো রেখা, যা কেল্লার উত্তর অংশ থেকে শুরু হয়ে একটি বৃত্তাকার চিহ্নের কাছে গিয়ে থেমেছে। পাশে দাদার হাতের লেখা—“এটা নকশায় নেই।” আরেকটি বাক্য—“কিন্তু দেয়ালটা আছে।” আর তার নিচে ছোট করে লেখা—“দরজা দেখা যায় না, যতক্ষণ না কেউ অপেক্ষা করে।” আরিয়ান কাগজের দিকে তাকিয়ে রইল। মতিউর চাচা খুব ধীরে বললেন, “এই নকশাটাই তিনি আমাকে দিয়েছিলেন।”

আরিয়ান বলল, “আপনি এত বছর ধরে এটা লুকিয়ে রেখেছিলেন?” “আমি লুকাইনি। আপনার দাদা আমাকে বলেছিলেন, সময় হলে এটা আপনার কাছে যাবে।” “কোন সময়?” বৃদ্ধ উত্তর দিলেন না। আরিয়ান আবার নকশার দিকে তাকাল। সেখানে একটি সরু করিডোর আঁকা। করিডোরের শুরুতে কোনো দরজা নেই। শেষে একটি বৃত্ত। বৃত্তের ভেতরে লেখা—৩১৭। সে কাঁপা গলায় বলল, “এটা কোথায়?” বৃদ্ধ বললেন, “আপনি দেখতে চান?” “হ্যাঁ।” বৃদ্ধ অনেকক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। “তাহলে একটা কথা মনে রাখবেন। আপনি যা দেখবেন, তার সবকিছু বিশ্বাস করবেন না। আর যা শুনবেন, তার কোনো উত্তর দেবেন না।” তারা ঘর থেকে বেরিয়ে এল। করিডোরের বাতিগুলো তখন আরও ম্লান হয়ে গেছে। দূরে কোথাও পানি পড়ার শব্দ। মতিউর চাচা সামনে হাঁটছিলেন, আরিয়ান পেছনে। কয়েকটি বাঁক পেরিয়ে তারা এমন একটি জায়গায় এল, যেটা আরিয়ান দিনের বেলায় দেখেছে বলে মনে করতে পারল না। দেয়ালের পাশে একটি সরু অংশ ছিল, যেখানে পুরোনো ইট দিয়ে একটি পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উপরে আধুনিক কোনো চিহ্ন নেই। কিন্তু নকশার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতেই আরিয়ানের বুক ধক করে উঠল। ঠিক একই জায়গা। সে ফিসফিস করে বলল, “এখানেই?” বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন।

দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে আরিয়ান হাত দিয়ে ইট ছুঁল। আশ্চর্যভাবে দেয়ালটি অন্য অংশের তুলনায় ঠান্ডা। প্রায় বরফের মতো। সে হাত সরিয়ে নিল। “এটা এত ঠান্ডা কেন?” বৃদ্ধ বললেন, “কারণ ওপাশে বাতাস আছে।” আরিয়ান তাকাল। “কিন্তু ওপাশে তো দেয়াল।” “আপনি নিশ্চিত?” কথাটা শুনে সে আবার দেয়ালের দিকে তাকাল। বৃদ্ধ পকেট থেকে একটি পুরোনো টর্চ বের করলেন। আলো ফেলে দেয়ালের নিচের অংশ দেখালেন। সেখানে খুব ক্ষীণ একটি রেখা। যেন দুটি ইটের মাঝখানে ফাঁক। আরিয়ান হাঁটু গেড়ে বসে আঙুল দিয়ে জায়গাটা ছুঁতেই ভেতর থেকে বাতাসের ঠান্ডা ঝাপটা তার মুখে এসে লাগল। সে সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল। “এখানে সত্যিই ফাঁকা জায়গা আছে।” বৃদ্ধ বললেন, “হ্যাঁ।” “তাহলে খুললেন না কেন?” “কারণ দরজা নেই।” “তাহলে কীভাবে ঢুকব?” বৃদ্ধ উত্তর দিলেন, “দরজা যখন নিজে থেকে খুলবে।”

কথাটা শেষ হতেই দূরে কোথাও ঘড়ির মতো একটি শব্দ হলো। টং। তারপর আরেকটি। টং। আরিয়ান নিজের ঘড়ির দিকে তাকাল। সময় রাত ৯টা ৩১। সে কিছু বলতে যাচ্ছিল, তখন দেয়ালের ভেতর থেকে খুব ক্ষীণ শব্দ এল। যেন কেউ অন্য পাশ থেকে হাত দিয়ে দেয়াল ছুঁয়ে দেখছে। একবার। তারপর আবার। তারপর তিনবার দ্রুত। ঠক। ঠক। ঠক। মতিউর চাচা পিছিয়ে গেলেন। “চলুন।” আরিয়ান বলল, “একটু অপেক্ষা করুন।” “না।” “ভেতরে কেউ আছে।” বৃদ্ধ তার দিকে তাকালেন। “হ্যাঁ।” “কে?” “যে অপেক্ষা করছে।” “কার জন্য?” বৃদ্ধের মুখে এমন এক অভিব্যক্তি ফুটে উঠল, যা আরিয়ান আগে কখনো দেখেনি। তিনি খুব ধীরে বললেন, “আপনার জন্য।”

হঠাৎ দেয়ালের একটি ইট সামান্য নড়ে উঠল। আরিয়ান নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইল। ইটটি যেন ভেতর থেকে কেউ ঠেলে দিয়েছে। সামান্য ফাঁক তৈরি হলো। সেই ফাঁক দিয়ে অন্ধকার দেখা গেল। কোনো আলো নেই। কিন্তু অন্ধকারটাও সাধারণ অন্ধকার নয়। যেন তার ভেতরে আরও গভীর কোনো জায়গা রয়েছে। আরিয়ান হাত বাড়াতে চাইলে বৃদ্ধ তাকে টেনে ধরলেন। “না!” ঠিক সেই মুহূর্তে ফাঁক দিয়ে একটি ছোট কাগজ বেরিয়ে মেঝেতে পড়ে গেল। কোনো হাত দেখা গেল না। কাগজটা নিজে থেকেই যেন বাইরে চলে এসেছে। আরিয়ান নিচু হয়ে কাগজটি তুলল। তাতে মাত্র একটি বাক্য—“তুমি দেরি করে ফেলেছ।”

আরিয়ানের বুকের ভেতর অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ল। “কে লিখেছে?” বৃদ্ধ বললেন, “আপনার দাদা।” আরিয়ান কাগজটি উল্টে দেখল। পেছনে একটি তারিখ। ১৯৮৭ সালের সেই রাত। কিন্তু তারিখের নিচে লেখা সময়—৩:১৭। আরিয়ান এবার বুঝতে পারল, ৩১৭ কোনো কাকতালীয় সংখ্যা নয়। এটা সময়। কোনো ঘটনার সময়। এমন একটি ঘটনা, যা তার দাদা দেখেছিলেন। সে নকশাটা আবার খুলে দেখল। করিডোরের শেষে আঁকা বৃত্তের পাশে এবার তার চোখে নতুন কিছু পড়ল। আগে খেয়াল করেনি। খুব ছোট অক্ষরে লেখা—“তৃতীয় দরজা।” সে বলল, “তৃতীয় দরজা কোথায়?” বৃদ্ধ বললেন, “আমি জানি না।” “আপনি মিথ্যা বলছেন।” “হয়তো।” “তাহলে আপনি আমাকে এখানে আনলেন কেন?” বৃদ্ধ দীর্ঘক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, “কারণ আজ রাতে প্রথম দরজা খুলেছে।”

আরিয়ান চারপাশে তাকাল। “প্রথম দরজা?” বৃদ্ধ বললেন, “যে দেয়ালের কাছে আপনি গিয়েছিলেন, সেটাই প্রথম দরজা।” “দ্বিতীয়?” বৃদ্ধ উত্তর দিলেন না। ঠিক তখনই করিডোরের অন্য প্রান্ত থেকে একটি নারীকণ্ঠ ভেসে এল—“আরিয়ান...” সে জমে গেল। কণ্ঠটা খুব কাছে। অথচ করিডোরের শেষ প্রান্ত অন্ধকার। আবার সেই কণ্ঠ—“তুমি কি সত্যিই মনে করো, তোমার দাদা তোমাকে বাঁচাতে চেয়েছিল?” আরিয়ান কিছু বলল না। মতিউর চাচা চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কণ্ঠটি এবার হাসল। “সে তোমাকে এখানে পাঠিয়েছিল।” আরিয়ানের বুকের ভেতর যেন বিস্ফোরণ হলো। “না,” সে ফিসফিস করে বলল। কণ্ঠটি বলল, “হ্যাঁ।” তারপর খুব ধীরে বলল, “কারণ সে জানত, তার বদলে একদিন কাউকে আসতেই হবে।”

দেয়ালের ফাঁক হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। আরিয়ান এগিয়ে গিয়ে হাত রাখল। সবকিছু আবার আগের মতো। যেন কিছুই হয়নি। কিন্তু মেঝেতে পড়ে থাকা কাগজটি তার হাতে রয়ে গেছে। সে কাগজটি মুঠোয় চেপে ধরল। তার মনে হচ্ছিল, তার দাদার প্রতি এতদিনের বিশ্বাসে প্রথমবার একটি ফাটল তৈরি হয়েছে। দাদা কি সত্যিই তাকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন? নাকি এত বছর ধরে অজান্তেই তাকে এই জায়গার দিকে ঠেলে দিয়েছেন? তার কাছে থাকা পুরোনো নথি, লোহার চাবি, রেজিস্টার, অদৃশ্য করিডোর—সবকিছু যেন একই রহস্যের অংশ। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন অন্য—তার দাদা কীভাবে জানতেন যে একদিন আরিয়ান এখানে আসবে?

তারা ধীরে ধীরে সেখান থেকে ফিরে আসতে লাগল। করিডোরের শেষ প্রান্তে পৌঁছানোর সময় আরিয়ান হঠাৎ পিছনে তাকাল। দেয়ালটি আগের মতোই বন্ধ। কিন্তু সে স্পষ্ট দেখতে পেল, দেয়ালের মাঝখানে একটি সরু কালো রেখা তৈরি হয়েছে। রেখাটি ধীরে ধীরে একটি দরজার আকৃতি নিচ্ছে। আর সেই দরজার ওপরে কোনো সংখ্যা নেই। শুধু একটি নাম লেখা। তার নিজের নাম।

আরিয়ান।

সে চোখের পলক ফেলল। লেখাটি নেই। দেয়াল আবার স্বাভাবিক। কিন্তু তার কানে তখনও একটি ফিসফিসানি বাজছিল—“তৃতীয় দরজার আগে দ্বিতীয় দরজা খুঁজে বের করো।”

সেই রাতেই আরিয়ান প্রথমবার বুঝল, লালবাগ কেল্লার রহস্য কোনো একটি ঘর, দেয়াল বা দরজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি পথ। সেই পথের শুরু বহু বছর আগে, তার দাদার সময়ে। আর এখন সেই পথের পরবর্তী পদক্ষেপ তার নিজের। কিন্তু সে জানত না, এই পথের শেষ কোথায়। শুধু জানত, রাত যত গভীর হবে, কেল্লা তত বেশি জেগে উঠবে। আর কোথাও, কোনো অদৃশ্য ঘড়িতে, সময় ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে—৩টা ১৭ মিনিটের দিকে।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+40 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login