জানালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো নুসাইবা। তারপর ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দিল।
রিয়াদ একপলক তাকিয়ে নিল নুসাইবার দিকে। মনে মনে, এবার নাটক করতে আসছে এতো রাতে।
তারপর ঘুমানোর ভান করে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লো।
নুসাইবা রিয়াদের কাছে এসে রেগে চাদর টান দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিল ফ্লোরে।
রিয়াদ বলল, কি করছো? ঘুমাতে দাও।
নুসাইবা রেগে বলল, সারাদিন খালি ঘুম আর ঘুম আমাকে সময় দিবা কখন?
রিয়াদ বলল, সকালে সময় দিব এখন যাও।
নুসাইবা বলল, যাবো না। সরো আমিও তোমার সাথে ঘুমাবো।
রিয়াদ বলল, কেউ দেখে ফেললে।
নুসাইবা বলল, দেখলে দেখুক। আই ডোন্ট কেয়ার।
তারপর নুসাইবা ফ্লোরের থেকে চাদর নিয়ে ছড়িয়ে ফেলল বিছানায়। রিয়াদকে পুরো ঢেকে দিল চাদর দিয়ে। তারপর নিচেও খাটে উঠে চাদের ভেতর ঢুকে শুয়ে পড়ে রিয়াদের পাশে।
রিয়াদ একটা কোলবালিশ তাদের মাঝখানে রাখে। নুসাইবা রেগে কোলবালিশটি ফ্লোরে ফেলে দেয়। তারপর রিয়াদের হাত ধরে নিজের বুকে ওপর রাখে।
রিয়াদ এক অদ্ভুত অনুভূতি পায়। নরম উষ্ণতায় হাত সড়িয়ে নেয় রিদায়।
রিয়াদ বলে, ঘুমাও তুমি আমার হাত নিয়ে ঘুমাতে হবে না।
নুসাইবা বলে, হাতটা দাও। না হলে আমি কিন্তু রেগে যাবো।
রিয়াদ বলে, রেগে গেলে যাও আমার কী?
নুসাইবা রেগে বলে, তোর গার্লফ্রেন্ড হই আমি শুয়োর।
রিয়াদ বলে, তো?
নুসাইবা বলে, তোর ওপর শুধু আমার অধিকার।
রিয়াদ বলে, বাট আমার জড়াজড়ি পছন্দ না।
কথাটা বলে রিদায় অন্যপাশ ফিরে ঘুমানোর ভান করে।
এবার নুসাইবা রিয়াদকে ধাক্কা দিয়ে সোজা করে রিয়াদের বুকের ওপর উঠে পড়ে।
রিয়াদ বলে, নামো। তুমি খুব ভারী।
নুসাইবা বলে, এবার উচিত শিক্ষা হয়েছে। এবার এভাবেই ঘুমাও। আর হাতটা দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরো।
রিয়াদ বলে, কখনও না।
নুসাইবা রেগে রিয়াদের নাক টান দিয়ে বলে, সালা খেত। একটু রোমান্টিক হ।
রিয়াদ বলে, হবো না।
নুসাইবা জোরে নিঃশ্বাস ফেলে। তারপর ঘরের বাতি নীভে যায়। পুরো ঘর অন্ধকার হয়ে যায়। (বুদ্ধিমানরা বুঝে নিবে, লাইট অফ মানে কী?)
ভোর ৫টায়। নুসাইবা জানালা দিয়েই চলে যায়। রিয়াদ দরজা খুলে দেখে মকবুল দরজার বাইরে হেলায় দিয়ে ঘুমাচ্ছে।
রিয়াদ বলে, বেচারা মকবুল৷
তারপর রিয়াদ মকবুল এর হাতের থেকে চাপাতি টা নিয়ে সড়িয়ে ফেলে কেউ দেখার আগেই৷ রিয়াদ জানে তার খালতো ভাই মকবুল ও ইরান তাকে মারার পরিকল্পনা করছে। তবে রিয়াদ বুঝেও না বোঝার ভান করে।
রিয়াদ পাকের ঘরে আসে। দেখে তার শিউলি খালা সকালবেলা রংচা বানাচ্ছে।
রিয়াদ বলে, খালা একটু চা হবে?
শিউলি খালা রিয়াদকে প্লাস্টিকের কাপে চা দেয়।
রিয়াদ চা খেয়ে বাড়ির পেছনে জঙ্গলে এসে সিগারেট ধরায়। আর ব্যয়াম করতে থাকে। এরকম সময় ইরান তাকে দূর থেকে দেখছিল। ইরান ভাবে এটাই আসল সময় রিয়াদকে মেরে ফেলার।
ইরান লুকিয়ে ছিল গাছের পেছনে। তারপর গামছা দিয়ে নিচের মুখ ও চুল সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে শুধু চোখটা খোলা রাখে। তারপর হাতে চাকু নিয়ে রিয়াদকে মারতে যায়।
রিয়াদ তখন একটা গাছে ঝুলছিল আর ব্যায়াম করছিল। তার ঠোটে ঝলন্ত সিগারেট। তখনই ইরান চাকু দিয়ে রিয়াদের পিঠে একটা টান দেয়। সঙ্গে সঙ্গে রিয়াদের কালো শার্ট ছিড়ে রক্ত বের হয়। রিয়াদের পিঠ ব্যথায় শির শির করে। তবে রিয়াদ কোন রিয়েক্ট করে না।
গাছ থেকে নেমে পেছনে তাকায়। চোখ দেখেই রিয়াদ চিনতে পারে ইরানকে। তবুও না চেনার ভান করে। কারন এখানে জায়গা জমিনের যুৃদ্ধ চলছে।
ইরান আবার চাকু চালায় রিয়াদের কাধে। সঙ্গে সঙ্গে শার্ট ছিড়ে চামড়া কেটে রক্ত দেখা যায়।
রিয়াদ একটু মুচকি হাসে। তারপরই ইরানের হাটুর ওপর পা ঢুকিয়ে ইরান কে শূন্যে তুলে মাটিতে আছাড় মারে। ইরান আছাড় খেয়ে হাত থেকে চাকু পড়ে যায় একটু দূরে রিয়াদের পায়ের কাছে। ভয়ে ইরান উঠে দাড়ায় আর দৌড় দেয়।
রিয়াদ পায়ের কাছ থেকে চাকু নিয়ে ছুয়ে মারে ইরানের দিকে। তবে তার লক্ষ্য ছিল গাছ। চাকু ইরানের পাশ কাটিয়ে গাছে গিয়ে গেথে যায়। তবে ইরান যে খুব ভয় পেয়েছে তা বোঝা যায়।
একটু থেমে ইরান ভাবে আমাকে পালালে চলবে না। গাছের থেকে চাকুটা খুলে ছুড়ে মারে রিয়াদকে নিশানা করে। তারপর....?
#যৌদ্ধা_৩
#রুদ্র_সিয়াম