Novel

গোলামের গোপন সম্রাজ্য

October 10, 2026

38 views

গোলামের গোপন সাম্রাজ্য

পর্ব ১: গরিব জামাইয়ের অজানা পরিচয়

লেখক: মোহাম্মদ জোবায়েদ আহমেদ মিহান


১. সাধারণ এক কাজের ছেলে

একজন দরিদ্র কাজের ছেলে। নাম তার গোলাম।

বড়লোকের বাড়িতে কাজ করে সে। সবার ধমক, অপমান আর গালিগালাজ নীরবে সহ্য করে যায়। কেউ তাকে সম্মান করে না। সবাই তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, যেন সে মানুষ নয়, কেবল একজন চাকর।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সাধারণ কাজের ছেলেটির সঙ্গেই বিয়ে হয়েছে এক কোটিপতি পরিবারের মেয়ের!

এলাকার মাস্তান পর্যন্ত একসময় তাকে দেখে ভয় পাবে। তার জন্য আসবে হেলিকপ্টার। পুলিশের বড় কর্মকর্তারাও তাকে বিশেষ সম্মান দেখাবে।

কিন্তু কেন?

গোলাম কি সত্যিই একজন সাধারণ কাজের ছেলে, নাকি তার পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো সত্য?

সেই উত্তর তখনও কারও জানা নেই।

২. মালিকের বাড়িতে গোলামের জীবন

সকালে বড়লোকের বাড়ির বাথরুম পরিষ্কার করছিল গোলাম। কাজের মধ্যে সামান্য বিরতি নেওয়ারও সুযোগ নেই তার।

বাড়ির একজন দায়িত্বশীল লোক এসে ধমক দিয়ে বলল,

— এই গোলাম! তাড়াতাড়ি কাজ শেষ কর। এরপর বাজারে যেতে হবে।

গোলাম মাথা নিচু করে বলল,

— জি, চাচা। কাজ শেষ করেই যাচ্ছি।

লোকটি তার হাতে পাঁচশো টাকার একটি নোট ধরিয়ে দিল।

— এই টাকা নে। বাজার থেকে দেশি মুরগি নিয়ে আসবি। আজ তোর বউয়ের বান্ধবী আসবে। সে কী খেতে পছন্দ করে, সেটা নিশ্চয়ই জানিস। ভালো করে মুরগির রোস্ট বানানোর ব্যবস্থা করবি।

— আচ্ছা, চাচা।

— আর দেরি করবি না। বাজার করে তাড়াতাড়ি ফিরে আসবি।

গোলাম টাকা নিয়ে বাজারের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল।

বাড়ির গেট পার হয়ে কিছুটা এগোতেই পেছন থেকে ডাক এল।

— এই গোলাম, দাঁড়া!

গোলাম ফিরে তাকাল। এলাকার পরিচিত মাস্তান বাবু তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

৩. বাবুর অপমান

বাবু গোলামের দিকে তাকিয়ে বিদ্রূপের হাসি দিল।

— কী রে, এত তাড়া কিসের? তোর মতো সুন্দরী বউ যার ঘরে, তার তো তাড়াহুড়ো থাকবেই!

গোলাম বিনয়ের সঙ্গে বলল,

— ভাই, আমাকে যেতে দেন। বাজার থেকে জিনিসপত্র নিয়ে না ফিরলে বাড়িতে রান্না হবে না। দেরি হলে আবার বকা খাব।

বাবু হেসে উঠল।

— তোর কপাল তো বেশ ভালো! তোর মতো একটা কাজের ছেলে এত সুন্দরী বড়লোকের মেয়েকে বিয়ে করেছে! জানিস, তোর বউকে পছন্দ করার শখ আমারও ছিল। কিন্তু তখন সাহস করে কিছু বলতে পারিনি। এখন আফসোস হয়। তোর চেয়ে আমি হাজার গুণ ভালো!

গোলাম কোনো প্রতিবাদ করল না।

সে শুধু বলল,

— ভাই, আমাকে যেতে দেন। আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।

বাবু এবার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠল।

— আচ্ছা, তোর বউকে এক দিনের জন্য আমার কাছে পাঠিয়ে দে। পাঁচশো টাকা দেব। তোর মতো গরিব মানুষের কাছে এই টাকাও তো অনেক!

গোলাম অপমানিত হলেও চুপ করে রইল।

এবার বাবুর চোখ পড়ল গোলামের হাতে থাকা ফোনটির দিকে।

— ফোনটা দে তো! দেখি, কে তোকে এতবার ফোন করছে। তোর বউ ফোন করেছে নাকি? আমিও একটু কথা বলি তার সঙ্গে!

গোলাম আতঙ্কিত হয়ে ফোনটি নিজের কাছে রাখার চেষ্টা করল।

— ভাই, দয়া করে ফোনটা ধরবেন না। আপনি যা বলার আমাকে বলেন, কিন্তু ফোনটা রিসিভ করবেন না!

কিন্তু বাবু তার কথা শুনল না।

ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ভেসে এল একটি কণ্ঠ।

— আমি আসলাম শেখ বলছি। দুবাই থেকে।

কথাটি শোনামাত্র গোলামের মুখের ভাব বদলে গেল। একটু আগেও যে ছেলেটি সবার সামনে মাথা নিচু করে ছিল, সে এবার ভয়ে ও উদ্বেগে কাঁপতে লাগল।

— ভাই, আমাকে মাফ করে দিন! আমার ভুল হয়ে গেছে। দয়া করে ক্ষমা করে দিন!

ফোনের অপর প্রান্তে কী বলা হলো, তা গোলাম ছাড়া কেউ বুঝতে পারল না। তবে তার কথাবার্তা দেখে বোঝা গেল, অপর প্রান্তের মানুষটিকে সে ভয়ংকর গুরুত্ব দেয়।

ফোনের কথোপকথন শেষ হওয়ার পর গোলাম আরও অস্থির হয়ে পড়ল।

সে বিড়বিড় করে বলল,

— আমার লোকেশন যদি জেনে গিয়ে থাকে, তাহলে তো বিপদ!

এরপর সে দ্রুত সেখান থেকে চলে গেল।

বাবু অবাক হয়ে গোলামের চলে যাওয়া দেখল। এতক্ষণ যে ছেলেটিকে সে অপমান করছিল, একটি ফোনকলের পর তার আচরণ এমন বদলে গেল কেন?

৪. ঋতুর রাগ

অন্যদিকে, মির্জা পরিবারের বাড়িতে ঘুম থেকে উঠে ঋতু গোলামকে খুঁজতে লাগল।

— গোলাম কোথায়?

বাড়ির একজন বলল,

— সে বাজারে গেছে, ম্যাডাম।

ঋতু বিরক্ত হয়ে প্রশ্ন করল,

— বাজারে যাওয়ার আগে আমার সঙ্গে দেখা করে যায়নি কেন? আমার ছেঁড়া হিলটা ঠিক করে আনার কথা ছিল। সেটাও আনেনি?

— না, ম্যাডাম।

ঋতু আরও রেগে গেল।

— আমি তাকে পরিষ্কার করে বলেছিলাম, বাজারে যাওয়ার আগে আমার সঙ্গে দেখা করতে। সে আমার কোনো কথাই শোনে না!

বাড়ির লোকটি বলল,

— ম্যাডাম, ও তো আপনার স্বামী। তা ছাড়া, কাজের ছেলেটা সত্যিই খুব অবাধ্য। আপনি যদি ওর স্ত্রী না হতেন, তাহলে এতক্ষণে ওকে ভালো শিক্ষা দিয়ে দিতাম।

ঋতু কোনো উত্তর দিল না। তার রাগ আরও বাড়তে লাগল।

৫. নিখোঁজ শেহজাদ

অন্যদিকে, একটি থানায় এক নারী তার নিখোঁজ স্বামীর খোঁজে এসেছেন।

চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তার সামনে দাঁড়িয়ে কাতর কণ্ঠে বললেন,

— স্যার, আমার স্বামীকে তিন মাস ধরে খুঁজে পাচ্ছি না। অনেক জায়গায় খোঁজ করেছি, কিন্তু কোথাও তার কোনো সন্ধান পাইনি। আপনি যদি একটু সাহায্য করতেন!

কর্মকর্তা বিরক্ত হয়ে বললেন,

— এ জন্য তো অভিযোগ করার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা আছে। সেখানে অভিযোগ করেছেন?

— জি, স্যার। অভিযোগ করেছি। কিন্তু কোনো ফল পাচ্ছি না। আপনি যদি একটু গুরুত্ব দিয়ে দেখতেন!

কর্মকর্তা এবার তার স্বামীর নাম ও ঠিকানা জানতে চাইলেন।

— আপনার স্বামীর নাম কী? কোথায় থাকেন?

— তার নাম শেহজাদ। আজমপুর বস্তিতে থাকেন।

কর্মকর্তা কথাটি শুনে কিছুটা ব্যঙ্গের সুরে বললেন,

— আজমপুর বস্তিতে থাকেন? আচ্ছা, ঠিক আছে। কোনো খবর পেলে আপনাকে জানানো হবে। আপাতত আপনি যান।

নারীটি তার স্বামীর ছবি জমা দিয়ে চলে গেলেন।

তিনি চলে যাওয়ার পর অন্য একজন পুলিশ সদস্য ছবিটি দেখে চমকে উঠল।

— স্যার, এই লোকটির নিখোঁজ হওয়ার মামলা কি আপনি দেখছেন?

— হ্যাঁ। কেন?

— স্যার, আপনি এই লোককে খুঁজতে যাবেন না। সে ভয়ংকর অপরাধী। তার পেছনে লাগা বিপজ্জনক হতে পারে।

কর্মকর্তা এবার ছবিটির দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকালেন।

— কী বলছ তুমি?

— স্যার, কথাটা সত্যি। এই মামলা সাবধানে সামলাতে হবে।

এরপর ছবিটি নিয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যোগাযোগ করার উদ্যোগ নেওয়া হলো।

শেহজাদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি যে সাধারণ কোনো ঘটনা নয়, তা পুলিশের আচরণেই স্পষ্ট হয়ে উঠল।

৬. রিশাদ ও তার মায়ের ষড়যন্ত্র

মির্জা পরিবারের বাড়িতে অন্য এক আলোচনা চলছিল।

রিশাদ ও তার মা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিল।

রিশাদের মা বললেন,

— তোর বাবা তোকে ঠিকমতো সহ্য করতে পারে না। সব ভালোবাসা যেন ওই ঋতুর জন্যই!

রিশাদ বিরক্ত হয়ে বলল,

— হ্যাঁ, মা। বাবার কাছে ঋতুই সবকিছু।

মা এবার বললেন,

— ভাগ্যিস, তুই একটা ব্যবস্থা করে ঋতুর বিয়ে ওই কাজের ছেলেটার সঙ্গে দিয়েছিলি। তা না হলে তোর বাবা একদিন সব সম্পত্তি ঋতুর নামে লিখে দিত!

রিশাদ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল।

— সেটাই তো চাইনি। ঋতুকে এমন একটা অবস্থায় ফেলেছি, যেখান থেকে সে নিজেই এই বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হবে।

তার মা বললেন,

— কিন্তু শুধু বিয়ে দিলেই তো হবে না। ওকে ধীরে ধীরে এই বাড়ি থেকে সরাতে হবে।

রিশাদ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দিল,

— চিন্তা করো না, মা। আমি ব্যবস্থা করব। আমার সৎ বোনকে এই বাড়িতে বেশিদিন থাকতে দেব না।

তাদের কথাবার্তা থেকে স্পষ্ট বোঝা গেল, ঋতুর বিয়ের পেছনে শুধু পারিবারিক সিদ্ধান্ত ছিল না; এর সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে হিসাব-নিকাশও জড়িয়ে আছে।

৭. গোলাম ফিরে আসে

কিছুক্ষণ পর গোলাম বাজার করে বাড়িতে ফিরল।

বাড়িতে পা রাখতেই ঋতুর চিৎকার কানে এল।

— এই গোলাম! কোথায় ছিলি এতক্ষণ?

গোলাম সামনে এসে দাঁড়াল।

— জি, ম্যাডাম।

ঋতু রাগে বলল,

— তোকে কী বলেছিলাম? বাজারে যাওয়ার আগে আমার সঙ্গে দেখা করে যেতে বলেছিলাম না? আমার হিলটা কোথায়? সেটা ঠিক করে আনিসনি কেন?

গোলাম বিনয়ের সঙ্গে বোঝানোর চেষ্টা করল,

— ম্যাডাম, আমি বাজারে যাওয়ার আগে—

কথা শেষ হওয়ার আগেই রিশাদ তাকে থামিয়ে দিল।

— চুপ! বেশি কথা বলবি না। আগে ম্যাডামের কাছে ক্ষমা চা।

গোলাম চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।

রিশাদ আবার ধমক দিল,

— শুনতে পাচ্ছিস না? সরি বল!

ঠিক তখনই ঋতুর বাবা সেখানে উপস্থিত হলেন।

তিনি কঠোর কণ্ঠে বললেন,

— রিশাদ, তুমি কী করছ?

রিশাদ উত্তর দিল,

— বাবা, আমি শুধু ওকে বুঝিয়ে দিচ্ছি যে সে এখনও একজন কাজের লোক।

ঋতুর বাবা বললেন,

— গোলাম এই বাড়ির জামাই। সে কাজের লোক হোক বা অন্য যা-ই হোক, জামাই হিসেবে তাকে সম্মান দিতে হবে। সে কার কাছে ক্ষমা চাইবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তোমার নেই।

রিশাদ চুপ হয়ে গেল।

কিন্তু ঋতু এবার নিজেই মুখ খুলল।

— বাবা, আমি এই ছেলেকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে পারছি না। আমি জানি না, কীভাবে এমন একটা বিয়ে হয়ে গেল! অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু ওকে নিজের স্বামী হিসেবে ভাবতেই পারি না।

তার বাবা অবাক হয়ে বললেন,

— ঋতু, তুমি কী বলতে চাইছ?

— আমি ওর সঙ্গে ডিভোর্স চাই!

বাড়ির পরিবেশ মুহূর্তেই ভারী হয়ে উঠল।

ঋতুর বাবা দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,

— এসব কী বলছ? আমাদের পরিবারে কখনো ডিভোর্স হয় না। এ বিষয়ে আর কোনো কথা শুনতে চাই না।

এরপর তিনি গোলামের দিকে তাকালেন।

— গোলাম, তুমি নিজেকে একটু পরিবর্তন করার চেষ্টা করো। সময়ের সঙ্গে নিজেকে আপডেট করো। শুধু সাধারণভাবে জীবন কাটালে হবে না।

তারপর তিনি রিশাদকে বললেন,

— রিশাদ, তুমি গোলামকে তোমাদের আড্ডায় নিয়ে যাবে। পার্টি কিংবা বাইরে কোথাও গেলে ওকেও সঙ্গে নেবে। ওর সঙ্গে মিশলে ওরও কিছু শেখা হবে।

রিশাদ অনিচ্ছা সত্ত্বেও বলল,

— আচ্ছা, বাবা। আপনি যখন বলছেন, আমি নিয়ে যাব।

ঋতুর বাবা চলে গেলে রিশাদ গোলামের দিকে তাকিয়ে বলল,

— গোলাম, তৈরি থাকিস। তোকে আমাদের সঙ্গে বাইরে যেতে হবে।

গোলাম নীরবে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

৮. দামি রেস্টুরেন্টে সাইকেল

নির্ধারিত সময়ে সবাই একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে গেল।

কিছুক্ষণ পর গোলাম সেখানে হাজির হলো একটি সাধারণ সাইকেল নিয়ে।

গোলামকে সাইকেলে আসতে দেখে ঋতু বিরক্ত হয়ে বলল,

— আমরা এত দামি রেস্টুরেন্টে এসেছি, আর তুমি সাইকেল নিয়ে হাজির হয়েছ? অন্তত একটা বাইক বা গাড়ি নিয়ে আসতে পারতে!

গোলাম সরলভাবে বলল,

— জি, ম্যাডাম। এখন কি গিয়ে নিয়ে আসব?

ঋতু বিরক্ত হয়ে হাত নেড়ে বলল,

— থাক। আগে সাইকেলটা সরিয়ে পার্কিংয়ে রাখো।

গোলাম সাইকেল নিয়ে পার্কিংয়ের জায়গা খুঁজতে লাগল।

সেখানে থাকা কয়েকজনও তাকে নিয়ে হাসাহাসি করল। তাদের চোখে সে ছিল কেবল একজন গরিব কাজের ছেলে, যে ভুল করে বড়লোকদের দলে এসে পড়েছে।

কিন্তু ঠিক তখনই একটি ছোট্ট মেয়ে ছুটে এসে গোলামের সামনে দাঁড়াল।

— বাবা! বাবা!

গোলাম অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।

— মা, তুমি কাকে বাবা বলছ? আমি তো তোমার বাবা নই!

মেয়েটি অভিমানী কণ্ঠে বলল,

— তুমি আমার বাবা। তুমি আমার সঙ্গে দুষ্টুমি করছ!

গোলাম অস্বস্তিতে পড়ে গেল।

— না, মা। তোমার ভুল হচ্ছে। তোমার বাবা নিশ্চয়ই বাড়িতে আছেন।

মেয়েটির মা দূর থেকে ছুটে এলেন।

তিনি মেয়েকে বললেন,

— নীলা, এখানে কী করছ তুমি?

তারপর গোলামের দিকে তাকিয়ে কিছুটা বিস্মিত হয়ে বললেন,

— আপনাকে দেখে আমার মেয়ের হয়তো তার বাবার কথা মনে পড়েছে। মুখের মিল থাকতে পারে।

এদিকে ঋতু ও রিশাদ দূর থেকে সবকিছু দেখছিল।

রিশাদ সন্দেহের সুরে বলল,

— গোলামের কি আগের স্ত্রী আর সন্তান আছে নাকি?

ঋতু কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— না, এটা অসম্ভব। ওর আগে স্ত্রী বা সন্তান থাকলে আমাকে জানাত। অন্তত এইটুকু বিশ্বাস ওর ওপর আমার আছে।

রিশাদ ব্যঙ্গ করে বলল,

— একটা গরিব কাজের ছেলেকে বিয়ে করে তার ওপর এত বিশ্বাস রাখিস কীভাবে?

ঋতু আর কথা বাড়াতে চাইল না।

অন্যদিকে, নীলা গোলামের হাত ধরে তাকে নিজের সঙ্গে বাড়ি যেতে বলছিল।

— বাবা, চলো না আমার সঙ্গে!

গোলাম নরম কণ্ঠে তাকে বোঝাল,

— মা, তুমি তোমার মায়ের কাছে যাও। তোমার বাবা বাড়িতে তোমার জন্য অপেক্ষা করছেন। যাও, মায়ের সঙ্গে বাড়ি যাও।

কিন্তু নীলা কিছুতেই যেতে চাইছিল না।

তার মা অনেক কষ্টে মেয়েকে নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলেন।

যেতে যেতে নীলা বলল,

— মা, আমি তো বাবাকে এখানে দেখেছিলাম!

মা তাকে শান্ত করে বললেন,

— তুমি হয়তো ভুল দেখেছ, মা। তোমার বাবা যদি এখানে থাকতেন, তাহলে তোমাকে না নিয়ে চলে যেতেন না। আর কখনো আমার হাত ছেড়ে এভাবে চলে যাবে না, কেমন?

নীলা মায়ের সঙ্গে বাড়ির পথে রওনা হলো।

৯. শেহজাদের মায়ের কাছে পুলিশ

অন্যদিকে, শেহজাদের খোঁজে পুলিশ তার পরিবারের কাছে পৌঁছাল।

একটি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তারা জানতে চাইল,

— এটা কি ফাতেমা বেগমের বাড়ি?

বাড়ির একজন নারী উত্তর দিলেন,

— জি। কিন্তু ফাতেমা তো এখন বাইরে গেছেন। আপনারা কারা?

পুলিশ সদস্য বললেন,

— আমরা শেহজাদের বিষয়ে কিছু কথা বলতে এসেছি।

শেহজাদের নাম শুনেই বাড়ির লোকজনের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হলো। শেহজাদের মা সামনে এলেন।

— আমার ছেলের কী খবর? আপনারা কি তাকে খুঁজে পেয়েছেন?

পুলিশ সদস্য তাকে আশ্বস্ত করে বসতে বললেন।

— মা, আমরা এখনো আপনার ছেলেকে খুঁজে পাইনি। তবে খোঁজ চলছে। আপনার কাছ থেকে কিছু তথ্য জানার প্রয়োজন আছে। আপনি সহযোগিতা করলে আমাদের সুবিধা হবে।

শেহজাদের মা বললেন,

— অবশ্যই। আমার ছেলের ব্যাপারে যা জানি, সব বলব। আপনারা যা জানতে চান, জিজ্ঞেস করুন।

পুলিশ সদস্যরা তার সঙ্গে কথা বলতে বসলেন।

শেহজাদকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলতে থাকল।

১০. গোলামকে নিয়ে হাসাহাসি

এদিকে রেস্টুরেন্টে গোলাম ফিরে এলে রিশাদ ও তার বন্ধুরা তাকে নিয়ে ঠাট্টা শুরু করল।

ঋতু বিরক্ত হয়ে বলল,

— আচ্ছা, তোমরা আজ এই গরিব কাজের ছেলেটাকে এখানে আনলে কেন?

রিশাদ উত্তর দিল,

— বাবার ইচ্ছা। তিনি চান, তার এই জামাই একটু স্মার্ট হোক। আমাদের সঙ্গে চলাফেরা করলে হয়তো কিছু শিখবে।

রিশাদের এক বন্ধু হেসে বলল,

— ঋতু, কাকের গায়ে ময়ূরের পালক লাগালেই কাক ময়ূর হয়ে যায় না। তোমার এই জামাই কোনোদিন আমাদের মতো হতে পারবে না!

গোলাম এতক্ষণ নীরবে তাদের কথা শুনছিল।

হঠাৎ সে বলল,

— আমি কি স্মার্ট হতে পারব না? আমার মধ্যে এমন কী কমতি আছে?

রিশাদ ও তার বন্ধুরা হেসে উঠল।

একজন বলল,

— তুই তোদের বাড়ির কাজের লোক। তোর কাজ বাসন মাজা, ঘর মোছা আর রান্নাবান্না করা। তুই আবার পুরুষ মানুষের মতো কী কাজ করবি?

গোলাম শান্তভাবে বলল,

— বাড়িতে কাজ করলেই কি একজন পুরুষ মানুষ আর পুরুষ থাকে না? এমন একটা কাজ বলুন, যেটা একজন পুরুষ পারে কিন্তু আমি পারব না।

তার কথা শুনে রিশাদের এক বন্ধু চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল।

— তাই নাকি? তাহলে আমার সঙ্গে পাঞ্জা লড়। দেখি তোর কত শক্তি!

গোলাম বলল,

— আচ্ছা, সমস্যা নেই।

বন্ধুটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানাল, সে বাঁ হাত দিয়ে পাঞ্জা লড়বে।

চারপাশের লোকজন তাদের ঘিরে দাঁড়াল।

পাঞ্জা লড়াই শুরু হলো।

সবাই ভেবেছিল গোলাম কয়েক সেকেন্ডও টিকতে পারবে না। কিন্তু ফলাফল দেখে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে গেল।

গোলাম খুব সহজেই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দিল!

তার প্রতিপক্ষ অবাক হয়ে গেল।

— এটা কীভাবে সম্ভব?

রিশাদ ও ঋতুও গোলামের দিকে বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইল।

গোলাম নিজেও যেন বুঝতে পারছিল না, কীভাবে এমনটা হলো।

— আমি... আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। সরি!

ঋতু আর সেখানে থাকতে চাইল না।

— চলো, আমরা এখান থেকে চলে যাই।

১১. দশ হাজার টাকার বিল

কিছুক্ষণ পর খাবার শেষ হলে রিশাদ ওয়েটারকে ডাকল।

— বিল নিয়ে আসুন।

তারপর গোলামের দিকে তাকিয়ে বলল,

— আজকের বিলটা গোলাম দেবে।

গোলাম হতভম্ব হয়ে গেল।

— ভাই, আমি কীভাবে বিল দেব? আমার কাছে তো এত টাকা নেই!

রিশাদ হাসল।

— টাকা নেই? তাহলে এখানে খেতে এসেছিস কেন? প্রয়োজনে বাসন মেজে বিল পরিশোধ করবি!

গোলাম অসহায়ভাবে ওয়েটারকে জিজ্ঞেস করল,

— ভাই, বিল কত হয়েছে?

ওয়েটার জানাল,

— আপনাদের বিল নয় হাজার পাঁচশো টাকা।

গোলাম নিজের পকেট পরীক্ষা করে বলল,

— ভাই, আমার কাছে ছয় হাজার সাতশো টাকার মতো আছে। বাকি টাকা আমি এখন দিতে পারব না।

ওয়েটার বিরক্ত হয়ে বলল,

— আপনারা কি হিসাব বোঝেন না? বিল প্রায় দশ হাজার টাকা হয়েছে। টাকা না থাকলে এত দামি রেস্টুরেন্টে খেতে এসেছেন কেন?

সে গোলামের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে শুরু করল।

ঠিক সেই সময় রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সেখানে এসে উপস্থিত হলেন।

— এখানে কী হচ্ছে?

ম্যানেজার গোলামকে দেখামাত্রই যেন চমকে উঠলেন।

তার মুখের ভাব বদলে গেল। তিনি দ্রুত গোলামের কাছে গিয়ে বললেন,

— স্যার! আপনি এখানে! দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি বুঝতে পারিনি আপনি এসেছেন।

ওয়েটার কিছু বুঝতে না পেরে বলল,

— স্যার, এই লোকটি বিল দিতে পারছেন না। অথচ আপনি তাকে স্যার বলছেন কেন?

ম্যানেজার রাগে ওয়েটারের দিকে তাকালেন।

— চুপ করো! তুমি জানো, কার সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়? স্যারের কাছে ক্ষমা চাও!

ওয়েটার হতভম্ব হয়ে গেল।

— কিন্তু স্যার, উনি তো বিল দিতে পারছেন না!

ম্যানেজার ধমক দিয়ে বললেন,

— আমি যা বলছি, তা-ই করো!

তারপর তিনি গোলামের দিকে ফিরে বললেন,

— স্যার, আপনাকে কোনো টাকা দিতে হবে না। আপনার বিল মাফ করা হলো। আপনার সঙ্গে এমন ব্যবহার করার জন্য আমি দুঃখিত।

গোলাম অবাক হয়ে বলল,

— না, না, সমস্যা নেই। এত কিছু করার দরকার নেই।

ম্যানেজার আবারও ক্ষমা চাইলেন এবং ওয়েটারের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন।

রিশাদ, ঋতু ও তাদের বন্ধুরা পুরো ঘটনা দেখে হতবাক হয়ে গেল।

রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে রিশাদ গোলামকে জিজ্ঞেস করল,

— ভেতরে এমন কী করলি যে ম্যানেজার তোকে স্যার বলে ডাকল?

গোলাম কোনো উত্তর দিল না।

ঋতু বলল,

— ম্যানেজারের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে গোলাম বড় কোনো মানুষ। কিন্তু কীভাবে সম্ভব?

রিশাদ নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করল।

— হয়তো ম্যানেজার ভুল করে অন্য কাউকে ভেবেছে। এ ছাড়া আর কী হতে পারে?

কিন্তু ঘটনাটি তাদের মনে সন্দেহ তৈরি করে দিল।

১২. হেলিকপ্টারের ফোন

এবার গোলামের ফোন আবার বেজে উঠল।

ফোনের দিকে তাকিয়েই সে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল।

রিশাদ বলল,

— এতক্ষণ ধরে ফোন আসছে, তুই ধরছিস না কেন? ফোনটা দে তো!

গোলাম তাড়াতাড়ি ফোনটি সরিয়ে নিল।

— ভাই, ফোন ধরলে ওরা আমার অবস্থান জেনে যাবে!

রিশাদ অবাক হয়ে বলল,

— কী বলছিস এসব?

গোলাম ফোনটি ধরে অবশেষে কথা বলল।

অপর প্রান্ত থেকে একজন বললেন,

— স্যার, আপনার সঙ্গে একটি জরুরি মিটিং আছে। আপনার অবস্থানে হেলিকপ্টার পাঠানো হচ্ছে। দয়া করে হেলিকপ্টারে উঠে আমাদের কাছে চলে আসুন।

কথাটি শুনে আশপাশের সবাই অবাক হয়ে গেল।

রিশাদ গোলামের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলল,

— শুনেছিস? তোর জন্য নাকি হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে!

সে অন্যদের বোঝাতে লাগল,

— এসব গরিব মানুষের বানানো কথা। রিকশাকে টেসলা, লেগুনাকে প্লেন আর সিএনজিকে হেলিকপ্টার বলে! দেখিস, শেষ পর্যন্ত একটা সিএনজি পাঠাবে।

গোলাম আরেকবার ফোনে কথা বলল।

— স্যার, আমার জন্য হেলিকপ্টার পাঠানোর দরকার নেই। আমি কোথাও যেতে পারব না।

অপর প্রান্ত থেকে জানানো হলো, তার সঙ্গে তাদের বসের জরুরি বৈঠক রয়েছে এবং তাকে যেতেই হবে।

গোলাম বলল,

— আমি হেলিকপ্টারে যেতে পারব না। আপনারা বরং একটা ট্যাক্সি পাঠান।

— ঠিক আছে, স্যার। দুই মিনিটের মধ্যে ট্যাক্সি পৌঁছে যাবে।

ফোন রেখে গোলাম চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।

রিশাদ ও ঋতু একে অপরের দিকে তাকাল।

ঋতু বলল,

— সত্যিই কি ওর জন্য কেউ এসব পাঠাচ্ছে?

রিশাদ বলল,

— আমারও মাথায় ঢুকছে না। তবে আমার মনে হয়, আশপাশে কোনো ভিআইপি এসেছে। হেলিকপ্টার হয়তো তার জন্যই।

কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি ট্যাক্সি এসে থামল।

একজন লোক দ্রুত নেমে গোলামের কাছে এলেন।

— স্যার, আসুন। আপনার জন্য গাড়ি নিয়ে এসেছি। তাড়াতাড়ি চলুন, দেরি হয়ে যাচ্ছে।

গোলাম গাড়িতে উঠে পড়ল।

রিশাদও বিষয়টি জানার জন্য তাদের পিছু নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

— ড্রাইভার, গাড়ি চালাও! ও কোথায় যায়, কী করে, সব জানতে হবে!

১৩. প্রাণনাশের হুমকি

ট্যাক্সিতে বসে গোলাম চালকের কাছে জানতে চাইল,

— আমরা কোথায় যাচ্ছি?

লোকটি উত্তর দিল,

— সেখানে পৌঁছালেই সব জানতে পারবেন, স্যার।

গোলাম আবার জিজ্ঞেস করল,

— কিন্তু আমাকে কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?

লোকটি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— স্যার, আমরা খবর পেয়েছি আপনার জীবনের ওপর হুমকি রয়েছে। তাই আপনার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর এই ব্যাগটি সবসময় নিজের কাছে রাখবেন।

লোকটি গোলামের হাতে একটি ব্যাগ তুলে দিল।

গোলাম ব্যাগটির দিকে তাকাল। তার মুখে উদ্বেগ ফুটে উঠল।

অন্যদিকে, রিশাদ গাড়ি নিয়ে তাদের পেছনে পেছনে এগিয়ে চলল।

তার মাথায় একের পর এক প্রশ্ন ঘুরছিল।

একজন সাধারণ কাজের ছেলের জন্য হেলিকপ্টার পাঠানো হয় কেন? রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার তাকে দেখে এত ভয় পেলেন কেন? আর দুবাই থেকে ফোন আসার পরই বা গোলাম এত অস্থির হয়ে উঠল কেন?

সে এসবের উত্তর খুঁজতে মরিয়া হয়ে উঠল।

১৪. ব্যাগের ভেতরে পিস্তল

কিছুদূর যাওয়ার পর গোলামের গাড়ি থামানো হলো।

পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলেন।

— কোথায় যাচ্ছেন? গাড়ি থেকে নামুন।

গোলাম গাড়ি থেকে নেমে কিছু বলার আগেই একজন কর্মকর্তা নির্দেশ দিলেন,

— কনস্টেবল, ব্যাগটা পরীক্ষা করুন।

কনস্টেবল ব্যাগ খুলে ভেতরে একটি পিস্তল দেখতে পেলেন।

— স্যার! ব্যাগের ভেতরে পিস্তল রয়েছে!

কর্মকর্তা গোলামের দিকে তাকালেন।

— পিস্তল কোথায় পেয়েছেন? আপনার কাছে এর লাইসেন্স আছে?

গোলাম হতভম্ব হয়ে বলল,

— স্যার, এই পিস্তল আমার নয়। ব্যাগটাও আমার নয়। আমি কিছুই জানি না!

পুলিশ কর্মকর্তা কঠোর কণ্ঠে বললেন,

— এসব কথা বলে লাভ নেই। সত্যি করে বলুন, পিস্তল কোথা থেকে পেয়েছেন?

ঠিক তখনই রিশাদ ও তার সঙ্গীরা সেখানে পৌঁছাল।

গোলামের কাছে পিস্তল পাওয়া গেছে শুনে তারা অবাক হয়ে গেল।

রিশাদ বলল,

— এ কী! যে ছেলে বাজার করতে গেলেও টাকা নিয়ে চিন্তা করে, সে আবার পিস্তল নিয়ে ঘুরছে?

ঋতুও বিস্মিত হয়ে গোলামের দিকে তাকিয়ে রইল।

পুলিশ কর্মকর্তা আবার বললেন,

— সত্যি কথা বলুন। না হলে আপনাকে থানায় নিয়ে যেতে হবে।

গোলাম বারবার বোঝানোর চেষ্টা করল,

— স্যার, বিশ্বাস করুন, পিস্তলটা আমার নয়। আমি জানিই না ব্যাগের মধ্যে এটা কীভাবে এল!

কিন্তু কেউ তার কথা বিশ্বাস করছিল না।

১৫. অফিসার সাইমন শহীদের আগমন

পুলিশ যখন গোলামকে আটক করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেখানে এসে উপস্থিত হলেন।

তিনি পরিস্থিতি দেখে প্রশ্ন করলেন,

— এখানে কী হচ্ছে?

পুলিশ সদস্যরা তাকে সম্মান জানালেন।

তিনি গোলামের দিকে তাকিয়ে আবার প্রশ্ন করলেন,

— এই লোকটিকে আটক করছেন কেন?

একজন পুলিশ সদস্য উত্তর দিলেন,

— স্যার, ওর ব্যাগের ভেতরে পিস্তল পাওয়া গেছে।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,

— পিস্তলটি আমিই তাকে তার নিরাপত্তার জন্য দিয়েছি।

কথাটি শুনে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা চুপ হয়ে গেলেন।

তিনি নিজের পরিচয় দিলেন—আন্ডারকভার অফিসার সাইমন শহীদ।

সাইমন শহীদ গোলামকে বললেন,

— স্যার, আপনি গাড়িতে বসুন।

তারপর তিনি পুলিশ সদস্যদের নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে নির্দেশ দিলেন।

যে গোলামকে একটু আগেও সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হচ্ছিল, তাকেই এবার সম্মানের সঙ্গে ছেড়ে দেওয়া হলো।

রিশাদ ও তার সঙ্গীরা হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।

গোলাম কোনো কথা না বলে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল।

পুলিশের আচরণ দেখে তাদের সন্দেহ আরও বেড়ে গেল।

১৬. অজানা পরিচয়ের রহস্য

গোলাম গাড়িতে উঠে চলে গেল।

রিশাদ ও ঋতু সেখানে দাঁড়িয়ে রইল। তাদের চোখেমুখে বিস্ময়।

একজন সাধারণ কাজের ছেলে—যে বাড়িতে সবার অপমান সহ্য করে, যে বাজার করতে গিয়ে পাঁচশো টাকা নিয়ে বের হয়, যে রেস্টুরেন্টের বিল দিতে পারে না—তার জন্য কেন এত আয়োজন?

কেন একজন রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার তাকে দেখে ভয় পেয়ে ক্ষমা চাইবেন?

কেন তার সঙ্গে জরুরি বৈঠক করতে হেলিকপ্টার পাঠানোর কথা বলা হবে?

আর কেন একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা নিজের হাতে তাকে পিস্তল দেওয়ার কথা স্বীকার করবেন?

গোলাম কে?

তার প্রকৃত পরিচয় কী?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তখনও অজানা রয়ে গেল।

চলবে…

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+40 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login