পৃথিবীতে সবই হচ্ছে টাকার খেলা, আপনি যতই বলেন যে ভালোবাসাই সব,আসলে সবই মিথ্যা।
তনু বুঝতে পারছে না রিক্সাওয়ালা মামা হঠাৎ করে কেন এগুলো বলছে তাকে।
এই রিক্সাওয়ালাকে তো আগে কখনো দেখিও নি তনু।
তনু : উনি কি পাগল নাকি?নাকি ওনার কোন খারাপ মতলব আছে??
তনু মোবাইলটা বের করে লকটা খুলে নিলো।এখনই ইশাদ কে ফোন দেবে।কিন্তু এসব কিছুতেই ফোন ধরছে না।
ইশাদ এর সাথে ৫ বছরের সম্পর্ক তার।সেই ক্লাস এইট থেকে।কিন্তু এখনো সেই ছেলেটাকে ও বুঝে উঠতে পারে না।
ওর তো বোঝা উচিত যে ও বাহিরে আছে ওর কোন একটা প্রয়োজন পড়তে পারে।কিন্তু না ওর সব প্রায়োরিটি ওর অফিস।
সরি ওর কাজ।মনে মনে কত কি যে ভাবলো তনু।এইমাত্রই ইশাদ কি অফিসের সামনে নামিয়ে ও ভার্সিটির দিকে রওনা দিল এতক্ষণ রিকশাওয়ালা কিছু বলল না কিন্তু হঠাৎ এখনই বলল।
আবারও রিক্সাওয়ালা মামা বলল আপা কি ভয় পাইলেন নাকি?
তনু বলল, “কেন ভয় পাবো কেন?আপনি কি বাঘ না ভাল্লুক?”
রিক্সাওয়ালা : না মামা আমি বাঘও না ভাল্লুক না আমি একজন মানুষ অভাগা একজন মানুষ।
এবার তনু হঠাৎ নড়েচড়ে বসলো।
নাকি মনোযোগ দিয়ে দেখতে শুরু করলো।
পিছন দিয়ে ওনার মুখটা তো ঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে না একটু পিছনে ফিরে বলল তখন একটু দেখে নিল তার বয়স ৪৫ থেকে ৫০ এর মাঝে হবে। পান খাচ্ছে।দেখতে একদমই ভয়ংকর না বরং চা মামা টাইপের।
আবারও রিক্সাওয়ালা বললো আপা একটু আগে যাকে নামিয়ে দিলেন সে কি আপনার স্বামী?আপনার বন্ধু?তনু বলল কেনো?আপনার জানা টা কি খুব দরকার?
না না আপা আমি জেনে কি করবো বলেন?
আসলে আমার জীবনে একটা গল্প আছে আপনাদের দেখে সেইটে মনে পড়ে গেলো।
তনু : কি গল্প?
রিক্সাওয়ালা : আমার বয়স যখন ২২ বছর আমি একটা রিকশা কিনি।যে মালিকের রিকশা কিনি তার ১৫-১৬ খান রিকশা।ভাল টাকার মালিক।
তহন মনে হইত অনেক টাকা অহন মনে হয় হালায় তো আসলে কিছুই আছিল না।
হেগো ঘরের সামনেই আছিল রিকশার গ্যারেজ তো হের মাইয়াডা যে এত সুন্দর আছিলো।
গায়ের রং আছিল ধবধবে ফর্সা , ফর্সার মধ্যে এত সুন্দর আছিল মনে হইত নায়িকা।
হেই মাইয়া আমার মতন একটা রিকশার মালিকের প্রেমে কেমন পড়ল আমি অহনো বুঝিনা।
ও আমার এ একদিন কইলো চলো আমরা বিয়া কইরা পালাই যাই।
আমি কই তুমি কি পাগল হইয়া গেছি জলি?
জলি কয় হয় পাগল হইসি তোমার জন্য!
তোমার মতন মানুষ আমি দেহিনাই কোনোদিন যে যা কয় হেইডাই শোনো হেইডাই করো আজ কাল এমন ভালো মানুষ কেমনে আছে?আমি খালি হাসি কিছু কইনাই।একদিন রাতে জলি বাসা দিয়া বাইরাইয়া গ্যারেজ এ আইয়া কয় তারাতারি চলো ।আমি কই কোথায়?
ও কয় যেখানে লইয়া যাবা সেখানেই যামু।
গেলাম সিলেট।সিলেকে মাস ৫ এক থাকলাম ।
এর মধ্যে ওর বাপ মা একদিন হাজির।আমি আসিলাম বাইরে।
বাসায় ঢুকে দেহি ওর মা কান্দে আর কয় বাবা আমার মাইয়া ডারে দেও বাড়ী লোউ তোমাগো বিয়া দিয়া আমি পাশে ঘর নিয়া দিমু হেই জায়গায় থাকবা।এত দূরে থাকলে আমার মাইয়ারে না দেইখা আমি মইরা যামু।
আমি কইলাম মইরা যাওনের কাম নাই জলি তুমি তাগো লগে যাও কয়দিন বেড়াইয়া আও।
জলি কইলো তোমারে রাইখা আমি কোথাও যাইতে পরমুনা।
তুমি আমার স্বামী।বিয়ার পর সব এক দিকে স্বামী একদিকে।
জলি এর মা আর কান্দে কয় মাইয়ারে আমি ১৮ বছর পাল্লাম পুষলাম, পেডে ধরলাম হেই মাইয়ায় ৫ মাস থাইকা কয় স্বামী সব।
আমি জলিরে বুঝাইলাম যাও তুমি।
পরে জলি কয় তুমি গেলে হেলে যামু।
পরে হের কইলো তোমাগো নিয়া আমি আবার বড় কইরা বিয়া দিতাম।
জলি কয় তাইলে লও যাই।মাইয়ার মা এ কয় আমরা আইজ যাই তুমি কাইল আও সব ঘুচাইয়া।
ওরা চইলা গেলো।
জলীর মুখটা এহনও ভাসে আমার চোখে।
কয় আমি যাই।তুমি আও।
কাল কে দেহা হইবে।পরের দিন গেলাম।
যাইয়া শুনি জলিগো বাড়িঘর ,রিকশা বেইচা ওর বাপে আরো ২ মাস আগেই এই জায়গা ছাড়ছে।কোথায় গেছে কেউ জানেনা।
আর কোনোদিন জলী রে দেহীনাই।
১২ বছর হইয়া গেছে।
শুনছি ওর বিয়া হইছে আমার ঐখান থেকে আসার ৭দিন পরে।
বিয়ার ৭ মাস পরে নাকি ওর একটা পোলা হইসে।
৭ মাস পরে ছেলে হইসে সে তো খুব সুখে আছে।।তাও আপনি তাকে এত সম্মান ,এত ভালোবাসা দিয়ে কথাগুলো বলছেন?
আপা আমি তো ওর ভালবাসি অহনো,আজীবন বাসমু ওর সম্মান করমু না ক্যা?
আর ওর তো কোনো দোষ ছিলোনা।
ওর মা বাপ রে কিভাবে কি করসে আমি জানিনা।
তাও ওনার ৭ মাস পরেই একটা বাচ্চা হইসে।
আপা এখানেই হইতেসে আসল কথা।
আমাদের বিয়ার ২ মাসের মধ্যেই জলি পোয়াতি হয় যেটা ওর বাপ মা জানতনা।
আর হিসেব মতে যেই পোলা ওর হইসে হেইডা আমার পোলা।
কি বলেন এসব??
তনু খুব ই হতবম্ব হয়ে গেল।
জীবনে একটাই ইচ্ছা পোলাডা যদি আমার হয় তাইলে যেনো জলি রে আর পোলাডা রে জীবনে এক নজর দেখতে পারি।
আল্লাহ পাক আপনার মনের আশা পূরণ করুক ভাই।।
অনেক কথা কইলাম আপা ভুল ত্রুটি মাফ কইরা দিয়েন।
তনু অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে এই লোকটার দিকে একটু আগেও যাকে দেখে ওর ভয় লাগছিল,পাগল লাগছিল আসলে এই তো রিয়াল লাইফ এর হিরো।
ইশাদ চলে আসছে সরি বলছে ফোন ধরতে পারেনি তাই।
ঈশাদ : এমডি স্যার একদম পাশে দাঁড়ানো ছিল কিভাবে ধরি বলো।
ম্যাসেজ দেয়ার ও ওয়ে পাচ্ছিলাম না।
তনু : না ঠিক আছে।তনু অন্যমনস্ক হয়ে আছে।
ইশাদ বলছে তনু আমি এত কষ্ট কেনো করি বলো যাতে তোমার মা বাবা চাওয়া মাত্রই তোমাকে আমার হাতে তুলে দেয়।
কখনও আমার হাত ছেড়ে যেওনা।
কখনো না।
সমাপ্ত।