অপারেশনের পর শাশুমাকে নিয়ে যখন বাড়ি ফিরছিলাম গাড়িতে উনি খুব উসখুস করছিলেন। বললাম শুয়ে পড়বেন? বললো,"শুতে পারলে হয়তো ভালো লাগতো"। কোলের ভিতর মাথা দিলেন আর মাথায় একটু হাত বুলাতেই ঘুমিয়ে গেলেন। মাঝে একবার চোখ মেলে বললেন, তুমি পায়ে ব্যথা পাচ্ছ? ব্যথা পাচ্ছিলাম ঠিকই। একেতো গাড়ির আটসাট জায়গা তার উপর আমি নড়াচড়া করলে উনার ঘুম নষ্ট হবে তাই উত্তরে না সূচক মাথা নাড়লাম। আমার কাছে এটা মায়া। এক দুই দিনে মায়া তৈরি হয় না। কুড়ি বছরের বিবাহিত জীবনে উনার সব কথা আমার ভালো লাগেনি আমার সব আচরণ ও উনি মেনে নিতে পারেননি। উনি শাশুড়ি আমি ছেলের বউ। মা মেয়ে হবার চেষ্টা করিনি। এটা চেষ্টা করা উচিৎ ও না বলেই আমি মনে করি। বড়জোর বন্ধু হবার চেষ্টা করা যেতে পারে। সম্পর্কটা তাতে সুন্দর থাকবে। অতিরঞ্জিত কোনোকিছু ভালো না। যাগগে আসল কথায় আসি, বলছিলাম মায়ার কথা। এবার শাশুমাকে নিয়ে হসপিটালে থাকার সময় যে ব্যাপারটা আমাকে সবচেয়ে বেশি আবেগি করেছে সে কথাগুলোই বলতে এলাম। অপারেশনে উনাকে পুরোপুরি অজ্ঞান করার কথা থাকলেও প্রেসার বেশি থাকার কারণে অজ্ঞান না করেই অপারেশন করা হলো। এবং অপারেশনের পর উনাকে যখন পোস্ট অপারেটিভ কেয়ারে দেখতে গেলাম আমার দিকে চেয়ে বললেন, "তুমি খাবার খাইছো?" আমি হাসলাম। উনি আবার বললেন," যাও কিছু খেয়ে নেও"। এটা রাতের ঘটনা। পরদিন ভোরে যখন গেলাম খুব ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। শ্বাসকষ্ট আছে তাই প্যাথেডিন বেশি দেয়া যাচ্ছে না। আমাকে দেখেই আবার বললেন, খাইছো কিছু? বললাম খাবো একটু পর। তারপর বললেন, অনেক ব্যথা আমাকে একটা ওষুধ দিতে বলো। মাথায় কিছুক্ষণ হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম, বলেছি একটু পর দেবে। ওখানে বেশিক্ষণ থাকা বারণ। যখন বেরিয়ে আসছি তখন আবার বললো, কিছু খেয়ে নিও। আমার মাথায় কেবল একটি শব্দই ঘুরছিলো "মায়া"। সময়ের সাথে কবে কবে যেনো তৈরি হয়ে গেছে। এখন আমাদের সম্পর্ক, কথার মাঝে যে অপ্রয়োজনীয় অপছন্দনীয় ব্যাপারগুলো থাকে আমরা দুজনেই সুন্দর ভাবে তাকে উপেক্ষা করতে পারি। আমাদের লুতুপুতু(মা মা করে উনিও তুফান তোলেন না আমিও না) টাইপ সম্পর্ক নাই তবে বন্ধুত্বটা আছে।
Comments
Be this story’s first reader
+30 XPNobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.
Sign in to claimFirst reader
You were first.
+0 XP
Yours is the first word this story has heard. Its writer will see it.
You also earned the First Reader honour.