ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা নতুন কিছু নয়। মানব সভ্যতার গোড়া থেকেই চলে আসছে এই প্রচেষ্টা। ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে অনেক ভালো শাসকের ভালো কাজকে নষ্ট করে দেওয়া যায় বা নিজের খারাপ কাজকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভাল হিসাবে তুলে ধরা যায়।
ইতিহাস হচ্ছে মানব সভ্যতার দর্পণ বিশেষ। এই দর্পণে চোখ রেখে বর্তমানের মানুষ অতীত দেখার মাধ্যমে ভবিষ্যতকে অনুমান করতে পারে। তাই ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের যখন প্রাথমিক ধারা শুরু হয়েছিল সেই সময়কার মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান সম্পূর্ণ ধামাচাপা দিয়ে কৃতিত্ব নিয়ে নিয়েছে ইউরোপিয়ান বিজ্ঞানীরা। ইংরেজরা ভারতবর্ষে যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছু উন্নয়ন দেখিয়ে দুশো বছর ব্যাপী তাদের ভয়াবহ লুন্ঠন অত্যাচারের কথা আড়াল করে।
সেই একই ধারা অনুসরণ করে বলিউডের শুরু হয়েছে মুঘল শাসকদের চরিত্র বিকৃতির পালা। বলিউড পরিচালক কবীর খানের মতে বলিউডের ঐতিহাসিক ছবিগুলি বেশিরভাগ সময়ই ইতিহাস নির্ভর হয় না বরং প্রচলিত লোক গাঁথা অনুসরণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ স্থানীয় লোকগাথার পদ্মাবতী চরিত্রের কথা বলা যায়।
কবীর খানের কথায় আজকের দিনে মুঘল এবং অন্য সকল মুসলিম শাসকদের খাটো করে দেখানোটা খুব সহজ কাজ। পদ্মাবতী, পানিপথ এবং তানাজীর মতো বহু ছবিতে সম্প্রতিক সময়ে ও মুসলিম শাসকদের নেগেটিভ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি তানাজি অভিনেতা সাইফ আলি খান নিজেই বলেছিলেন ছবিতে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। সেই নিয়ে কোন বিতর্ক হয়নি।
ডিভাইড এন্ড রুল নীতি অনুসরণ করে ইংরেজরা ভারতবর্ষে হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের ভেতরে সাম্প্রদায়িকতার বিষ বৃক্ষ রোপন করেছিল। কালে কালে সেই বৃক্ষ পূর্ণ প্রস্ফুটিত হয় উঠছে। এই বৃক্ষের গোড়ায় এক সময় জল ঢালত ইংরেজরা, এখন ঢালছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।