Travel

বেড়িয়ে আসুন নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্ক

October 25, 2026

6 views

বেড়ানো মানেই আনন্দ ও বিনোদন। যারা একটু আনন্দ পেতে চান, আবার ঢাকা থেকেখুব বেশি দূরেও যেতে চান না এবং দিনে গিয়ে দিনেই ফিরতে চান, তাঁদের জন্য চমৎকার একটি জায়গা হতে পারে ড্রিম হলিডে পার্ক। নরসিংদীর পাঁচদোনায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই পার্কটি পরিবার, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য আকর্ষণীয় একটি গন্তব্য।

যাতায়াত

ঢাকা থেকে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা মাইক্রোবাসে সহজেই ড্রিম হলিডে পার্কে

যাওয়া যায়। গণপরিবহনে যেতে চাইলে বনানী থেকে পিপিএল সুপার বাস এবং গুলিস্তান থেকে মেঘালয় লাক্সারি বাসে সরাসরি পার্কের প্রধান ফটকের সামনে নামতে পারবেন। বাসভাড়া সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। যাঁরা ট্রেনে ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন, তাঁরা ঢাকা থেকে ট্রেনে নরসিংদী গিয়ে সেখান থেকে ড্রিম হলিডে পার্কে যেতে পারেন। এ জন্য কমলাপুর অথবা বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে এগারসিন্দুর প্রভাতী, মহানগর প্রভাতীসহ নরসিংদীগামী ট্রেনে উঠতে পারবেন। নরসিংদী রেলস্টেশনে নেমে বাস কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পাঁচদোনায় অবস্থিত ড্রিম হলিডে পার্কে পৌঁছানো যাবে।

দলবেঁধে ঘুরতে গেলে ব্যক্তিগত গাড়ি বা মাইক্রোবাসে ভ্রমণ বেশি আরামদায়ক হতে পারে। ঢাকা থেকে সকালে রওনা দিয়ে সারাদিন পার্ক ঘুরে সন্ধ্যায় ফিরে আসতে পারবেন। যারা খুব বেশি দূরে না গিয়ে এক দিনেই ঘুরে আসতে চান, তাঁদের জন্য ড্রিম হলিডে পার্ক হতে পারে চমৎকার একটি গন্তব্য।

পার্কের পরিবেশ ও আকর্ষণ

অন্যান্য পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্রের তুলনায় ড্রিম হলিডে পার্ক কিছুটা ব্যতিক্রম।

বেশ বড় জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা পার্কটিতে রয়েছে প্রচুর গাছপালা। পরিবেশ সুন্দর,মনোরম ও গোছানো। প্রচুর বসার জায়গা। কোথাও চোখে পড়ার মতো ময়লা-আবর্জনা দেখা যায় না। এখানে নৌভ্রমণের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থলভিত্তিক রাইডে চড়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। পার্কটিতে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নরসিংদীর ড্রিম হলিডে পার্কে ছোট-বড় সবার জন্য রোলার কোস্টার, ক্যাবল কার,এয়ার বাইসাইকেল, স্পিডবোট, বাম্পার কার, বুলেট ট্রেন, সুইং চেয়ার, ভূতের বাড়ি,৯ডি থিয়েটার এবং বিশাল ওয়াটার পার্কসহ প্রায় ৩০টির মতো আকর্ষণীয় রাইড ও বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে।

মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই চোখে পড়বে বিশাল একটি দিঘি। সেখানে ৪০০ টাকা দিয়ে চারজনের নৌভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। দুজনও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বোটে ঘুরে বেড়াতে পারবেন।

আরও কিছুটা ভেতরে গেলে ডান পাশে রয়েছে কিডস জোন। শিশুদের বিনোদনের জন্য সেখানে আছে নানা ধরনের রাইড। এর একটু আগেই চোখে পড়বে পুরোনো দিনের একটি জিপ গাড়ি। ১৫০ টাকা দিয়ে এই জিপে চড়ে পুরো পার্ক একবার ঘুরে দেখা যায়। ধীরে ধীরে চালিয়ে চালক আপনাকে পার্কের বিভিন্ন অংশ ঘুরিয়ে দেখাবেন।

এত বড় পার্কে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে রয়েছে ম্যাসাজ সেন্টার। ১০০ টাকা দিয়ে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করানোর সুযোগ আছে। সেখানে বিশেষ ধরনের ম্যাসাজ চেয়ারে বসে থাকলেই যন্ত্রটি শরীর ম্যাসাজ করে দেবে।

ভূতের বাড়িতে ভয়ের অভিজ্ঞতা

এই পার্কের জনপ্রিয় রাইডগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূতের বাড়ি। জনপ্রতি টিকিটের দাম ১১০ টাকা। মানুষরূপী ভূত, পুতুল ও আবহসংগীতের সাহায্যে এখানে তৈরি করা হয়েছে ভৌতিক পরিবেশ। একবার না গেলে এর অভিজ্ঞতা বোঝানো কঠিন। যারা ভয় পেতে ভালোবাসেন কিংবা ভয়কে উপভোগ করেন, তাঁদের ভূতের বাড়িতে যাওয়া উচিত।

আগেই বলে রাখি, ভেতরে থাকা মানুষরূপী ভূতেরা আপনাকে তাড়া করতে পারে। তাই ভয় পেলেও মাথা ঠান্ডা রাখবেন। সিঁড়িতে চলার সময় কিংবা ভয়ে দৌড় দিতে গিয়ে যেন হোঁচট না খান, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

রিভার ক্যাব: অন্য রকম এক অভিজ্ঞতা

রিভার ক্যাবও বেশ উপভোগ্য একটি রাইড। এর টিকিটের দাম জনপ্রতি ২৫০ টাকা,যার মধ্যে ট্রেনে যাতায়াতের ব্যবস্থাও রয়েছে । এই রাইডে ছোট একটি বোটে চড়ে বিশেষভাবে তৈরি স্থাপনার নিচ দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। পানির স্রোতে বোটটি নিজে থেকেই চলে; আপনাকে চালাতে হয় না। যাত্রাপথে বিভিন্ন

সভ্যতা ও কুটিরশিল্পের নমুনা দেখতে পাবেন। সঙ্গে সংগীত, বর্ণনা ও বন্য প্রাণীর

ডাক আপনার মনে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগাবে। সব মিলিয়ে এটি দারুণ উপভোগ্য একটি রাইড। এ ছাড়া পার্কে রয়েছে স্পিডবোটে চড়ার ব্যবস্থা। ১৫০ টাকা দিয়ে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের স্পিডবোটে ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে।

পার্কের এক পাশে উঁচু জায়গায় গ্রামীণ জীবনের নানা দিক তুলে ধরে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে যেতে না পারলেও কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ছবি তোলা যাবে। এ সময় পার্কে অতিথি পাখিরও দেখা মিলতে পারে। তবে পাখির উপস্থিতি ঋতু ও সময়ের ওপর নির্ভরশীল।

গরমে পানিতে গোসল কিংবা জলকেলি করতে চাইলে রয়েছে ওয়াটার পার্ক। ৪৫০ টাকা দিয়ে সেখানে পানিতে নেমে আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।

টিকিট ও প্যাকেজ

পার্কে প্রবেশের টিকিট জনপ্রতি ৩৫০ টাকা। বিভিন্ন রাইডসহ একাধিক প্যাকেজও

রয়েছে। চাইলে প্যাকেজ কিনতে পারেন। আবার পার্কে প্রবেশের পর নিজের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা আলাদা রাইডেও চড়তে পারবেন। প্যাকেজ কিনলে খরচ কিছুটা কম হতে পারে। তবে প্যাকেজের সব রাইড আপনার পছন্দ না-ও হতে পারে। তাই কোনটি আপনার জন্য সুবিধাজনক, তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।

খাবারদাবার

পার্কের ভেতরে খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বাইরের তুলনায় খাবারের খরচ বেশি হতে পারে। এ ছাড়া বাইরে থেকে খাবার নিয়ে পার্কে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না বলে জানানো হয়েছে। তাই চাইলে পার্ক ঘুরে বেরিয়ে বাইরের কোনো রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়া করতে পারেন।

এক দিনেই আনন্দভ্রমণ

সব মিলিয়ে পরিবার, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের নিয়ে এক দিনের আনন্দময় ভ্রমণের জন্য ড্রিম হলিডে পার্ক হতে পারে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। বিভিন্ন রাইড, নৌভ্রমণ, গ্রামীণ পরিবেশ, শিশুদের বিনোদন এবং ভৌতিক অভিজ্ঞতা—সবমিলিয়ে এখানে কাটাতে পারেন আনন্দময় একটি দিন।

Picked up where you left off

Comments

Be this story’s first reader

+20 XP

Nobody has commented yet. Sign in, read it, and be first with a thoughtful comment to earn the bonus.

Sign in to claim

    Please login to post comment. Login