বিশ্বখ্যাত আইরিশ লেখক স্যালি রুনির বই ব্রিটেন থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর পাঠকদের মধ্যে তার বই কিনে নেওয়ার জন্য তুমুল হুড়োহুড়ি পড়ে গেছে। রুনির ব্রিটিশ প্রকাশক ফ্যাবার বইয়ের সরবরাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানানোর পর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তার বইয়ের বিক্রি প্রায় ২৯১% থেকে ৩৩১% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রিটেনের বেশিরভাগ বইয়ের দোকান থেকে তার বইয়ের মজুদ মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
নিষিদ্ধ ঘোষিত ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন 'প্যালেস্টাইন অ্যাকশন' এর প্রতি সমর্থন জানানোর কারণে সম্প্রতি ব্রিটেনের বাজারে বিক্রির জন্য রাখা স্যালি রুনির বইগুলো প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য করা হয়। গত সপ্তাহে ফ্যাবার জানিয়েছে, ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী তারা ব্রিটেন থেকে অর্জিত আয় রুনির কাছে হস্তান্তর করতে পারবে না। এছাড়া রুনির পূর্ণ সম্মতির ভিত্তিতে তার বই সরবরাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। বর্তমানে দোকানগুলোতে থাকা বইগুলো বিক্রি করা যাবে, তবে নতুন করে আর কোনো বই সরবরাহ করা হবে না।
এরপর পাঠকরা দোকানে যা অবশিষ্ট ছিল, তা কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। খুচরা বিক্রয় পর্যবেক্ষণ পরিষেবা নিলসেন বুকস্ক্যান ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, গত সপ্তাহে রুনির বইয়ের ৪ হাজার ৫৩১টি কপি বিক্রি হয়েছে, যা ফ্যাবারের ঘোষণার আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৯১ শতাংশ বেশি ছিল।
এদিকে বর্তমানে নতুন করে রুনির বই সংগ্রহ করা একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্টের ‘দ্য বেস্ট অব টাইমস’ নামের নতুন এক বইয়ের দোকান ও ক্যাফেতে এক পাঠক এসে আইরিশ এই লেখকের বই চাইলে, দোকানের মালিক গ্যাভিন বয়টার সেগুলো পুনরায় অর্ডার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্রিটেনের প্রধান বই পাইকারি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘গার্ডনার্স’ এর ওয়েবসাইটে দেখা যায়, তার লেখা প্রতিটি বইই পাওয়া যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রিস্টলের একটি বইয়ের দোকান 'বুকমার্কড' এ রুনির লেখা তিনটি উপন্যাস ছিল। গত সপ্তাহে ফ্যাবারের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রেতারা সবকটি বই কিনে ফেলেন। এখন দোকানটিতে আর কোনো বই নেই এবং নতুন করে পাওয়ারও কোনো উপায় নেই।
বুকমার্কড এর জেনারেল ম্যানেজার ইভলিন বলেন, 'স্যালি রুনির বইগুলো সরবরাহকারীদের ওয়েবসাইট থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যা সত্যিই খুব অস্বস্তিকর। এখন মনে হচ্ছে, বইগুলোকে আমাদের কাঁচের শোকেসের ভেতর রেখে দেওয়া উচিত ছিল। আইনটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো সেখানেই থাকত।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাকে সবচেয়ে বেশি যা উদ্বিগ্ন করেছে তা হলো, এটি একটি নজির তৈরি করছে। অন্যান্য দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে দেখে আমরা ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে উঠছি, কিন্তু এখন তা আমাদের দোরগোড়াতেই ঘটছে।'
রুনি সম্ভবত তার প্রজন্মের সবচেয়ে সুপরিচিত উপন্যাসিক। কেবল ব্রিটেনেই তার ‘নরমাল পিপল’ উপন্যাসটি দশ লাখেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। তার প্রতিটি নতুন বই প্রকাশের ঘটনাটি যেন একটি বড় আয়োজন। বই প্রকাশের দিন দোকানে দীর্ঘ সারি দেখা যায়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে দোকানগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই খুলে দেওয়া হয়। অথচ এখন ব্রিটিশ বইয়ের দোকানগুলো থেকে তার লেখা বইগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনিদের কট্টর সমর্থক হিসেবে রুনির পরিচিতি রয়েছে। গত বছর তিনি জানিয়েছিলেন, তার বই এবং সেগুলো অবলম্বনে নির্মিত বিবিসির টিভি সিরিজ থেকে প্রাপ্ত অর্থ তিনি ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ কে সহায়তা করার কাজে ব্যবহার করবেন। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার এটিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করে। বর্তমানে এই সংগঠনটিকে সহায়তা করা ব্রিটেনে একটি অপরাধমূলক কাজ, যার শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।