আমি এই বাংলায় বার বার ফিরে আসব,
যদি কোনোদিন হারিয়ে যায় আমার সমস্ত ঠিকানা,
যদি সময়ের ধুলোয় মুছে যায়
আমার নাম, আমার মুখ, আমার অস্তিত্বের ছায়া।
ফিরে আসব শীতের কুয়াশায় ঢাকা
কোনো এক অচেনা গ্রামের ভোরে,
যেখানে শিশিরের ঠান্ডা আঙুল ছুঁয়ে থাকে ঘাস,
আর দূরের বাঁশবাগানে জেগে ওঠে
নাম না-জানা পাখির বিষণ্ন গান।
আমি ফিরে আসব ধানক্ষেতের পাশে,
মাটির পথের ধুলো মেখে,
কোনো কৃষকের ক্লান্ত চোখে জমে থাকা
এক ফোঁটা স্বপ্ন হয়ে;
ফিরে আসব নদীর বুকে ভেসে চলা
একটি নিঃসঙ্গ নৌকার ছায়ায়।
যে নদী একদিন আমাকে শিখিয়েছিল
হারিয়ে যাওয়ারও নিজস্ব সৌন্দর্য আছে,
যে আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে
প্রথম বুঝেছিলাম, মানুষ আসলে
নিজের চেয়ে অনেক বড় এক পৃথিবীর নাম।
আমি ফিরে আসব শালিকের ডানায়,
বৃষ্টিভেজা উঠোনের নরম গন্ধে,
পুকুরের জলে নুয়ে পড়া
কদমগাছের নিঃশব্দ বিকেলে;
ফিরে আসব মায়ের পুরোনো শাড়ির ভাঁজে
লুকিয়ে থাকা শৈশবের কাছে।
যদি পৃথিবী একদিন পাথর হয়ে যায়,
যদি মানুষের চোখে আর কোনো মায়া না থাকে,
তবু আমি খুঁজে নেব এই বাংলার মাটি,
যেখানে দুঃখও জন্ম দেয় সবুজ ঘাস,
আর মৃত্যুর পরেও বাতাসে ভেসে থাকে
কোনো প্রিয় মানুষের কণ্ঠস্বর।
আমি এই বাংলায় বার বার ফিরে আসব,
কখনো অন্ধকারে হারানো জোনাকি হয়ে,
কখনো নদীর ওপারে ডেকে ওঠা
একটি একাকী পাখির দীর্ঘশ্বাস হয়ে;
যতবার জীবন আমাকে দূরে সরিয়ে দেবে,
ততবার এই মাটিই আমাকে চিনে নেবে।
কারণ আমার সমস্ত প্রস্থান
শেষ পর্যন্ত এই বাংলার দিকেই যাত্রা,
আমার সমস্ত হারিয়ে যাওয়া
এই বাংলার বুকেই ফিরে পাওয়া;
আমি জানি, একদিন পৃথিবী থাকবে না,
থাকবে না আমার ফেরার পথটুকুও,
তবু কোনো এক অনন্ত ভোরে,
বাংলার আকাশে নতুন সূর্য উঠলে,
আমি আবার জন্ম নেব
এই মাটির ঘাসে, এই নদীর জলে,
এই বাংলার অবিনশ্বর ভালোবাসায়।