স্কুলের সেই পাগলাটে দুষ্টুমিগুলো
স্যারের বকুনি, বন্ধুদের হাসাহাসি আর বেঞ্চের নিচে লুকানো হাজারো দুষ্টুমি!
আমাদের স্কুলে পাঁচজন বন্ধুর একটি দল ছিল। আমি, রাকিব, সজীব, হৃদয় আর নিলয়। পড়াশোনায় আমরা মোটামুটি হলেও দুষ্টুমিতে ছিলাম সবার সেরা!
স্কুলে ঢোকার সময় আমাদের মুখ থাকত একদম ভালো ছেলের মতো। কিন্তু ক্লাস শুরু হওয়ার পরই আসল খেলা শুরু হতো।
১. স্যারের নকল গলা
একদিন বাংলা ক্লাসে স্যার একটু বাইরে গিয়েছিলেন। স্যার বের হতেই রাকিব স্যারের মতো গলা করে বলল,
—এই তোমরা সবাই চুপচাপ বসো!
আমরা সবাই চুপ হয়ে গেলাম।
ঠিক তখনই পেছন থেকে আসল স্যার বলে উঠলেন,
—বাহ! আমার জায়গাটা তো ভালোই সামলাচ্ছ!
রাকিব ঘুরে তাকিয়ে দেখে স্যার দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন। সেদিন রাকিবের মুখের অবস্থা দেখার মতো ছিল!
২. বেঞ্চের নিচে মোবাইলের গল্প
একদিন সজীব তার বড় ভাইয়ের পুরোনো মোবাইল স্কুলে নিয়ে এসেছিল। টিফিনের সময় আমরা সবাই বেঞ্চের নিচে বসে মোবাইলে ছবি দেখছিলাম।
হঠাৎ স্যার ক্লাসে ঢুকে বললেন,
—তোমরা নিচে কী খুঁজছ?
হৃদয় সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
—স্যার, আমার কলম পড়ে গেছে!
স্যার বললেন,
—তাহলে পাঁচজন মিলে কলম খুঁজছ কেন?
আমরা কেউ আর উত্তর দিতে পারলাম না।
৩. বন্ধুর খাতায় প্রেমপত্র
একদিন নিলয় তার খাতা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাগে রেখেছিল। রাকিব মজা করে খাতার শেষ পাতায় লিখে দিল,
"প্রিয় স্যার, আপনার ক্লাস আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা!"
পরের দিন স্যার খাতা দেখতে গিয়ে লেখাটি পড়ে ফেললেন।
স্যার হেসে বললেন,
—নিলয়, তোমার ভালোবাসা দেখে আমি মুগ্ধ!
নিলয় তখন রাকিবের দিকে এমনভাবে তাকাল, যেন সুযোগ পেলে বন্ধুকে ছাড়বে না!
৪. টিফিনের বিরিয়ানি রহস্য
একদিন হৃদয় বাড়ি থেকে বিরিয়ানি নিয়ে এসেছিল। সে খুব যত্ন করে টিফিন বক্স ব্যাগের ভেতরে রেখেছিল।
কিন্তু টিফিনের সময় ব্যাগ খুলে দেখে বক্স খালি!
সে চিৎকার করে বলল,
—আমার বিরিয়ানি কে খেল?
রাকিব বলল,
—বন্ধু, বিরিয়ানি তো খাবার। রেখে দিলে নষ্ট হয়ে যেত!
হৃদয় বলল,
—তাহলে তুই আমার পেটের দায়িত্বও নিয়ে নে!
আমরা হাসতে হাসতে শেষ!
৫. ক্লাসে ঘুমানোর অভিনয়
একদিন গণিত স্যার কঠিন অঙ্ক করাচ্ছিলেন। নিলয় কিছুই বুঝতে পারছিল না। তাই সে চোখ বন্ধ করে বসে রইল।
স্যার জিজ্ঞেস করলেন,
—নিলয়, অঙ্কটা বুঝেছ?
নিলয় চোখ না খুলেই বলল,
—জি স্যার, স্বপ্নেও বুঝতে পারছি!
স্যার বললেন,
—তাহলে স্বপ্ন থেকেই বোর্ডে এসে সমাধান করে দাও!
পুরো ক্লাসে হাসির ঝড় উঠল।
৬. স্কুলের শেষ ঘণ্টা
আমাদের কাছে সবচেয়ে আনন্দের শব্দ ছিল স্কুলের ছুটির ঘণ্টা।
ঘণ্টা বাজলেই আমরা ব্যাগ নিয়ে দৌড় দিতাম। একদিন স্যার বললেন,
—তোমরা কি স্কুলে পড়তে আসো, নাকি ঘণ্টা শুনতে আসো?
রাকিব আস্তে করে বলল,
—স্যার, ঘণ্টা না বাজলে যে বাড়িতে আম্মার বকুনি খেতে হবে!
স্যার কথাটা শুনে নিজেও হেসে ফেললেন।
শেষ কথা
আজ সেই স্কুল নেই আমাদের প্রতিদিনের জীবনে। নেই সেই পুরোনো বেঞ্চ, নেই টিফিন ভাগাভাগি, নেই স্যারের বকুনি।
বন্ধুরা সবাই যে যার জীবনে ব্যস্ত হয়ে গেছে।
কখনো পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলে আবার সেই দুষ্টুমির গল্প শুরু হয়। মনে হয়, সময়টা যদি একবার পিছিয়ে যেত!
আসলে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়গুলোর একটি হলো স্কুলজীবন। যেখানে টাকা ছিল না, বড় কোনো চিন্তা ছিল না, কিন্তু আনন্দ ছিল অফুরন্ত।
ইশ! আবার যদি একদিন স্কুলের সেই দুষ্টু ছেলেগুলো হয়ে ফিরতে পারতাম! ❤️