সংবাদপত্র, ন্যারেটিভ ও পেশাদার সাংবাদিকতা: ১২টি প্রশ্নের তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ
নিচের উত্তরগুলো আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার নীতিমালা, গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক প্রকাশনা এবং Reuters Institute, Reuters ও Society of Professional Journalists (SPJ)-এর প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
১. ন্যারেটিভ কী?
ন্যারেটিভ (Narrative) অর্থ হলো কোনো ঘটনা, বিষয় বা পরিস্থিতিকে নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যাখ্যা ও ধারাবাহিকতার মাধ্যমে উপস্থাপন করা।
সহজ ভাষায়, একটি ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, কেন ঘটেছে, এর পেছনের কারণ কী এবং ঘটনাটিকে আমরা কীভাবে বুঝব—এসব বিষয়কে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোয় উপস্থাপন করাই ন্যারেটিভ।
সংবাদমাধ্যম কোনো ঘটনা নির্বাচন, গুরুত্ব নির্ধারণ, শিরোনাম তৈরি এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরার মাধ্যমে একটি ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: Wiley, Agenda-Setting, Priming and Framing (2016); SAGE, What is Narrative Journalism?
২. ন্যারেটিভ কত প্রকার এবং কী কী?
ন্যারেটিভের সর্বজনস্বীকৃত নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যাভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ নেই। তবে গণমাধ্যম ও যোগাযোগবিদ্যার আলোচনায় কয়েকটি প্রচলিত ধরন রয়েছে।
১. তথ্যভিত্তিক ন্যারেটিভ: যাচাই করা তথ্য ও ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি ব্যাখ্যা।
২. রাজনৈতিক ন্যারেটিভ: রাজনৈতিক ঘটনা ও ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উপস্থাপন।
৩. আদর্শিক ন্যারেটিভ: কোনো নির্দিষ্ট আদর্শ, বিশ্বাস বা মূল্যবোধের আলোকে বিষয় ব্যাখ্যা।
৪. জাতীয় ন্যারেটিভ: দেশের ইতিহাস, পরিচয়, অর্জন ও সংকটকে কেন্দ্র করে তৈরি বয়ান।
৫. প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণামূলক ন্যারেটিভ: নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা উদ্দেশ্যের পক্ষে জনমত প্রভাবিত করার জন্য তৈরি বয়ান।
এগুলো গবেষণায় ব্যবহৃত ধারণার আলোকে সাজানো শ্রেণি; কোনো একক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তালিকা নয়।
সূত্র: Kobie van Krieken ও José Sanders, What is Narrative Journalism? (2021); Wiley, Framing and Agenda-Setting।
৩. একটি সংবাদপত্র কি ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারে?
অবশ্যই পারে।
প্রতিটি সংবাদপত্র প্রতিদিন অসংখ্য সংবাদ থেকে কিছু সংবাদ নির্বাচন করে। কোন সংবাদ প্রথম পাতায় আসবে, কোনটি গুরুত্ব পাবে, কোন ঘটনার কী দিক তুলে ধরা হবে—এসব সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়।
যোগাযোগবিদ্যায় একে Agenda-setting ও Framing বলা হয়।
Agenda-setting তত্ত্ব অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যম মানুষকে সরাসরি কী ভাবতে হবে তা না বলে কোন বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে, সেই গুরুত্ব নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: Oxford Research Encyclopedia, Agenda Setting and Journalism (2019)।
৪. পাঠক কি ন্যারেটিভ বিশ্বাস করতে বাধ্য, নাকি যাচাই-বাছাই করে বিশ্বাস করবেন?
পাঠক কোনো সংবাদপত্রের ন্যারেটিভ বিশ্বাস করতে বাধ্য নন।
তিনি সংবাদ পড়বেন, তথ্য যাচাই করবেন, অন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখবেন এবং নিজস্ব বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন।
একটি সংবাদপত্রের বক্তব্য গ্রহণ করা বা প্রত্যাখ্যান করা সম্পূর্ণভাবে পাঠকের স্বাধীনতা।
তবে বাস্তবে সংবাদমাধ্যমের উপস্থাপন মানুষের চিন্তাভাবনা ও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই পাঠকের তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: UNESCO, Media and Information Literacy; Oxford Research Encyclopedia, Agenda Setting and Journalism।
৫. পৃথিবীর জনপ্রিয় সংবাদপত্রগুলো কি ন্যারেটিভ তৈরি করে?
হ্যাঁ। বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রগুলোও নিজস্ব সম্পাদকীয় অবস্থান, দৃষ্টিভঙ্গি ও উপস্থাপনার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে ন্যারেটিভ তৈরি করে।
উদাহরণ হিসেবে:
The New York Times
The Guardian
The Washington Post
The Wall Street Journal
The Times
এসব সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় অবস্থান ও সংবাদ উপস্থাপনার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, সম্পাদকীয় অবস্থান থাকা এবং তথ্য বিকৃত করা এক বিষয় নয়। প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী, সংবাদ ও মতামতকে আলাদা করে উপস্থাপন করা উচিত।
সূত্র: Reuters Journalistic Standards; Reuters Trust Principles।
৬. ন্যারেটিভ কি মিথ্যা হয়?
হ্যাঁ, ন্যারেটিভ সত্যও হতে পারে, মিথ্যাও হতে পারে।
ন্যারেটিভ নিজে মিথ্যা নয়। এটি কোনো ঘটনা ব্যাখ্যা ও উপস্থাপনের একটি পদ্ধতি। কিন্তু কোনো সংবাদমাধ্যম যদি অসমর্থিত তথ্য, বানোয়াট ঘটনা, অর্ধসত্য বা ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ন্যারেটিভ তৈরি করে, তাহলে সেটি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ হতে পারে।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে: একটি ন্যারেটিভের কিছু তথ্য সত্য হলেও সামগ্রিক উপস্থাপনা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
সূত্র: Reuters Journalistic Standards; Society of Professional Journalists (SPJ), Code of Ethics।
৭. ন্যারেটিভের পাঁচটি ভালো ও পাঁচটি মন্দ দিক কী?
ভালো দিক:
১. জটিল বিষয় সহজে বোঝাতে সাহায্য করে।
২. কোনো ঘটনার পেছনের কারণ ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে।
৩. জনসচেতনতা তৈরি করতে পারে।
৪. গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও জাতীয় সমস্যা নিয়ে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
৫. পাঠককে কোনো বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে উৎসাহিত করে।
মন্দ দিক:
১. একপক্ষীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
২. তথ্যের নির্বাচিত উপস্থাপনার মাধ্যমে পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারে।
৩. রাজনৈতিক বা আদর্শিক পক্ষপাত তৈরি করতে পারে।
৪. অর্ধসত্য ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে।
৫. সমাজে বিভাজন ও ভুল ধারণা বাড়াতে পারে।
সূত্র: Wiley, Agenda-Setting, Priming and Framing; Annual Review of Political Science, Framing Theory (2007)।
৮. একটি সংবাদপত্রকে বলা হয়, সে তার মতের ন্যারেটিভ তৈরি করে। এটা কি দোষের কিছু? সে তো আর কাউকে তার ন্যারেটিভ বিশ্বাস করতে বাধ্য করছে না?
নিজস্ব সম্পাদকীয় অবস্থান বা দৃষ্টিভঙ্গি থাকা কোনো সংবাদপত্রের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে দোষের বিষয় নয়।
গণতান্ত্রিক সমাজে সংবাদমাধ্যমের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। একটি সংবাদপত্র তার সম্পাদকীয় নীতির আলোকে বিভিন্ন বিষয়ে অবস্থান নিতে পারে।
কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় যখন সংবাদপত্রটি তার মতামতকে সংবাদ হিসেবে উপস্থাপন করে, তথ্য গোপন করে, অসমর্থিত অভিযোগ প্রকাশ করে অথবা পাঠককে বিভ্রান্ত করার মতো তথ্য প্রকাশ করে।
অর্থাৎ, ন্যারেটিভ তৈরি করা দোষের নয়; কিন্তু ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সাংবাদিকতার নীতি লঙ্ঘন করা অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ।
সূত্র: Reuters Journalistic Standards; SPJ Code of Ethics।
৯. প্রত্যেক সংবাদপত্র কি তার মতের ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারে?
হ্যাঁ। প্রত্যেক সংবাদপত্রের নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতি, আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে।
কোনো সংবাদপত্র রাজনৈতিকভাবে উদারপন্থী, রক্ষণশীল, মধ্যপন্থী কিংবা নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতি সমর্থনশীল হতে পারে।
এটি সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় স্বাধীনতার অংশ।
তবে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা, নিরপেক্ষতা, যথাযথ সূত্র উল্লেখ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার মতো পেশাগত দায়িত্ব রয়েছে।
সূত্র: Reuters Trust Principles; SPJ Code of Ethics।
১০. একটি সংবাদপত্র একের পর এক অসমর্থিত সূত্র বা সূত্র উল্লেখ না করে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ করল। এটাকে কি পেশাদার সাংবাদিকতার কাতারে ফেলা যায়?
এক্ষেত্রে সংবাদগুলোর ধরন ও তথ্যের সত্যতা বিবেচনা করতে হবে।
সাংবাদিকতায় সব সময় সূত্রের নাম প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়। কোনো সূত্রের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে সাংবাদিক পরিচয় গোপন রাখতে পারেন।
কিন্তু সূত্রের পরিচয় গোপন রাখা এবং কোনো সূত্র ছাড়াই সংবাদ প্রকাশ করা এক বিষয় নয়।
Reuters-এর সাংবাদিকতার নীতিমালায় বলা হয়েছে:
সম্ভব হলে নামযুক্ত সূত্র ব্যবহার করতে হবে।
নাম প্রকাশ না করা সূত্রের তথ্যও যাচাই করতে হবে।
একাধিক সূত্রের মাধ্যমে তথ্য মিলিয়ে দেখা উচিত।
একক অজ্ঞাতনামা সূত্রের তথ্য প্রকাশ করতে হলে বিশেষ সতর্কতা ও অনুমোদন প্রয়োজন।
তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে আরও যাচাই করতে হবে।
সুতরাং, গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের যথার্থতা যাচাই না করা এবং কোনো বিশ্বাসযোগ্য সূত্র বা প্রমাণ ছাড়া ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করা পেশাদার সাংবাদিকতার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে সংবাদটি সত্য প্রমাণিত হলে শুধু সূত্রের নাম প্রকাশ না করার কারণে সেটিকে মিথ্যা বলা যাবে না।
সূত্র: Reuters, Standards and Values – Accuracy and Sourcing; SPJ Code of Ethics।
১১. একটি বিখ্যাত সংবাদপত্রের পাঁচটি প্রধান বৈশিষ্ট্য বা গুণ কী কী?
আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী একটি ভালো সংবাদপত্রের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো:
১. তথ্যের নির্ভুলতা: প্রকাশিত সংবাদ যাচাই করা এবং ভুল হলে সংশোধন করা।
২. স্বাধীনতা: রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত থেকে সংবাদ প্রকাশ।
৩. বিশ্বাসযোগ্যতা: তথ্যের সূত্র, প্রমাণ ও বক্তব্যের যথাযথ ভিত্তি থাকা।
৪. ভারসাম্য: কোনো বিতর্কিত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য তুলে ধরা।
৫. জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা: ভুল স্বীকার করা, সংশোধনী প্রকাশ করা এবং পাঠকের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার রাখা।
এই পাঁচটি গুণই একটি সংবাদপত্রের দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: Reuters, The 10 Hallmarks of Reuters Journalism; SPJ, Code of Ethics।
১২. শুধুমাত্র ন্যারেটিভ তৈরি করে কি একটি সংবাদপত্র ২৮ বছর টিকে থাকতে পারে?
শুধুমাত্র ন্যারেটিভ তৈরি করে একটি সংবাদপত্র দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্ভরযোগ্য গবেষণা পাওয়া যায় না।
একটি সংবাদপত্র দীর্ঘদিন টিকে থাকার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে।
যেমন:
পাঠকের চাহিদা ও আগ্রহ।
সংবাদ পরিবেশনের ধারাবাহিকতা।
ব্র্যান্ড পরিচিতি ও সুনাম।
বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন থেকে আয়।
সম্পাদকীয় অবস্থান ও পাঠকের সঙ্গে সম্পর্ক।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উপস্থিতি।
অর্থাৎ, একটি সংবাদপত্রের ন্যারেটিভ তার পরিচিতি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার একমাত্র কারণ ন্যারেটিভ—এমন দাবি করার ভিত্তি নেই।
সূত্র: Reuters Institute, Digital News Report 2025; Digital News Report 2026।
অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: একটি সংবাদপত্রের ন্যারেটিভ দেশের বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাস না করলেও সেটি দীর্ঘদিন এক নম্বর অবস্থানে থাকে কীভাবে?
এখানে প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার: একটি সংবাদপত্রের এক নম্বর অবস্থানে থাকা এবং তার ন্যারেটিভ দেশের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করা—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
একটি সংবাদপত্রের জনপ্রিয়তা বা পাঠকসংখ্যা অনেক কারণে বেশি হতে পারে।
১. পাঠক তার সব মতামতের সঙ্গে একমত না হলেও সংবাদ পড়তে পারেন।
২. সংবাদপত্রটির সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও তথ্যের জন্য পাঠক আগ্রহী হতে পারেন।
৩. দীর্ঘদিনের ব্র্যান্ড পরিচিতি ও পাঠকের অভ্যাস থাকতে পারে।
৪. পাঠক কোনো সংবাদপত্রের নির্দিষ্ট কিছু সংবাদ বিশ্বাস করলেও সব সংবাদ বা সম্পাদকীয় অবস্থান বিশ্বাস নাও করতে পারেন।
৫. সংবাদপত্রের জনপ্রিয়তা এবং তার প্রতি পাঠকের আস্থা এক বিষয় নয়।
Reuters Institute-এর গবেষণায়ও সংবাদমাধ্যমের ব্যবহার, জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়।
সুতরাং, কোনো সংবাদপত্র দীর্ঘদিন এক নম্বর অবস্থানে থাকলেই প্রমাণ হয় না যে দেশের অধিকাংশ মানুষ তার ন্যারেটিভ বিশ্বাস করে। আবার অধিকাংশ মানুষ তার ন্যারেটিভ বিশ্বাস করে না—এমন দাবিও জরিপ ছাড়া প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
সূত্র: Reuters Institute, Digital News Report 2025 ও 2026।
সামগ্রিক সিদ্ধান্ত
এই ১২টি প্রশ্নের আলোচনায় তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
১. ন্যারেটিভ তৈরি করা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অংশ। নিজস্ব সম্পাদকীয় দৃষ্টিভঙ্গি থাকা অপরাধ নয়।
২. ন্যারেটিভের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তথ্যের সত্যতা। একটি সংবাদপত্রের মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে।
৩. সংবাদপত্রের জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা এক জিনিস নয়। পাঠক কোনো সংবাদপত্র নিয়মিত পড়তে পারেন, কিন্তু তার সব বক্তব্য বিশ্বাস নাও করতে পারেন।