প্রতিটি ঘরে একটা তাক থাকে, যেটা আমরা সবচেয়ে শেষে খুলি।
কারও বেলায় সেটা মায়ের আলমারির নিচের তাক। কারও বেলায় একটা না-শোনা ভয়েস মেসেজ, না-খোলা খাম, বন্ধ করে রাখা জানালা। আমরা জানি ভেতরে কিছু আছে। আমরা এও জানি, খুললে আর আগের মতো থাকব না। তাই দিনের পর দিন, বছরের পর বছর, পাশ কাটিয়ে যাই।
এই বইয়ের গল্পগুলো সেই তাকগুলো নিয়ে।
এখানে এক ছেলে মায়ের টিনের বাক্সের বালিতে কান পাতে, আর শুনতে পায় সমুদ্রের শব্দ। একজন ভাষাবিদ এমন একটা শব্দ খুঁজে পান, যেটা মুখে আনলেই মরে যাবে। এগারোটা জানালার একটা বাড়িতে হঠাৎ বারো নম্বরটা কোথা থেকে আসে, কেউ জানে না। এক বৃদ্ধ বাঁশ কেটে একটা লাঠি বানান এমন একজনের জন্য, যে এখনো ফেরেনি। একটা গাছ ত্রিশ বছর কিছু না বলে একদিন ফুল ফোটায়। এক ফটোগ্রাফার এমন ছবি তোলেন, যেখানে মৃত মানুষের ছায়া সত্যি কথা বলে। আর একটা চেয়ার, একটা বাতি, একটা কাঁথা, একটা দরজা, প্রত্যেকটাই কারও জন্য অপেক্ষা করে।
এগুলো ছোট গল্প। কোনোটা পাঁচ-সাত মিনিটেও পড়ে ফেলা যায়। পাঠকদের সাম্প্রতিক পাঠ-প্রবণতাকে বিবেচনায় নিয়ে মূলতঃ গল্পগুলোকে যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত করেছি সম্পাদনার সময়।
কোনো কোনো গল্পে প্রশ্ন আছে, আর সেই প্রশ্নের উত্তর একটু ভাবলে আপনার নিজের কাছেই পাবেন, আপনার নিজেরই আলমারির বা ঘরের কোনো একটা তাকে।
বইয়ের দুটো গল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এর সৃজনশীল ব্যবহার নিয়ে ভাবনা, দ্বন্দ্ব ও প্রশ্ন আছে – তবে কোন সিদ্ধান্ত বা মত নেই।
সততার সাথে এখানে একটা স্বীকারোক্তি রাখতে চাই - পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করতে ধারাবাহিকতা-যাচাই ও বিশেষ করে সংক্ষিপ্তকরণের ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরামর্শে আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল Claude-এর সম্পাদকীয় সহায়তা নিয়েছি।
আপনি যদি কখনো কারও ফোনের মেসেজ খুলতে ভয় পেয়ে থাকেন, যদি কখনো কারও জন্য দরজা খোলা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে থাকেন, যদি কখনো এমন কিছু অনুভব করে থাকেন যার জন্য ভাষায় কোনো শব্দ খুঁজে পাননি, তাহলে এই বই আপনার জন্য।
গল্পগুলো যেকোনো ক্রমে পড়া যায়। আমার মনে হয়েছে সমুদ্রের শব্দ আলমারির ভেতর থেকেই শুরু হয়।
কান পাতুন।