রাত ৩টা ১৭ মিনিট।
শহর তখন এমন এক অদ্ভুত নীরবতার মধ্যে ডুবে ছিল, যাকে সম্পূর্ণ নীরবতা বলা যায় না। দূরের মহাসড়ক দিয়ে ভারী কোনো ট্রাক চলে গেলে কয়েক সেকেন্ডের জন্য জানালার কাচ কেঁপে উঠছিল, তারপর আবার সবকিছু থেমে যাচ্ছিল। কোথাও কোনো কুকুর ডাকছিল, কোনো অচেনা পাখি হঠাৎ ডানা ঝাপটাচ্ছিল, আর পুরোনো বৈদ্যুতিক খুঁটির মাথায় লাগানো বাতিগুলো বাতাসে সামান্য দুলছিল। রাতের শহরকে বাইরে থেকে শান্ত মনে হলেও তার ভেতরে তখনও অসংখ্য জীবন জেগে ছিল। কোনো হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক রোগীর জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন, কোনো থানায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা রাতের ডিউটির হিসাব লিখছিলেন, কোনো বাস টার্মিনালে একজন শ্রমিক চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিচ্ছিলেন, আর শহরের অন্য প্রান্তে কোনো এক ঘরে একজন মানুষ এমন একটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন, যার ফলাফল কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বহু মানুষের জীবন বদলে দেবে।
শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে পুরোনো শিল্পাঞ্চলের শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে ছিল একটি সাততলা ভবন। নাম—নিরালা টাওয়ার। নামটি শুনলে মনে হতে পারে ভবনটি কোনো আবাসিক এলাকা, কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল একটি পুরোনো বাণিজ্যিক ভবন। প্রায় বাইশ বছর আগে ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন। তখন চারপাশে তেমন কোনো স্থাপনা ছিল না। দিনের বেলায় ট্রাক, শ্রমিক আর কারখানার শব্দে জায়গাটি সরগরম থাকত, কিন্তু রাত নামলেই পুরো এলাকা বদলে যেত। সময়ের সঙ্গে শহর বাড়তে থাকে। পুরোনো কারখানার জায়গায় নতুন ভবন ওঠে, রাস্তা প্রশস্ত হয়, দোকানপাট আসে, মানুষের সংখ্যা বাড়ে। কিন্তু নিরালা টাওয়ার যেন সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ভবনের দেয়ালে বয়সের দাগ, সিঁড়ির কোণে জমে থাকা ধুলো, পুরোনো লিফটের কাঁপুনি—সবকিছু মিলিয়ে জায়গাটির মধ্যে এক ধরনের ক্লান্তি ছিল।
ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন আবদুল কাদের। বয়স আটষট্টি। শরীর আর আগের মতো শক্তিশালী নয়, কিন্তু দায়িত্বের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত নিয়মিত। সন্ধ্যা সাতটার পর ভবনের প্রতিটি তলা ঘুরে দেখা, প্রধান ফটকের তালা পরীক্ষা করা, রাত দশটার পর প্রবেশের রেজিস্টার বন্ধ করা—এসব কাজ তিনি বছরের পর বছর ধরে করে আসছিলেন। মানুষটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তার স্মৃতি। ভবনের কোন ঘরে কোন অফিস, কোন ভাড়াটিয়া কখন আসে, কে সাধারণত কোন গাড়িতে আসে—এসব তার প্রায় মুখস্থ ছিল। তাই রাতের কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা তার চোখ এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
সেদিন রাতেও তিনি নিয়মমতো প্রধান ফটক বন্ধ করেছিলেন। রাত দশটা পঁয়তাল্লিশ মিনিটে শেষ ভাড়াটিয়া বের হয়ে যাওয়ার পর তিনি প্রবেশপথের আলো পরীক্ষা করেছিলেন। তারপর নিচতলার নিরাপত্তাকক্ষে গিয়ে বসেছিলেন। পুরোনো একটি টেবিল ফ্যান ঘুরছিল। পাশে ছিল অ্যালুমিনিয়ামের গ্লাসে পানি এবং একটি ছোট রেডিও। রেডিওতে তখন খুব নিচু শব্দে রাতের অনুষ্ঠান চলছিল। কাদেরের চোখ কখন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তিনি নিজেও জানতেন না।
হঠাৎ একটি শব্দে তার ঘুম ভেঙে গেল।
টক।
তিনি চোখ খুললেন।
কয়েক সেকেন্ড চুপ করে বসে রইলেন।
তারপর আবার—
টক।
শব্দটি ওপর থেকে এসেছে বলে মনে হলো।
কাদের ঘড়ির দিকে তাকালেন। রাত ৩টা ১৭ মিনিট।
তিনি ধীরে ধীরে উঠে বসলেন। কয়েক মুহূর্ত কান পেতে রইলেন। কোনো শব্দ নেই। তিনি নিজেকে বোঝালেন, হয়তো পুরোনো ভবনের কোনো ধাতব অংশে বাতাসের চাপ পড়েছে। এমন শব্দ এই ভবনে নতুন নয়। আবার শুয়ে পড়ার জন্য ঠিক যখন তিনি কম্বল টেনে নিলেন, তখন তার মোবাইল ফোনটি বেজে উঠল।
অপরিচিত নম্বর।
কাদের ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। এত রাতে ফোন আসা অস্বাভাবিক। প্রথমে তিনি ধরবেন না ভেবেছিলেন। কিন্তু ফোনটি দ্বিতীয়বার বেজে উঠতেই তিনি কলটি গ্রহণ করলেন।
—হ্যালো?
কোনো উত্তর নেই।
—হ্যালো? কে বলছেন?
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর খুব নিচু স্বরে একজন পুরুষ বলল, “সাততলায় যাবেন না।”
কাদেরের বুকের ভেতর কেমন যেন করে উঠল।
তিনি বললেন, “কে বলছেন?”
কোনো উত্তর এল না।
“আপনি কে?”
লাইন কেটে গেল।
কাদের ফোনটি নামিয়ে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে বসে থাকলেন। তার প্রথম চিন্তা ছিল—কেউ কি মজা করছে? কিন্তু তার দ্বিতীয় চিন্তাটি ছিল আরও ভয়ংকর।
সাততলা।
ভবনের সপ্তম তলা প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ।
সেখানে কোনো নিয়মিত অফিস চলত না। মালিকের ব্যক্তিগত অফিস ছাড়া তলায় আর তেমন কিছু ছিল না। দরজায় তালা লাগানো থাকত। কাদের নিজে সপ্তাহে একবার গিয়ে ধুলো পরিষ্কার করতেন।
আর সেই তলার অতিরিক্ত চাবিটি তার কাছে থাকার কথা নয়।
তার কাছে থাকা চাবিটি ছিল প্রধান প্রবেশদ্বার, নিরাপত্তাকক্ষ, সিঁড়ির কয়েকটি দরজা এবং পুরোনো স্টোররুমের। সপ্তম তলার মূল অফিসের চাবি ছিল মালিক মোস্তাক আহমেদের কাছে।
কাদের ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন।
তারপর সিঁড়ির দিকে তাকালেন।
ভেতরের কোনো একটা ভয় তাকে বলছিল, ফোনের কথা উপেক্ষা করা উচিত। কিন্তু অন্যদিকে দায়িত্ববোধ তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল।
তিনি টর্চটি হাতে নিলেন।
সিঁড়িতে পা রাখলেন।
প্রথম তলা থেকে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত সব স্বাভাবিক। তৃতীয় তলায় একটি বাতি জ্বলছিল না। চতুর্থ তলার দেয়ালে পুরোনো বিজ্ঞাপনের পোস্টার ঝুলছিল। পঞ্চম তলায় উঠতেই বাতাস কিছুটা ঠান্ডা মনে হলো। ষষ্ঠ তলার সিঁড়িতে পৌঁছানোর পর পুরো জায়গাটি অন্ধকার।
কাদের টর্চ জ্বালালেন।
সামনে সপ্তম তলার দরজা।
তারপর তিনি থেমে গেলেন।
দরজায় তালা থাকার কথা।
কিন্তু তালা নেই।
দরজাটি সামান্য খোলা।
কাদেরের হাত থেকে টর্চ প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।
তিনি কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইলেন।
তারপর খুব ধীরে দরজাটি ঠেলে খুললেন।
ঘরের ভেতর থেকে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে এল।
টর্চের আলো প্রথমে মেঝেতে পড়ল। তারপর দেয়ালে। তারপর বড় কাঠের টেবিলে। এরপর ঘরের মাঝখানে পড়ে থাকা একজন মানুষের শরীরে।
কাদেরের শরীর জমে গেল।
লোকটি উপুড় হয়ে পড়ে আছে।
সাদা শার্ট।
কালো প্যান্ট।
এক হাত শরীরের নিচে চাপা, অন্য হাত সামান্য দূরে ছড়িয়ে আছে।
কাদের এক পা এগিয়ে আবার থেমে গেলেন।
মেঝের কাছে একটি কালো ডায়েরি পড়ে আছে।
ডায়েরিটির এক কোণে গাঢ় লাল দাগ।
তিনি আর সামনে এগোলেন না।
দৌড়ে নিচে নেমে এলেন।
নিরাপত্তাকক্ষে ফিরে এসে প্রথমে মালিককে ফোন করলেন। ফোন বন্ধ। আবার করলেন। কোনো সাড়া নেই। তারপর থানায় ফোন করলেন।
রাত ৩টা ৩১ মিনিটে পুলিশের কাছে খবর পৌঁছাল।
নিরালা টাওয়ারের সামনে প্রথম পুলিশ গাড়ি পৌঁছাল ৩টা ৪৪ মিনিটে।
উপপরিদর্শক রাকিব হাসান গাড়ি থেকে নামলেন। তার সঙ্গে ছিলেন কনস্টেবল সজীব, নাসির এবং তৌহিদ। তারা কাদেরকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। কাদের বারবার একই কথা বললেন—তিনি লাশ দেখেছেন, কিন্তু কাউকে দেখেননি। শুধু একটি ফোন এসেছিল।
রাকিব জিজ্ঞেস করলেন, “ফোনে কী বলেছিল?”
কাদের কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, “বলেছে—সাততলায় যাবেন না।”
রাকিব আর কোনো প্রশ্ন করলেন না।
তিনি থানায় খবর পাঠিয়ে দিলেন যে ঘটনাটি সাধারণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে না দেখে ঊর্ধ্বতন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো প্রয়োজন।
ভোর ৪টা ২ মিনিটে নিরালা টাওয়ারের সামনে একটি কালো গাড়ি এসে থামল।
গাড়ি থেকে নামলেন গোয়েন্দা আরিফ রহমান।
আরিফের বয়স ঊনচল্লিশ। পুলিশের চাকরিতে প্রায় সতেরো বছর। ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও তিনি নিজেকে কখনো অসাধারণ গোয়েন্দা বলে মনে করতেন না। বরং তিনি বিশ্বাস করতেন, অধিকাংশ অপরাধই মানুষের অসাধারণ বুদ্ধির কারণে নয়, বরং মানুষের ছোট ভুলের কারণে ধরা পড়ে। অপরাধী যতই সাবধান হোক, কোথাও না কোথাও সে এমন একটি চিহ্ন রেখে যায়, যা সে নিজে গুরুত্ব দেয়নি।
আরিফের সঙ্গে ছিলেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা. সামিয়া নওশীন, ফটোগ্রাফার ইমরান কবির এবং তদন্ত সহকারী মেহেদী হাসান।
আরিফ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমে চারপাশ দেখলেন।
তারপর কাদেরকে লক্ষ্য করলেন।
“আপনিই ফোন করেছিলেন?”
“জি, স্যার।”
“আপনি লাশ দেখেছেন?”
“জি।”
“ছুঁয়েছেন?”
“না, স্যার।”
“কেউ আপনাকে সপ্তম তলায় যেতে দেখেছে?”
কাদের মাথা নাড়লেন।
“জানি না, স্যার।”
আরিফ তার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকলেন। তারপর বললেন, “চলুন।”
তারা সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে শুরু করলেন।
সপ্তম তলার দরজার সামনে এসে আরিফ থামলেন। দরজাটি অল্প খোলা। তিনি দরজার হাতলে হাত না দিয়েই ভেতরে তাকালেন।
ঘরের মধ্যে কোনো লড়াইয়ের স্পষ্ট চিহ্ন নেই।
কোনো চেয়ার উল্টে নেই।
কোনো কাচ ভাঙা নেই।
কোনো জিনিস ছড়িয়ে নেই।
মেঝেতে একজন মানুষ।
টেবিলের পাশে একটি কালো ডায়েরি।
দেয়ালে একটি ঘড়ি।
আরিফ ঘড়িটির দিকে তাকালেন।
ঘড়ির কাঁটা থেমে আছে ৩টা ১৭ মিনিটে।
ডা. সামিয়া তার পাশে এসে দাঁড়ালেন।
“ঘড়িটা বন্ধ।”
“হ্যাঁ।”
“ব্যাটারি শেষ?”
“সম্ভব।”
আরিফ বললেন, “সম্ভব আর নিশ্চিত—দুটো আলাদা জিনিস।”
সামিয়া মৃদু হাসলেন।
“আপনি এখনও আগের মতোই আছেন।”
আরিফ উত্তর দিলেন না।
তিনি মেঝের কাছে গেলেন। লাশের চারপাশ পর্যবেক্ষণ করলেন। তারপর বললেন, “ছবি শুরু করুন।”
ইমরান ক্যামেরা তুললেন।
ঘরের প্রতিটি অংশের ছবি নেওয়া শুরু হলো।
প্রথমে দরজা।
তারপর মেঝে।
লাশ।
জানালা।
টেবিল।
ডায়েরি।
ঘড়ি।
একটি চেয়ার।
তারপর আবার পুরো ঘর।
আরিফ জানালার কাছে গেলেন। জানালাটি ভেতর থেকে বন্ধ।
তিনি জানালার নিচের অংশ পরীক্ষা করলেন।
কোনো ভাঙা অংশ নেই।
তিনি ফিরে এসে টেবিলের দিকে তাকালেন।
সেখানে একটি সাদা কাগজ পড়ে আছে।
তিনি স্পর্শ করলেন না।
ইমরানকে ছবি তুলতে বললেন।
কাগজে লেখা—
“যে সত্য খুঁজবে, সে-ও ঘুমাতে পারবে না।”
আর নিচে একটি সংখ্যা—
১৭।
ঘরের বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।
ডা. সামিয়া কাগজটির দিকে তাকিয়ে বললেন, “এটা কি হত্যাকারীর লেখা?”
আরিফ বললেন, “এখনই বলা যাবে না।”
“তাহলে ১৭?”
“সেটাই খুঁজে বের করতে হবে।”
তিনি আবার লাশের দিকে তাকালেন।
মৃত ব্যক্তির মুখ তখনও দেখা যায়নি।
আরিফ নিচু হয়ে কিছু একটা লক্ষ্য করলেন।
লাশের ডান হাতের অনামিকায় একটি পুরোনো আংটি।
আংটির ভেতরে খোদাই করা দুটি অক্ষর—
M.A.
আরিফ উঠে দাঁড়ালেন।
“লোকটির পরিচয় জানতে হবে।”
মেহেদী বলল, “স্যার, পকেট চেক করব?”
“ফরেনসিক টিম আগে কাজ করুক। কিছু স্পর্শ করবেন না।”
সামিয়া মাথা নেড়ে বললেন, “ঠিক আছে।”
আরিফ আবার ঘড়ির দিকে তাকালেন।
৩টা ১৭ মিনিট।
তারপর দরজার দিকে।
তারপর ডায়েরিটির দিকে।
হঠাৎ তার মনে হলো, এই ঘরে যে মানুষটি মারা গেছে, তার মৃত্যুর সময় হয়তো ৩টা ১৭ মিনিট নয়।
হয়তো ৩টা ১৭ মিনিট এখানে শুধু একটি বার্তা।
তিনি জানতেন না কেন এমন মনে হচ্ছে।
কিন্তু বহু বছরের অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে—অপরাধের ঘটনাস্থলে কিছু জিনিস কেবল প্রমাণ নয়; কখনো কখনো সেগুলো অপরাধীর ভাষা।
আর সেই ভাষা বুঝতে হলে আগে জানতে হয়—
খুনি কাকে কথা বলছে?
আরিফ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকালেন।
ভোরের আলো তখন ধীরে ধীরে শহরের ওপর ছড়িয়ে পড়ছে।
নিচে মানুষের চলাচল শুরু হয়েছে।
কেউ জানে না, নিরালা টাওয়ারের সপ্তম তলায় একটি মৃতদেহ পড়ে আছে।
কেউ জানে না, একটি কালো ডায়েরি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি বহু বছরের রহস্যকে জাগিয়ে তুলবে।
আর কেউ জানে না—
সেই রাতে শহরের অন্য একটি জায়গায় একজন মানুষ তার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে ঠিক ৩টা ১৭ মিনিটে একটি ফোন বন্ধ করে রেখেছিল।
তারপর আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে খুব শান্তভাবে বলেছিল—
“প্রথম দরজা খুলে গেছে।”
সে জানত না, তার এই কথাটিই একদিন তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠবে।