আপনি এই বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় এসে পৌঁছেছেন। কিন্তু মহাবিশ্বের গল্পের শেষ কোথায়—তা হয়তো কোনো মানুষই জানে না। বরং আমরা যত বেশি আবিষ্কার করি, ততই নতুন নতুন প্রশ্ন আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়।
এই বইয়ের পাতায় আমরা মহাবিশ্বের কিছু বিস্ময়কর রহস্য, নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যু, গ্রহ-উপগ্রহ, গ্যালাক্সি, কৃষ্ণগহ্বর এবং মহাজাগতিক অজানার কিছু দরজা খোলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মনে রাখবেন, এগুলো মহাবিশ্বের সম্পূর্ণ গল্প নয়—এটি কেবল সেই অসীম গল্পের একটি ক্ষুদ্র অংশ।
হয়তো আজ আপনি একজন পাঠক। কিন্তু আগামী দিনের কোনো এক সময় আপনিই হতে পারেন একজন বিজ্ঞানী, গবেষক, জ্যোতির্বিজ্ঞানী কিংবা এমন একজন মানুষ, যিনি মহাবিশ্ব সম্পর্কে এমন কোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করবেন, যার উত্তর আজও আমাদের অজানা।
তাই প্রশ্ন করতে কখনো ভয় পাবেন না। “কেন?”, “কীভাবে?” এবং “এর পরে কী?”—এই প্রশ্নগুলোই মানুষের জ্ঞানকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আকাশের দিকে তাকিয়ে শুধু নক্ষত্র দেখবেন না; ভাবুন, সেই আলো কত দূর থেকে এসেছে, তার পেছনে কী গল্প লুকিয়ে আছে এবং সেই বিশাল মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থানই বা কোথায়।
বইটি পড়ে যদি আপনার মনে একটি নতুন প্রশ্নের জন্ম নেয়, যদি রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে আপনার কৌতূহল একটু বেড়ে যায়, কিংবা যদি কোনো শিশুর হাতে এই বই পৌঁছে দিয়ে তাকে মহাবিশ্ব সম্পর্কে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করতে পারেন—তাহলেই এই বইয়ের উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে।
মহাবিশ্ব এখনো অজানা।
আর সেই অজানাকে জানার যাত্রাই আমাদের সবচেয়ে বড় অভিযাত্রা।
আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকুন।
প্রশ্ন করুন। অনুসন্ধান করুন।
কারণ হয়তো আপনার পরবর্তী প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আগামী দিনের কোনো মহৎ আবিষ্কারের শুরু।
— এম মাহফুজ সরকার