Posts

চিন্তা

জেন-জেডকে গুজবে নয়, প্রমাণে বিশ্বাসী হতে হবে

April 19, 2025

imt uddin

124
View

আজকের যুগে প্রযুক্তি আর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে যেকোনো খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু সেই খবরে সত্যতা কতটুকু আছে, সেটি যাচাই করার আগেই অনেকেই তা বিশ্বাস করে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জেডের উপর। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই খবর বা তথ্য কতটা সত্য, তা যাচাই করা কি জরুরি নয়?

বিশেষ করে জেন-জেড বা আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে এই মিথ্যা সংবাদ বা গুজব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 
জেন-জেড আসলে কারা?

জেন-জেড হল ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্ম, যারা ইন্টারনেট আর সোশ্যাল মিডিয়ার উত্তরোত্তর উন্নতির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে।

তাদের চিন্তার জগত ডিজিটালাইজের গতি, উন্মুক্ত তথ্যের প্রবাহ, এবং প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল।এই প্রজন্মের জন্য তথ্যপ্রাপ্তি অত্যন্ত সহজ এবং কোনো কিছু জানতে হলে কেবল কয়েকটি ক্লিকই যথেষ্ট। তবে এদের তথ্য-জগতের অনেক সুবিধা থাকলেও, দ্রুত তথ্য গ্রহণের কারণে সঠিক বা ভুল যাচাইয়ে ধৈর্যের অভাব লক্ষ্য করা যায়।

 
জেন-জেড কেন গুজবে বিশ্বাস করে?

জেন-জেড অস্থিরচিত্ত এক প্রজন্ম যারা খুব দ্রুত সব পেতে চায়। তাদের আবেগও অনেক বেশি। আর তাদের এই অস্থিরতা, আবেগ, শর্টকাটে দ্রুত সবকিছু হাতের কাছে পাবার  প্রবণতা তাদেরকে যেকোনো খবরের সত্যতা যাচাই করা থেকে বিরত রাখে সচরাচর।

তথ্য-প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে, অনেক সময়েই তারা দ্রুত খবর গ্রহণ করে, কিন্তু যাচাই করার ধৈর্য রাখে না। উপরন্তু তাদের এই বৈশিষ্ট্যগুলোকে পুঁজি করে অসাধু বহু মিডিয়া কোনো স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে গুজব ছড়ানোর সুযোগ গ্রহণ করে।জেন-জেডের বড় অংশ সহজলভ্য তথ্যের প্রতি নির্ভরশীল, যেগুলো তারা সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন মাধ্যমে পায়। অনেক সময়েই ভুয়া খবর বা গুজব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, কারণ তা উত্তেজনাপূর্ণ, বিতর্কিত বা চমকপ্রদ। এই প্রজন্মের অধিকাংশ  সাধারণভাবে ভাইরাল কন্টেন্টের প্রতি বেশি আকর্ষণ অনুভব করে। জনপ্রিয়তা, লাইকের সংখ্যা  এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মতামতের উপর ভিত্তি করে তারা অনেক তথ্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করে, যা প্রায়শই গুজব বা ভিত্তিহীন হতে পারে।

 
জেন-জেডকে কেন প্রমাণে বিশ্বাসী হতে হবে?

কিন্তু জেন-জেডকে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে,  প্রমাণ ছাড়া কোনো তথ্যকে সত্য বলে মেনে নেওয়া ভবিষ্যতে বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সত্য-মিথ্যার যাচাই না করে গুজবে বিশ্বাস করলে ভুল সিদ্ধান্ত এবং ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, যা শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভুল তথ্য বা গুজবে বিশ্বাস করলে শুধু ব্যক্তিগত নয়, সমাজেরও বড় ক্ষতি হতে পারে। এটি এমন সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা ব্যক্তি, পরিবার বা বৃহত্তর কমিউনিটির জন্য হুমকি স্বরূপ। উদাহরণস্বরূপ, স্বাস্থ্যের উপর ভিত্তিহীন কোনো পরামর্শ মেনে চলা, সামাজিক বা রাজনৈতিক ভুল তথ্য নিয়ে উত্তেজনা বা বিভ্রান্তি তৈরি করা – এই ধরনের সমস্যাগুলি এড়ানো সম্ভব নয়, যদি প্রমাণের উপর বিশ্বাস না করা হয়। ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে ওঠার জন্যও এই অভ্যাস গঠন করা জরুরি।

 
জেন-জেডকে কিভাবে প্রমাণে বিশ্বাসী করে গড়ে তোলা যায়?

জেন-জেডকে যদি প্রমাণনির্ভর করে গড়ে তোলা যায় তবে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। এজন্য
তাদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার চর্চা বাড়াতে হবে এবং উৎসের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের গুরুত্ব বোঝাতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেখানো, পরিবারের মধ্যে আলোচনা, এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো যেতে পারে।  জেন-জেডকে সমালোচনামূলক চিন্তা ও তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব বোঝাতে হবে। তাদেরকে তথ্যের উৎস নিয়ে কিভাবে প্রশ্ন তুলতে হয় সেটা শেখাতে হবে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইনে প্রাপ্ত তথ্যের ক্ষেত্রে । পরিবারের মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের আলোচনার চর্চা বাড়াতে হবে, যাতে তারা ছোট থেকেই প্রমাণের গুরুত্ব বুঝতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার সম্পর্কেও সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।

পরিশেষে একটা কথাই বলবো,  জেন-জেডের ভূমিকা আগামী বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মুখ্য। তাই  জেন জেডকে অবশ্যই এটা মাথায় রাখতে হবে যে, প্রমাণ ও সঠিক উৎস থেকে পাওয়া সংবাদ ছাড়া আর কোনো তথ্য কোনো অবস্থাতেই বিশ্বাস করা যাবে না।  তাদের মধ্যে যদি প্রমাণের ও উৎসের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই এর ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহের মানসিকতা তৈরি হয়, তবে গুজব আর মিথ্যে তথ্যের জগৎ থেকে তারা নিজেদের এবং সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে।

গুজবে না ভেসে, প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে জেন-জেড একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
 

Comments

    Please login to post comment. Login