এই যে, আমার নিকটবর্তী নারীর চিন্তা;
জেনে রাখুন, আমি কল্পনায়ও বিশেষ দক্ষ।
বৃষ্টি যদি দ্যাখেন ; মিরর ইমেজ দেখতে পাবো। আর;
চোখগুলো প্লিজ খোলা রাখবেন, স্বপ্নপ্রবণ দৃষ্টি যাবে।
বারান্দায় এসে দাঁড়ালে সেই সুযোগ হতেও পারে।
কবিতা পড়েন না, কবিতা হয়ে স্বশরীরে
হেঁটে বেড়ান ঢাকা শহরে।
হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করে
হাঁটা থামাবেন প্লিজ; নতুন কোনো ছন্দ দেওয়া যাবে।
তাই দূরত্বে গেলেও কাছে আসবেন ঠিক।
এই কথাটা মনে রাখবেন।
আপনার মনে থাকবে ঠিকই।
এই যে, আমার নিকটবর্তী নারীর চিন্তা;
জেনে রাখুন,
মেঘের বিবাহ
প্রায় সন্ধ্যাবেলা, ঝড়ের গতি বৃদ্ধির দিকে।
এমনই বৃষ্টিমুখর আধো-সন্ধ্যাবেলায়
তোমাকে কবুল করেছি, প্রিয়তম মুখ।
তুমিও হেঁটেছ, গান গেয়েছ, হোঁচট খেয়ে রাস্তায়—
বলেছ আল্লাহ্পাক আছেন। আমি মনে মনে মেনে নিয়েছি।
আর মেঘ, আমাদের সম্পর্কের নাম। আকাশ ঘর-বাড়ি।
প্রায় সন্ধ্যাবেলা, ঝড়ের গতি বৃদ্ধির দিকে।
এমনই বৃষ্টিমুখর আধো-সন্ধ্যাবেলায়,
মেঘের বিবাহ-দিনে
নৌকাডুবি
একটা শিশু-রোদ বসে আছে।
প্রাক্তন সকল বৃষ্টির কথা।
ফলে, একটা বৃদ্ধ-বৃদ্ধ রোদ আমার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে দৃষ্টি—
ভাবল শঙ্কার যত মেঘ।
বললাম চলো ঘুরতে যাই। সে বলল,
ফেলে আসা সেই নদীর কথা; যার গায়ে আমরা নৌকা
ভাসিয়েছিলাম—
জীবাণুর মতো
আয়নার দিকে তাকানোর আগে দশ-বারো বার ভাবি
আমার চেহারা মানুষের মতো কেন?
মানুষ দেখতে বড় বড় লাগে খুব।
সবার তালে তাল মিলিয়ে
নিজেকে ব্যাঙের সাথে তুলনা করি আমি
আর ভাবি
সঠিক কাজটা করা হল বোধহয়, আমার।
আমি সেটা জানি। তবে টের পাই না একদমই।
আমার ইচ্ছা করে, ছাদে বসে থেকে
একটা রাস্তায় দেখবো আমার
প্রথম সড়ক দুর্ঘটনা।
আর ভাববো গাড়ির এই চাকাটি ছিল
আমার পরিবারের মতো।
চাকার মতো
আমার পরিবার।
ব্যাঙের মতো
মানুষ দেখি বড় দৃশ্যে মাঠের মতো অনেকটা,
যেখানে আমি আমার সাথে নিশ্চিন্তে
শুধুই আত্মহত্যা করি
আর ভাবি
অযথাই যুবক হওয়া, কায়সার…
হেঁটে হেঁটে কই যান ঐখানে কি নির্জন ইগোর পাশে
এসে বসে থাকে কোনো অদ্ভুত লোনলি পারকাশন্?
প্রেমে প্রেমে কই যান ঐখানে চায়ের দোকানে নাকি
খালি গায়ে বসে থাকে
প্রেমিকার টেলিপ্যাথি সমেত টেনশন?
ভাঙচুর করা শেষে ঐদিকে নাকি দারুণ ফোকাস্ড হয়ে
চিৎ হয়ে পড়ে থাকে আপনার লোনলিনেস?
গোপনে অ-গোপনে নাকি টিচার্স রুমের দিকে, ঐদিকে, সবদিকে
উঁচা-উঁচা থাকে কিছু বুক-ফোলা পলিটিক্স?
কোনোকিছু হবে নাকি হবে না, নিশ্চিত জানি না
তবে ক্লান্তিতে-অবসাদে হলেও হতে তো পারে
বর্ষাকালের ব্যাঙেরা
বর্ষাকালের ব্যাঙেরা আমার নাম ধ'রে ধ'রে ডাকে।
আমি স্বভাবে লাফ জানি না ব'লে। বর্ষাকালের ব্যাঙেরা আমার নাম ধ'রে ধ'রে ডাকে।
আমি ওদের গা-ঘেঁষে দাঁড়ালে ওরা লাফিয়ে সরে যায় দূরে; আমি লাফ দেই না প্রকৃত-পুরুষ ব'লে।
যদিও আমার আদি-পুরুষের অনেকেই দারুণ লাফ দিতেন।
তবে তারা সকলেই নানান কটূক্তির মাটিতে মৃত্যুবরণ করেছেন,
এ-কথাও আমি জানি।
তাদের লাফ দেখে মাথায় বদচিন্তা জাগলেও আমি প্রশ্রয় দেই না মোটেও।
প্রলাপ ব্যতীত কিছু নয়
একটা গলাকাটা মুরগি ছটফট করছে আমার সামনে।
জবাই করি আমি— নামাজ পড়ার পর।
আমার মাবুদের নামে এইটুকু উৎসর্গ আমি করি।
মুরগিটা যখন ছটফট ছটফট করে— আমি শান্তি পাই।
কষানো ঝোল আমার প্রিয়; আলু সমেত।
সাথে সাদা ভাত আর চিংড়ি মাছ।
আমি শান্তি পাই।
বাদ-জুম্মা। আমার মাবুদের নামে।
উৎসর্গ করি তো, তাই।
এই যেমন এখন, মুরগিটা কথা বলল।
গলাকাটা মুরগিটা— কথা বলল।
ফিরে ফিরে আসে, রোজ শুক্রবার, বাদ-জুম্মা,
নামাজের পর। আমারই নিকট।
তবুও বললাম, তোমারে তো জবাই করি আমি
ফিরে আসো কেন তাও বারবার— কেবলই শুক্রবার?
আমার মাবুদের জন্য, এইটুকু আমি করি।
ফলত, শান্তি পাই।
আমি যার মাবুদ
সেই মুরগি গলাকাটা
আর, সে যা বলে, তা তো— প্রলাপ ব্যতীত