মানুষ চলে অনন্ত পথে,
নক্ষত্রখচিত স্বপ্নের রথে,
দূরের কুয়াশা টানে তাকে,
অচেনা আলোর মায়া ডাকে।
সুখের খোঁজে বহুদূর গিয়ে,
হারায় সে নীল আকাশের নীড়ে,
ফুলের সুবাস, পাখির গানে
থামে না তার ছুটে চলা প্রাণে।
অর্থের মোহে বাঁধা চরণ,
বুকে জমে ওঠে শূন্য শরণ,
হাসি তার কাগুজে নোটে ভরা,
তবু সেই হাসি রঙে না ধরা।
দিনের পরে দিন গলে যায় ধীরে,
সময় ঢেউ ভাঙে জীবনের তীরে,
বালুর মতো ফসকে যায় ক্ষণ,
থাকে শুধু অব্যক্ত মন-প্রবণ।
সে জানে না—উদ্দেশ্য কোথায়,
কোন অরণ্যে সত্য লুকায়;
দূরের ধন খুঁজে খুঁজে শেষে
নিজেরই ধন হারায় অবশেষে।
জীবনের মানে লেখা যে থাকে
হৃদয়ের নীরব দীপ্ত ফাঁকে,
যে জন নিজেকে চিনতে পারে
আলোক ফোটে তার অন্তর দ্বারে।
আলো তখন বাহিরে নয়,
বুকে বেজে ওঠে নিঃশব্দময়,
সুখ তখন খোঁজার বস্তু নহে,
নিজেরই রূপে সুখ স্রোত বহে।
অন্তরের পথিক, ফিরে আয় এবার,
দূরের ডাক থেমে গেছে পার,
চোখ মেল অন্তর-আয়নার কোলে,
চিনে নে নিজেকে আলোর তলে।