ষোড়শী মেয়েদের থেকেও বেশি ফ্যান্টাসিতে ভুগে বিবাহসক্ষম পাত্রের মা।
তারা ভাবে তাদের ছেলেরা রাজপুত্র, দুনিয়ার যে কোনো মেয়েই রাজী হবে বিবাহ করার জন্য। আমার মা ও ভিন্ন না।
আজ আম্মাকে নিয়া ডাক্তার দেখানোর সময় বসে আছি রিসিপশনে। হুট করে একটা মেয়ে আম্মার পাশে বসছে। আমি মাথা নুয়ে মাংগা পড়ছিলাম। কিছুক্ষণ পর আম্মা খোচা দেয়।
তাকিয়ে দেখি আম্মা ফিসফিস করে রিসিপশনের টেবিলের কাছে দাড়িয়ে থাকা মেয়েটাকে লক্ষ করে বলতেসে, 'সুন্দর আছে না?'
চেহারা তো দেখা যায় না। হুট করে অসুন্দর বলাও যায় না। আমি বললাম, 'হু।'
'চুল দেখছিস?'
আমি তাকিয়ে দেখি চুল কোমরের নিচে নেমে আছে।
'হ্যা।'
'মেয়েটাকে আমার পছন্দ হইসে।'
'চুলের জন্য? '
'না, লম্বা,ফর্শাও আছে।'
'তাইলে চুল দেখাইলা যে?'
'এযুগে এমন মেয়ে পাওয়া যায়?'
আম্মা আর আমি খুবই ওপেন। আমি বললাম, 'এত বড় চুল দিয়া আমি কি করবো? ঘুমালে মুখে পড়ে থাকবে। তাছাড়া আমার ছোটোচুলের মেয়ে ভালো লাগে।' থেমে বেশ গম্ভীর গলায় বললাম, 'টাকলা হলে আরও ভালো লাগে। নো চুল, নো প্যারা।'
আম্মা বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে বলে, 'জিনে ধরসে তোকে?'
'না, যেটা ভালো লাগে সেটা বললাম।'
'মেয়েটার সাথে কথা বলি।'
'আমি বিবাহ করবো না।'
'যা, এখান থেকে সর।'
ধমক খেয়ে চলে আসি। চা দোকানদারের সাথে ঝগড়া শেষ করে হাসপাতালে ফিরে দেখি আম্মার মুখ কালবৈশাখীর মত অন্ধকার।
পাশে বসে জিজ্ঞেস করলাম, 'বিবাহের কথাবার্তা কতটুকু এগুলো?'
আম্মার বেশ চোখ লাল করে বলে, 'মেয়েটা বিবাহিত। প্রেগন্যান্ট, টেস্ট করাতে আসছে।'
ভাইরে ভাই🤣🤣🤣 আমি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছিলাম। আমার মায়ের করুণ অবস্থা দেখে। উনি কয়েকদিন আগে থানায় গেসে, সেখানে এক মেয়েকে পছন্দ করে আসছে, ব্যাংকে গেছে সেখানেও, তাছাড়া কাজিন তো আছেই। সব মেয়ের কথা আমাকে বলে। আমি জবাবে বলি, তোমার ছেলে উদ্বাস্তু মেয়েকেও বিবাহের করার যোগ্যতা নাই, আর তুমি এমুক-ওমুককে পছন্দ করে রাখসো। আমাকে চিরকুমার থাকতে দাও।
কই যাবো এই মহিলাকে নিয়া আমি!