টাকার জন্য চরিত্র নষ্ট
রবিউল একসময় সৎ আর সরল মানুষ ছিল। ছোট্ট চাকরির বেতনে সংসার চালানোই তার কাছে ছিল সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। মাসের শেষে হাতে কিছুই থাকত না, কিন্তু তবুও সে চেষ্টা করত বাবা, স্ত্রী আর দুই সন্তানকে নিয়ে সুখে থাকতে।
কিন্তু জীবনের নির্মম বাস্তবতা সুখকে টেনে নিয়ে গেল দূরে। একদিন হঠাৎ বাবার শরীর ভেঙে পড়ল। ডাক্তার দেখাতে হবে, ওষুধ কিনতে হবে। হাতে নেই সামান্য টাকাও। সারা রাত বাবার মাথার পাশে বসে রবিউল অনুভব করল—টাকা না থাকার অসহায়তা আসলে কী ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা।
পরদিন ছেলে স্কুলে গেল ফি দেওয়ার কথা ভেবে। খাতা-কলম হাতে দাঁড়ানো ছেলেটার চোখে তখন এক অদৃশ্য ভয়। রবিউল কিছুই বলতে পারল না, বুকের ভেতর হাহাকার জমে রইল। তার মনে হলো—যদি টাকা থাকত, সবকিছু কত সহজ হতো!
কিন্তু যখন টাকার অভাব দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তখন মানুষ শুধু কষ্টে ভাঙে না—ভেতর থেকে বদলাতে শুরু করে। একদিন এক বন্ধুর দোকানে বসে রবিউল শুনল, “চাইলে কিছু টাকা সহজেই কামানো যায়। একটু চালাকি করলে, একটু ফাঁকি দিলে জীবনটা বদলে যাবে।”
প্রথমে দ্বিধা ছিল। কিন্তু বাবার চিকিৎসা, ছেলের পড়াশোনা আর সংসারের অভাবের কথা ভেবে রবিউল নিজেকে বোঝাল—“এখন না করলে পরে সব শেষ হয়ে যাবে।” এভাবেই শুরু হলো তার চরিত্রের পতন।
সে ছোটখাটো ঘুষ নিতে শুরু করল। দোকানের হিসাব থেকে কিছু টাকা গোপনে নিজের পকেটে ঢুকিয়ে নিল। সময়ের সাথে সাথে সেই লোভ বাড়তে থাকল। একসময়ের সৎ রবিউল এখন মানুষের চোখের সামনে অন্য রকম মুখোশ পরে চলত। অথচ ভিতরে ভিতরে সে জানত—টাকার জন্য সে নিজেকেই ধ্বংস করে ফেলছে।
💔 টাকার অভাবের চেয়ে ভয়ঙ্কর হলো চরিত্রের পতন।
টাকা না থাকলে মানুষ কষ্টে থাকে, কিন্তু চরিত্র নষ্ট হলে সে মানুষ হিসেবেই হারিয়ে যায়। রবিউল নিজের সম্মান হারাল, মানুষের বিশ্বাস হারাল। বন্ধু-আত্মীয় এখন শুধু তাকে টাকার জন্য মনে করে, তার সৎ মানুষ হিসেবে আর কোনো মূল্য নেই।
👉 আর ব্যক্তিগতভাবে, প্রতিটি মানুষের মনে রাখতে হবে—“অভাব হয়তো কষ্ট দেয়, কিন্তু চরিত্র হারালে মানুষ তার সবকিছু হারায়।”