নেপালের শহর পোখরার আকাশে যখন হিমালয়ে বরফ ঢাকা চূড়াগুলি রোদে ঝলমল করে, তখন মনে হয় প্রকৃতি নিজেই যেন শিল্পীর তুলি দিয়ে আঁকা এক ক্যানভাস। সেই মনোমুগ্ধকর প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আছে পোখরা আন্তর্জাতিক পর্বত জাদুঘর (International Mountain Museum), যেখানে পর্বতের নিস্তব্ধতা, মানুষের অভিযাত্রা আর ইতিহাসের আওয়াজ পাওয়া যায়।
২০০৪ সালে নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন (NMA) এটি প্রতিষ্ঠা করে। উদ্দেশ্য ছিল পর্বতকে জানা, বোঝা এবং শ্রদ্ধা করা। হিমালয়ের বুকে জন্ম নেওয়া মানুষের সাহস, ভয়, ভালোবাসা ও স্বপ্নের দলিলই যেন এই জাদুঘরের প্রতিটি প্রদর্শনী। বিশাল ছাদের নিচে সাজানো রয়েছে তিনটি জগত; হিমালয়, বিশ্বের পর্বতমালা এবংমানব অভিযাত্রা।
হিমালয় বিভাগে নেপালেরতুষারাবৃত পর্বতশ্রেণির ছবি, মানচিত্র, পাথরের টুকরো, আর পর্বতারোহীদের ব্যবহৃত পুরনো সরঞ্জাম যেন গল্প বলে কীভাবে মানুষ অসম্ভবকে জয় করার সাহস পেয়েছিল।
বিশ্বের পর্বতমালা বিভাগেআল্পস, আন্দিজ, রকি ও কারাকোরামের কাহিনিমিশে গেছে হিমালয়ের সঙ্গে। আর অভিযাত্রী বিভাগে রয়েছে সেই অমর নায়কদের স্মারক, যারা প্রথম পৃথিবীর চূড়ায় পৌঁছে মানব ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছিলেন। স্যার এডমন্ড হিলারি, তেনজিং নোরগে, জুনকো তাবেই এবং আরো অনেকের পদচিহ্ন আজও বাতাসে ভেসে বেড়ায়।
জাদুঘরের এক অংশে নেপালেরপর্বত অঞ্চলে বসবাসকারী শেরপা, গুরুঙ, থাকালি ওঅন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর জীবনের ছবি ফুটে ওঠে। কাঠের ঘর, রঙিন পোশাক, প্রার্থনার পতাকা সব মিলিয়ে মনে হয় যেন কোনো গ্রামীণ উপত্যকায় এসে পড়েছি।
পোখরা আন্তর্জাতিক পর্বত জাদুঘর মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতিকেজয় নয়, তাকে ভালোবাসাই হলো সত্যিকারের বিজয়।
