Posts

গল্প

আজ বাসর রাত।

November 21, 2025

Shafin pro

7
View

বিয়ে কবুল বলে নিলাম। উঠে সবাইকে সালাম দিলাম আসসালামুয়ালাইকুম। সবাই এসে আমার সাথে কোলাকুলি করলো। কাউকেই চিনি না ভালো করে সবাই ধীরে ধীরে পরিচয় পর্ব দিচ্ছি। এর ভিতরে আমার চাচা বলল এই তোমার শ্বশুর তুমি তাকে সালাম করো। আমি তাকে সালাম করলাম আসসালামু আলাইকুম। আমার সালাম দেওয়াটা কেউই ভালো ভাবে মেনে নিল না। শ্বশুর বাড়ির সবাইকে দেখি কান খোঁচাখুশি শুরু করে দিল। চতুর্দিকে ফিসফিস শুরু হয়ে গেল। আমি কেন তাদের সালাম দিলাম দাড়িয়ে আসসালামুয়ালাইকুম। এ নিয়ে আমার চাচাকে ডেকে খাটের উপর থেকে সরিয়ে নিল। চাচাজান ব্যাপারটি বুঝতে পেরে আমার শশুরকে সে ধরিয়ে বাহিরে নিয়ে গেল।  শশুর মশার সাথে গ্রামের কিছু মাতব্বররা চাচার সাথে বের হয়ে গেল। বাহিরে গিয়েই আমার চাচাকে হুমকি-ধুমকি শুরু হয়ে গেছে। এ কেমন ছেলে যে শশুরকে পাও ধরে সালাম দিল না। তবে আমার শ্বশুর খুব ভদ্র নম্র মানুষ। কিন্তু গ্রামের লোকেরা এটা মেনে নিতে পারল না। জামাইর ভিতরে কিছু গলদ আছে। তার ভিতরে কোন আদব কায়দা তো দেখতেছি না। আমার চাচা বলল ছেলে তো শহরে বিদেশে পড়ে আসছে সেই জন্য হয়তো তার ভিতরে এইসব কৌতূহল নাই। গ্রামের লোকজন ধীরে ধীরে আমার চাচাকে ঘিরে কথা শুরু করে দিল। হঠাৎ আমার চাচা রেগে উঠলো স্টপ। কারন সে সেনাবাহিনীর রিটায়েড অফিসার তাই সে কথাগুলো একপর্যায়ে মাথায় ধরে রাখতে পারল না। চাচা যখন রেগে গিয়ে কথা শুরু করলো তখন আর বাংলা বলতে পারেনা। আমার বাবার মত। আমার বাবা ও রেগে গেলে তার মুখ থেকে আর বাংলা শব্দ বের হতো না শুধু ইংলিশ আর ইংলিশ। চাচা সেই ভাবে শুধু ইংলিশে টকিং করে যাচ্ছে আর গ্রামের মানুষ হা করে তার দিকে তাকিয়ে। এক পর্যায়ে গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব এসে দাঁড়ালো। এখানে কি হয়েছে আপনারা আত্মীয়-স্বজন মিলে সবাই এঁকে সাথে তর্ক করে যাচ্ছে। ওদিকে বিয়ে শেষ হয়ে গেছে এখন আমরা হাসিমুখে ধূমধাম খাওয়া দাওয়া করবেন। না করে আপনারা নিজেরা নিজেদের ভিতর তর্ক সৃষ্টি করতেছেন কেন। ইমাম সাহেবকে গ্রামের লোকজন বলল জামাইয়ের তো আদব কায়দা বলতে কিছুই নেই শুধু বিদেশ থেকে পড়াশুনা করে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেছে। কিন্তু তার আদব-কায়দা বলতে কিছুই নেই বিয়ের পরে শ্বশুর আত্মীয়-স্বজন মুরুব্বীদের পায়ে ধরে সালাম দিতে হয় সে বিষয়ে কি তাকে বলে দিতে হবে শুধু দাঁড়িয়ে সবাইকে সালাম দেয় আর হাত নারে। এসো পুনে গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব হেসে হা হা করে উঠলো। এতক্ষণে সে বুঝতে পারল যে আসলে কি ঘটনা হয়েছে। ইমাম সাহেব বলল বিয়ে তো আমি সরিয়েছি ছেলেরতো দোষ ত্রুটি কোন কিছুই খুঁজে পেলাম না। গ্রামের লোকজন ইমাম সাহেবকে বলল যে ছেলে তো শ্বশুর এবং আত্মীয়-স্বজনকে পায়ে ধরে সালাম দিল না। পরে ইমাম সাহেব সবাইকে বুঝিয়ে বলল যে পায়ে ধরে সালাম দেওয়াটা খুব জরুরী নয় ছেলে সালাম দিয়েছে এইটাই হল ইসলামের মূল নীতি। ইমাম সাহেবের কথা শুনে গ্রামের লোকজন সবাই চুপ হয়ে গেল এবং বলল আসলে কি এটাই সত্য। ইমাম সাহেব সবাইকে বুঝিয়ে বললো আপনারা সবাই টেবিলে বসে খাওয়া-দাওয়া শুরু করেন এদিকে অনেক বেলা হয়ে গেছে। আমি এখন চলে যাব আসরের নামাজ পড়াতে। ইমাম সাহেবের কথা সবাই মেনে নিল এবং সবাই খাওয়ার টেবিলে বসে গেল খাওয়া আয়োজন শুরু হয়ে গেল বাবুর্চি চতুর্দিকে লোক সমাগম শুরু করে দিল এবং খাবার এনে মানুষকে খাবার বিতরণ শুরু করল।  এদিকে শ্বশুরবাড়ির লোক একদিকে বসল এবং আমাদের লোক আর একদিকে বসালো। খাবারের আইটেমগুলো ছিল খুব সাধারণ খাবারের মত আমরা যারা বিদেশে বা শহরে চাইনিজ রেস্তোরায় বিয়েতে যা কিছু খাই তার কিছুই মাত্রই নেই এইখানে। তাতে আমাদের কোন পক্ষ থেকে সমস্যা ছিল না। সাদা পোলাও রোস্ট ঝাল মাংস মুরগির মাংস দই মিষ্টি এগুলোই দেখছি সবাইকে খেতে দিচ্ছে। জামাই হিসেবে আমি বসে রইলাম খাটের উপরে। প্রথম আমাদের পক্ষের লোক খাওয়া প্রায় শেষ হয়ে আসছে। এর ভিতর জামাইয়ের খাবার চলে আসলো একটা বিরাট বিষের ভিতর করে দেখে আমার খুব হাসি পেল তারপরও হাসিটা চেপে ধরে রাখলাম। কারণ সাধারণ তো বিয়ে বাড়িতে গেলে আমি সব সময় জামাইয়ের কাছে বসতাম এই ধরনের খাবারের জন্য ছোটবেলা থেকেই। জামাইর সাথে বিয়ের খাবার খেতে খুবই মজা এর ভিতরে আমাদের খাটের উপরের এনে রাখল বড় ডিসের পেয়ালা টা বড় একটা খাসি থালার উপরে রাখা আছে। খুব সাজিয়ে রেখেছে হাসিটা মনে হচ্ছে খাসিটা চেয়ে আছে আমাদের দিকে। রান্না করা খাসিটা ফালাটা দেখতে খুবই চমৎকার লাগলো একটা আস্ত বড় ইলিশ মাছ ভাজা। দুইটা মুরগি আস্তা রোজ করা থালাটার উপরে। মুরগি দুটো পা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পোলাও উপরে। চতুরদিকে সালাতগুলো বিভিন্ন কারুকাজ করা থালার উপরে সাজিয়ে রেখেছে। থালাটা এতই বড় যে বিছানার অর্ধেক জায়গা থালাই লেগে গেল। একটা ডিসের মিষ্টির আইটেম বিভিন্ন প্রকার মিষ্টি দিয়ে থালাটি ভরা। কিছুক্ষণ পরে নিয়ে আসলো শরবতে একটা ডালা সেই ডালায় সরবত এর বিভিন্ন কালারের শরবত দিয়ে ডালাটা ভরা। আমরা খাটের উপরে ১০-১২ জন নিয়ে বসে পড়লাম খাওয়ার জন্য। খাওয়া চলতেছে তো চলতেছে বাকি অংশটুকু খাওয়ার পরে আবার শুরু করব। (আজ বাসর রাতের প্রথম খন্ড এখানে শেষ করছি।)

Comments

    Please login to post comment. Login

  • Shafin pro 1 month ago

    আস বাসর রাত। গল্পটি এত আনন্দের এত মধুর এত ঝগড়া ফ্যাসাদের যা আপনারা পড়লে খুবই আনন্দিত হবেন।