রিয়ান ছোটবেলা থেকেই আলাদা। অন্যরা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকলেও, সে তার কক্ষের কোণে বসে রঙের ক্যানভাস আর ব্রাশ নিয়ে কল্পনার জগতে হারিয়ে যেত। তার জন্য রঙ ছিল কেবল রঙ নয়, এটি ছিল স্বাধীনতার ভাষা। বাবা-মা সবসময় চাইতেন সে ভালো চাকরি করবে, আর বন্ধুদের সঙ্গে মিশে সাধারণ পথ বেছে নেবে।
শৈশবের সেই উচ্ছ্বাস-ভরা দিনগুলো আস্তে আস্তে চাকরি এবং পরীক্ষার দুনিয়ায় মিলিয়ে গেল। রিয়ান ভেবেছিল, “যদি আমি চাকরি করি, আমার পরিবার খুশি থাকবে, জীবন নিরাপদ হবে।” সে আঁকাকে একপাশে রেখে পড়াশোনায় মন দিল।
কিছু বছর পর, রিয়ানের জীবন এক ধরনের রুটিনে আটকে গেল। প্রতিদিন একই কাজ—অফিস, রিপোর্ট, মিটিং। প্রতিটি দিন যেন আগের দিনের প্রতিলিপি। আর তার মন বারবার তাকে টেনে নিত—“এটাই কি আমি চাইছিলাম?” কিন্তু সে তখনও অন্যের কথা ভেবে নিজের মনকে অবজ্ঞা করত।
একদিন, অফিস থেকে ফাঁকি নিয়ে সে নিকটস্থ একটি ছোট আর্ট গ্যালারিতে গিয়েছিল। সেখানে সে দেখল এক শিল্পীর আঁকা ছবি—চকচকে রঙ, গভীর ভাব, এক ধরনের জীবন্ত স্পন্দন। হঠাৎ রিয়ানের চোখে পানি চলে আসল। ছবির মধ্যে সে নিজের ছোটবেলার আত্মাকে দেখল। সে বুঝল—নিজের মনকে উপেক্ষা করলে জীবন কতটা খালি।
সেই রাত থেকে রিয়ান সিদ্ধান্ত নিল, সে আর অন্যের কথা অনুসরণ করবে না। সে নিজের মন যে দিকে টানছে, সেই দিকে ফোকাস করবে। প্রথম দিন থেকেই সে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলো। চাকরিতে তার সময় কম, আর আর্থিক চাপ বেড়েছে। বন্ধু ও সহকর্মীরা নানা প্রশ্ন করল, “চাকরি ছেড়ে তুমি কি করতে চলেছো?”
কিন্তু রিয়ান মনে করল—যে পথে তার মন টানে, সেটিই তার প্রকৃত পথ। সে প্রতিদিন সকালে উঠে ছবি আঁকত, রাত জেগে নতুন টেকনিক অনুশীলন করত। প্রথম কয়েক মাসে খুব ছোট অগ্রগতি হলো, কিন্তু মন শান্ত ছিল।
এক বছর পর, রিয়ান একটি ছোট প্রদর্শনীর জন্য ছবি জমা দিল। মানুষ প্রশংসা করল। সামাজিক মিডিয়ায় তার ছবি ভাইরাল হতে লাগল। আর্থিক সঙ্কট কমতে লাগল, আত্মবিশ্বাস বাড়তে লাগল। রিয়ান শিখল—নিজের মনকে ফোকাস করলে ধৈর্য্য ধরে চেষ্টা করলে জীবন সত্যিই আলোকিত হয়।
একদিন, রিয়ানের একটি ছবি আন্তর্জাতিক আর্ট গ্যালারিতে প্রদর্শিত হলো। সে দাঁড়িয়ে ভাবল—“সবচেয়ে বড় শিক্ষা—নিজের মনকে উপেক্ষা করলে জীবন হেলল হয়ে যায়। কিন্তু যেখানে মন টানে, সেখানে ফোকাস করলে জীবন পূর্ণতা পায়।”
রিয়ান আর কখনও অন্যের কথায় বা সমাজের চাপে জীবন কষ্টের দিকে ঠেলে দেয়নি। সে শিখল, নিজের মনকে শোনার ক্ষমতা হল জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
শেষ শিক্ষা:
নিজের মনকে সবার আগে শুনো।
যেখানে মন টানে, সেই দিকে ফোকাস করো।
অন্যের কথা বা অন্যের প্রত্যাশায় জীবন কাটালে সুখ হারায়।
ধৈর্য্য ধরে চেষ্টা করলে, নিজের পথ আলোকিত হয়।