ক্যাম্পাস-প্রেম(পর্ব -৬)
হুমায়ূন কবীর
প্রেম ভালোবাসা সে তো সুদূর পরাহত। রাশমিন তার ফাইল খুলে কার্ড বের করে আমাকে বলল,রোল নম্বরটা লিখে নেন।
যেন হুকুম। আমিও পকেট থেকে নোটবুক বের করে রোল নম্বর লিখলাম। বললাম, আইসক্রিম খাবে?
রাশমিন- আপনি এত ব্যস্ত হচ্ছেন কেন?
- না এমনি। কেন বাদামের মত আইসক্রিমও খাও না নাকি?
রাশমিন - নেন খাতা বের করেন।
সে মোবাইল নম্বর বলছে, আমি লিখছি। এর মাঝে আমার এলাকার তিনটি ছেলে এসে হাজির হলো। আমি ভয়ে প্রমাদ গুনলাম। এরা নিশ্চয়ই ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে এবং চান্স না পাওয়ার সম্ভাবনা ১০০ ভাগ। তাই আগেভাগেই যোগাযোগ করার জন্য এসেছে। কোন দুই নম্বর লাইন করা যায় কিনা। যা ভাবছি তাই একটা ছেলে খুব কাছে এসে আস্তে আস্তে বলল,ভাই, পরীক্ষা দিয়েছি ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
আমি আস্তে করে বললাম, ঠিক আছে। কিন্তু এখন না। পরে এক সময় হলে এসো। কথা বলা যাবে।
খুব শক্ত এবং করকোশ ভাবে বললাম । যেনো আপাতত আর কোন কথা বলার সুযোগ না পায়। তারা চলে গেল আমি একটু ফেকাসে ভাবে রাশমিনের দিকে তাকালাম। তার দৃষ্টি দেখে কিছু বোঝা গেল না। আমি আবারও একটু হাসার চেষ্টা করে স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করলাম।রাশমিন বলতে লাগলো, আমার এখনো প্র্যাকটিক্যাল বাকি বুঝলেন? যদি এর মাঝে রেজাল্ট দেয়, এই নাম্বারে একটু জানাবেন, পরে এসে আপনার মোবাইল বিল দিয়ে দেব। দয়া করে জানালে ভালো হয়।
রাশমিনের টেলিফোন নাম্বার এবং মোবাইল নাম্বার এখন আমার হাতের মুঠোয়। ইচ্ছে করলে আমি তার সাথে যখন তখন কথা বলতে পারি।
তুষার- রাশমিন, তুমি কি বাড়ি যাবে, না খুলনায়?
রাশমিন- আপনার মাথায় কিছু আছে?
তুষার - কেন?
রাশমিন - আমাদের গ্রামে টেলিফোন আছে? আর আমার পরীক্ষা চলছে না?
তুষার - ও তাইতো।
আমি হার মানলাম। বেশ মজা লাগছে। তার যে শুধু চোখ দুটি অপরূপ তাই না। তার কথা বলার ভিতরেও একটা রিনিঝিনি মিষ্টি সুর আছে। সেই রিনিঝিনি কথা শুধু শুনতে ইচ্ছে করে। আমি বললাম, পরীক্ষা টরীক্ষা দিয়ে তুমি ক্লান্ত হয়ে গেছো। এসো চটপটি খাই।
আমরা টেন্টে বসে আছি। পাশেই চটপটি বিক্রি হচ্ছে। তার ঘ্রাণ মাঝে মাঝে নাকে এসে লাগছে। বেশ ভালো লাগছে। কিন্তু রাশমিন তাতে কাবু হওয়ার লোক না।
সে বলল, আপনি এত খাওয়া খাওয়া করেন কেন? খাওয়া ছাড়া আর কিছু বোঝেন না?
তাইতো, খাওয়া ছাড়া আমি আর কিছু বুঝিনা? আসলে তার সহচর্য পেয়ে এত আহ্লাদিত হয়েছি যে, কিভাবে যে তাকে খুশি করব, ভেবে পাচ্ছিনা। আবার বেশি উচ্ছ্বাস ও প্রকাশ করতে পারছি না। শেষে সব ভেস্তে যায়। ভালোবাসা না হোক সঙ্গ, নিতান্ত সঙ্গ তো পাচ্ছি। এটাই বা কম কি? বেশি বাড়াবাড়ি করলে হয়ত আমছালা দুটোই হারাতে হবে। আমি আপাতত চুপসে যাই।
সে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আপনিতো ক্যাম্পাসেই আছেন। কোন খবর থাকলে জানাবেন।
সময়টা যেন বিদ্যুৎ বেগে স্যাট করে চলে গেল। পার হয়ে গেল।মাত্র ঘন্টাখানেক সে আমাকে সময় দিয়েছে। এখনই বলছে- সে চলে যাবে। আমার মন যে কিছুতেই সাই দিচ্ছে না।মনে মনে ফিকির খুঁজতে লাগলাম। মনে ক্ষীণ আশা নিয়ে, একটি প্রস্তাব পেশ করলামঃ
আমি তাকে বললাম,যদি সাইন্স বিল্ডিং এর সামনে দিয়ে যাও তবে, অল্প রাস্তা হবে। রিক্সা না নিলেও সমস্যা নেই। আর যদি ঘুর পথে যাও, অনেক রাস্তা। সাধারণত তোমরা যে পথে এসে থাকো।ভিতরের রাস্তা তোমার চেনা আছে?
ক্যাম্পাস-প্রেম
হুমায়ূন কবীর
রাশমিন- না।
তুষার -চলো।
সমস্ত ক্যাম্পাস ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকে গমগম করছে। রাস্তায় পা ফেলার ফাঁক নেই। কত মানুষ, নতুন নতুন চেহারা। নতুন নতুন ছাত্র-ছাত্রী। নতুন নতুন ফ্যাশান।ছেলে - মেয়েদের উচ্ছল চলাফেরা। ক্যাম্পাসে একটা উৎসব উৎসব পরিবেশ। ভিড়ের ভিতর দিয়ে আমরা পাশাপাশি হাঁটছি,তার শরীরে মাঝে মাঝে আমার শরীর লেগে যাচ্ছে।কি যে ভালো লাগছে। আমি মাঝে মাঝে তাকে দেখার চেষ্টা করছি। শুধু চোখ দুটি দেখা যাচ্ছে। আর কিছু না।
তুষার - তুমিতো খুলনায় থাকো। বিএল কলেজ তো কাছেই। তাই না?
রাশমিন - হ্যা।