
🌟 কালের যাত্রী 🌟
সৌম্য আচার্য্য
চির বিলীয়মান কালের বালুকা বেলায়,
পদচিহ্ন আঁকে কেহ, কেহ সেতু রচে যায়।
বিচিত্র কর্মযোগে জীবনের স্বার্থকতা,
সৃষ্টির অবক্ষয় এড়ায়ে, রহে স্থায়িত্বের কথা।
স্রষ্টা, রাষ্ট্র, সমাজ—কর্তব্য অপার,
ঋণী মোরা সমাজের, যন্ত্রেতে অংশ কার।
নিজ নিজ ভূমিকা ছাড়া উন্নতি নয়,
শান্তি-সৌহার্দ্য রাখি বাঁচাটাই অভয়।
অন্যের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা, পছন্দ-অপছন্দ,
যে শ্রদ্ধা আমরা চাহি, সে শ্রদ্ধাই দ্বন্দ্ব।
সমাজের প্রতি দায়—দায়িত্ব অসীম,
শিক্ষার লক্ষ্য হোক সেই বোধ মহিম।
রুটি-রোজগারের বিদ্যা চাই, এ তো সত্য মানি,
তবু মনে রাখিবো—খাওয়ার লাগিই কি শুধু প্রাণী?
চুরি, ডাকাতি, অন্যায়-অত্যাচার—দেশে বাড়ে আজ,
রুখে দাঁড়াতে হবে, নিষ্পত্তিই কাজ।
দারিদ্র্য বিরাট সমস্যা, কেন যে না বুঝি,
এ দুরবস্থার লাগি মোরা কদাচিৎ খুঁজি।
পরিশ্রম, ব্যবসা ছাড়ি, উন্নতি না করে,
যোগ্যতা সত্ত্বেও কেহ বঞ্চিত পরে।
সকলের প্রতি সহানুভূতির হাত,
বৃদ্ধ, এতিম, গরীব—এগিয়ে আসুক ভ্রাত।
"সেবাই মনুষ্যকে মহৎ করে তোলে",
অমূল্য এ বাণী যেন হৃদয় কপাট খোলে।
অঠারো টাকায় সিগারেট কিনে আত্ম-ক্ষতি সহে,
পেটে অন্ন নেই—কেহ কষ্টে রহে।
নিজের উপকারের আশা ত্যাগ করো,
মানুষের উপকারে তবেই তুমি সরো।
প্রকৃত মনুষ্য হবে, রঙীন হইবে সৃষ্টি,
কালের সীমানা পেরিয়ে পাবে অমৃত-বৃষ্টি।